সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের স্মরণে…

আজ ৪ জানুয়ারি কথাশিল্পের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্যারের ২৬তম প্রয়াণ দিবস। আমার ভাগ্য যে স্যারের একজন ছাত্র ছিলাম। ১৯৯৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার ফলে স্যারের সাথে আমার অন্যরকম পরিচয় ঘটে যায়। স্যার তখন আমাদের পড়াতেন মাইকেল মধুসূদন এর মেঘনাবধ কাব্য।

ভর্তির পর আমি প্রায় এক বছর ঠিকমত ক্লাসে উপস্থিত ছিলাম না। একদিন স্যারের ক্লাসে (১৯৯৬) উপস্থিত হলে— তিনি খাতা নিয়ে নাম ডাকতেন। রোল ২৩ ডাকতেই আমি উঠে জ্বীর স্যার বলতেই স্যার আমার দিকে তাকিয়ে আবার খাতার দিকে দেখেন, পরপর কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখে বললেন, তুমি এক বছর ক্লাসে আস না। সামনেই পরীক্ষা। তুমি পাস করতে পারবে না। যাও বেরিয়ে যাও। রিএডমিশন নিও।

কোনো কথা না বলে আমি ক্লাস থেকে ৬৩ জনের সামনে বের হয়ে আসি। এসে নিজেকে এতো ছোট মনে হলো যে , আর কলেজে পড়া হবে না আমার। একবার মনে হলো দোতলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যাই। এতো ছেলেদের সামনে কেমন করে বের করে দিলেন!

এদিক-সেদিক পাঁয়চারি করছি। কি করব? বিভাগের পিওন আমাকে বললেন, মামা ঘাবড়াবেন না, স্যার খুব ভাল মানুষ। ক্লাস শেষ হলে স্যার যখন চেম্বারে ফ্রেশ হয়ে বসেন, যখন পাইপ ধরিয়ে টান মারবেন তার কিছুক্ষণ বাদে যেয়ে বলবেন, সার আমি অসুস্থ ছিলাম।

মিথ্যা কথা বলতে হবে ভেবে সাহস করে রিহার্সেল করে নিচ্ছি বারবার। সময় পার হয় না। এক সময় স্যার ক্লাস থেকে বেরিয়ে সোজা নিজের চেম্বারে চলে গেলেন । বাথরুমে যেয়ে হাতমুখ ধুয়ে চেয়ারে বসেন। পানি পান করে পাইপ ধরিয়ে টানছেন। আমি যাব কি যাবো না! পর্দার আড়াল থেকে দেখছি এক পা এগুই তো কয়েক-পা পিছিয়ে যাই। এরকম করতে করতে একসময় ঢুকে গেলাম।

স্যার আমায় দেখে বললেন, কি খবর, কি চাই? আমি বললাম, স্যার আমি তো অসুস্থ ছিলাম অনেকদিন সেকারণে ক্লাস করতে পারিনি।

স্যার বললেন, ক্লাস করোনি সামনেই ফাইনাল! পাস করতে পারবে নাতো! ক্লাসের সারের স্বর আর তখনকার নরম স্বর এক্কেবারে আলাদা।

মুহূর্তেই ভাললাগার বারীন্দ্র ছড়িয়ে যেতে থাকে আমার মনের মধ্যে। চুপচাপ থাকার পর বললেন, বাড়ি কোথায়? আমি বললাম কুষ্টিয়ায়? কুষ্টিয়ায় কোথায়?
বললাম কুমারখালী।

তখন স্যার পাইপের ধোয়া ছেড়ে আবার বললেন, মিলি রহমানকে চেনো?
আমি স্যারের কথার রেশ টেনেই বললাম, চিনি স্যার। উনিও আমাকে চেনেন।
স্যার আবার প্রশ্ন করেন, কীভাবে?
বললাম স্যার, উনি লেখালেখি করেন আমিও করি।
স্যার পাইপের ধোয়ার আড়ালে মুচকি হেসে বললেন, কি লেখো?
বললাম কবিতা।
স্যার বললেন, কাছে আছে?
তখনতো মানিবাগে টাকার বদলে জায়গা করে নিতো বেশ কিছু কবিতা (যা আদৌ কখনো কবিতা হয়নি বোধ হয়। তবু থাকত সযত্নে)। সঙ্গে সঙ্গে পকেটের মানিবাগ থেকে বড় সাইজের একটা কবিতা বের করি।
স্যার বললেন পড়ো।
কাঁপা কাঁপা গলায় স্বর বা সুর বের হয়ে আসতে চায় না। তবুও পড়লাম একটি কবিতা।

ওতোবড়ো মানুষের সামনে কাঁচা লেখার এক পদ্য পড়ে সেদিন পার পেয়েছিলাম সত্যিই!
স্যার এই কবিতা শুনার পর বললেন, যাও ক্লাসে আর কখনো ফাঁকি দেবে না। কবিতা লিখতে হলে তো একাডেমিক যোগ্যতাও থাকা দরকার! না হলে তোমার কথা মানুষ মানবে কেনো?

