শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বঙ্গমাতা ব্যতীত মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস অসম্পূর্ণ

টুঙ্গিপাড়ার ছোট্ট খোকার জাতির জনক হয়ে ওঠা এবং বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনে সাফল্য পাওয়ার নেপথ্যে যে নারী জাদুর কাঠির মতো কাজ করে গেছেন তিনিই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। বাঙালির হৃদয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার আরেক নাম বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।তিনি প্রেরণা, শক্তি আর সাহসের উৎস হয়ে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিলেন।বাংলার মুক্তিসংগ্রামের মহানায়কের প্রেরণাদাত্রী সহধর্মিণীর আজ ৯২ তম জন্মবার্ষিকী।

বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ জহুরুল হক এবং মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর শেখ ফজিলাতুন্নেছা বেড়ে ওঠেন দাদা শেখ কাশেমের কাছে। মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন তার চাচি এবং পরবর্তী সময়ে শাশুড়ি বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুন। পিতার অভাব বুঝতে দেননি বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফুর রহমান। তাদের আদরেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। নিজের সন্তানদের সঙ্গে শৈশবে শেখ ফজিলাতুন্নেছাকেও ভর্তি করে দেন স্থানীয় মিশনারি স্কুলে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আর এগোয়নি। তবে ঘরে বসেই পড়াশোনা করেছেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সের শেখ মুজিবের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ে হলেও বঙ্গবন্ধু এন্ট্রান্স পাস করার পরই মূলত তাদের সংসার জীবন শুরু হয়। তাদের বিয়ের ফুলশয্যা হয়েছিল ১৯৪২ সালে।

বেগম মুজিব ছিলেন একজন ন্যায়, ধর্মপরায়ণ, আদর্শবান, পরোপকারী ও সরল মনের মানুষ। দাম্ভিকতা কিংবা অহংকার তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ যেমন অভিন্ন সত্ত্বা ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবও যেন একই আত্মা। জাতির পিতার জীবনে বঙ্গমাতার প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বেগম মুজিব মনেপ্রাণে একজন সর্বংসহা আদর্শ বাঙালি নারী। জীবনে নিয়েছেন ঝুঁকি, পোহাতে হয়েছে কষ্ট- দুর্ভোগ। বঙ্গবন্ধু জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। কখনো কারাগারে, কখনো  দেশে বা  দেশের বাহিরে। ফলশ্রুতিতে প্রিয়তম স্বামীকে কাছে না পেয়ে বঙ্গজননী কখনো বিচলিত না হয়ে বরং ধৈর্যশীল বাঙালি নারী হয়ে সন্তান ও পরিবারকে সামাল দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর লেখক হওয়ার উৎস ও অনুপ্রেরণাও বঙ্গমাতা নিজে। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম দলিল হিসেবে  " অসমাপ্ত আত্মজীবনী " এবং  " কারাগারের রোজনামচা " গ্রন্থ দুইটি আমরা পেয়েছি তাঁরই উৎসাহ ও উদ্দীপনায়। "অসমাপ্ত আত্মজীবনী"র শুরুতে সেই বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত আমরা পেয়ে থাকি। "আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বললো, বসেই তো আছো, লেখো তোমার জীবনের কাহিনী"।

দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধে অবিচল এক মা বঙ্গমাতা শেখ মুজিব। কারাবরণ ও রাজনৈতিক কারণে জাতির পিতা সংসারের দেখভাল করতে না পারাটা বেগম মুজিবের কাছে কখনো দৃষ্টিকটু ছিল না বরং স্বামীকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। স্বামীর বন্দিকালে সংসারের ভার বহন করেছেন, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের। অগণিত কর্মীর খোঁজ রেখেছেন, যাদের বাড়িতে খাবার ছিল না তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। সত্যিকারের মায়ের মত পরম যত্নে মমতার আঁচলে সবাইকে এভাবেই আগলে রাখতেন।

বঙ্গমাতার অন্যতম একটি শখ বই পড়া। বঙ্গবন্ধু যখন রাজনৈতিক কারণে  বাহিরে বাহিরে থাকতেন তখন সাংসারিক কাজের অবসরে  তিনি শরৎ,নজরুল, বিভূতিভূষণ প্রমুখকে পড়তেন। গানও শুনতেন। স্বামী বাড়িতে ফিরলে পঠিত বইয়ের বিষয়বস্তু  নিয়ে আলোচনা করতেন।

শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেবল একজন মা- ই নন পিতাও বটে। স্বামীর জেলে থাকাকালীন সন্তানদের পিতৃস্নেহ দিয়েছেন তিনি। কখনোই পিতার অভাব সন্তানদের বুঝতে দেননি। পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর উপর জেল- জুলুম, মামলা অব্যাহত রেখেছিল, নিজের ঘরের আসবাবপত্র, অলংকার বিক্রি করে সংসার এমনকি সংগঠন ও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বঙ্গমাতা। আমেরিকা থেকে