সেই থেকে স্যারের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর কোনো ক্লাসে উপস্থিত হই বা না হই আর কেউ আমাকে কিছু বলতো না।
পুরো ক্লাসে শুধুই আমিই যা টুকটাক লেখালেখি করি। সেটা চাউরে গেল বলে সবকিছুতেই পার।

স্যারের অল্পদিনের ভালবাসা আমাকে বিদ্যুৎ বেগে টানতে থাকে। স্যারের সাথে আমার কাঙাল হরিনাথের ‘বিজয় বসন্ত’ উপন্যাস নিয়ে কথা হয়েছিল।
আমি বলেছিলাম,
স্যার, 'আলালের ঘরের দুলাল' নয় ‘বিজয় বসন্ত’ই বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
স্যার বলেছিলেন কি প্রমাণ আছে তোমার কাছে?
আমি বললাম আছে স্যার।
স্যার বলেছিলেন, নিয়ে এসো।
এরপর কাঙাল বংশধরদের কাছে কতোবার ধরনা দিয়েও পাইনি বলে স্যারের কাছে উপস্থাপন করতে পারিনি।
সেদিন যদি পারতাম তাহলে স্যার এটা নিশ্চিতভাবে লেখালেখি করে রেকর্ডটা করাতে পারতেন।
তখনো বুঝিনি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্যার কত বড় মাপের, কত বড় গুণী লেখক!

মৃত্যুর পর বুঝেছি। স্যার কে নিয়ে লেখা ‘গড়াইপাড়ের কবিতা (২০০১) সংকলিত কাব্যগ্রন্থে— ‘সাদা কফিনে ইলিয়াস স্যার’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলাম। সেই সান্ত্বনা!

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোটিয়া জেলার গাইবান্ধা গ্রামে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি বগুড়া জেলায়। ম্যাট্রিক পাস করেন বগুড়া জিলা স্কুল থেকে (১৯৫৮) এবং ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ঢাকা কলেজ থেকে (১৯৬০)।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন (১৯৬৪)। তার কর্মজীবন শুরু হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজের বাংলার প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পুরস্কার পেয়েছেন অনেকগুলো। উল্লেখযোগ্য হলো— বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩) এবং একুশে পদক (মরণোত্তর) (১৯৯৯)।

রাজনীতি আমাদের জীবনের একটি প্রধান নিয়ামক হলেও আমাদের সাহিত্যে সরাসরি রাজনৈতিক প্রসঙ্গিক প্রসঙ্গ ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়নি। রাজনীতির সঙ্গে লেখকরা সবসময়ই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ইলিয়াসই প্রথম এতটা সার্থক শিল্পসম্মতভাবে প্রধান দুটি আন্দোলনকে তার দুই উপন্যাসে ধারণ করলেন। চিলেকাঠার সেপাই উপন্যাসে তিনি উপজীব্য করেছেন এ দেশের রাজনীতির পাকিস্তান পর্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আন্দোলন ঊনসত্তরের গণআন্দোলনকে। এটি অবলম্বনে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার শেষ ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস খোয়াবনামার মূল প্রসঙ্গ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জনপদে পাকিস্তান আন্দোলনের প্রভাব। এই উপন্যাসের জন্য তিনি পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার।

মাত্র ২৮ টা গল্প, অল্প কিছু প্রবন্ধ আর ২টি উপন্যাস, সাকুল্যে এই আমাদের সম্পদ। কিন্তু অল্প সংখ্যক লেখা দিয়েই তিনি নিজের স্টাইল দাঁড় করে ফেলেছেন। যে কারণে স্যারের লেখা পড়েই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না এটা কার লেখা।

সমগ্র বাংলাসাহিত্যেরই একজন অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক তিনি। তিনি কখনোই লেখার সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোযোগী ছিলেন না। ভিন্ন আঙ্গিক ও প্রকরণে মনোযোগী এ লেখক তাই খুব বেশি লেখেননি জীবনে। কিন্তু যা লিখেছেন শিল্প-বিচারে তা এখনো বিশ্বমানের, এমনটিই মনে করেন সাহিত্যের বিদগ্ধ সমালোচকরা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বলেছেন, ‘কি পশ্চিম বাংলা, কি বাংলাদেশ সবটা মেলালে তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক।’ লিখেছেন, ‘ইলিয়াস-এর পায়ের নখের তুল্য কিছু লিখতে পারলে আমি ধন্য হতাম।’

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক। একজন স্বল্পপ্রজ লেখক। দু’টি মাত্র উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) ও খোয়াবনামা (১৯৯৬) বাংলা সাহিত্যে তার অক্ষয় আসনটি নির্মাণ করে দিয়েছে।

আরএ/

Header Ad
Header Ad

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর আত্রাইয়ে সন্ধ্যার আকাশ থেকে বিরল আকৃতির শীলা এবং হালকা বৃষ্টি হয়েছে,যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ শুরু হওয়া শীলাবৃষ্টির সঙ্গে মিশে ছিল ছোট ছোট বরফখণ্ড (শীলা), যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে আত্রাইয়ের সাহেবগঞ্জ,পাঁচুপুর ও আহসানগঞ্জ এলাকায় পরিলক্ষিত হয়।

অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, বিশেষ করে শীলার আঘাতে টিনের ছাদে তীব্র শব্দে স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শীলাবৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারণত মৌসুম পরিবর্তনের সময় তীব্র গরমে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে জলীয় বাষ্প জমে বরফে পরিণত হয়ে ভারী হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে,আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগামী কয়েকদিনে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে,তবে শীলা আবার হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা সোমবার (৭ এপ্রিল) ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং এ ঘটনার বিরুদ্ধে সমবেদনা জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলন’-এর দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের দেশের প্রতিটি বিভাগে এই কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘MARCH For Palestine’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রনেতা এ বি জোবায়ের লিখেছেন, “আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা আগামীকাল বিশ্বব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছেন। তারা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে একযোগে বিশ্বের সব দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশেও আমরা ৭ এপ্রিল সারাদিনের জেনারেল স্ট্রাইক পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীকাল সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখুন। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করুন। আসুন, বৈশ্বিক প্রতিবাদের অংশ হই। আওয়াজ তুলুন—Free, Free Palestine।”

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে বলেন, “ইয়া গামযাহ! তোমাদের শাহাদাত ও লড়াইয়ের প্রতি আমাদের গভীর সংহতি। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আমরা তোমাদের সংগ্রামে সরাসরি অংশ নেবো। গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হিসেবে ৭ এপ্রিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাই।”

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, “‘MARCH For Palestine’-এর আহ্বানে আগামীকাল দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে রাজু ভাস্কর্যে বিকেল ৪টায় সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে ৭ এপ্রিল ফিলিস্তিনের পক্ষে হরতাল পালিত হবে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তাই সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমাদেরও রাজপথে নামতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে। একটিও জীবন যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়—এই চেতনাতেই আমাদের কর্মসূচি।”

Header Ad
Header Ad

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে একটি বিয়েবাড়ির গেটে বরপক্ষে প্রবেশের সময় পার্টি স্প্রে ছেটানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে কনে পক্ষের অনুরোধ সত্ত্বেও ফিরে গেছে বরপক্ষ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে কনের বাবা সামেদ মাতুব্বর ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, তিন মাস আগে মোবাইলে সামেদ মাতুব্বরের মেয়ে বর্ণা আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার চরব্রহ্মনদী ভেন্নতুলী গ্রামের তৈয়ব মোল্লার ছেলে প্রবাসী নাঈম মোল্লার বিয়ে হয়। দুপক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য দিন ধার্য করে।

মেয়ের বাড়িতে ১৩০ জন মেহমানের খাবার আয়োজন করা হয়। ছেলে পক্ষ এলে মেয়ের বাড়ির লোকেরা ছেলেকে গেটে আটকায়। সেখানে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে কনের বাবাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে নববধূকে না নিয়েই ফিরে যান জামাই।

মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর বলেন, গেটে দুপক্ষের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্প্রে করছিল। এর মধ্যে দুপক্ষের ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ও খাবার নষ্ট করা হয়। বরপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু তারা মেয়েকে না নিয়ে চলে যায়।

বর নাঈম মোল্লা বলেন, ছয় বছর প্রবাস জীবন খেটে বিয়ে করার জন্য এসেছি বাংলাদেশে। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। আমার এক চাচাকে কনেপক্ষরা মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে আমাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি তাদের হেফাজতে আমাদেরকে পার করে দিয়েছে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক
বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ছাত্রদলের নিন্দা ও কর্মসূচি ঘোষণা
দপ্তর হারালেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব নিজাম উদ্দিন
বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমোদন পেল স্টারলিংক
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব
দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়নে এডিবির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন
ফেসবুকে নির্বাচনের কথা লিখলে সংঘবদ্ধ গালি শুরু হয়ে যাচ্ছে: ইশরাক
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না: অর্থ উপদেষ্টা
বিদেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বুধবার
এসএসএফের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, ৩৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
আওয়ামীপন্থি ৮৪ আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ, ৯ জনের জামিন
গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে সোমবার দেশবাসীকে রাজপথে নামার আহ্বান সারজিসের
ইতিহাস সৃষ্টি করে মার্চে এলো ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
দুদকের সাবেক অ্যাম্বাসেডর থেকে আসামি হতে যাচ্ছেন সাকিব!
গাজায় ইসরায়েলি মিসাইলের আঘাতে মরদেহ উড়ছে আকাশে! (ভিডিও)
মা হারালেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ
‘দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারেননি বলেই টিউলিপ পদত্যাগ করেছেন’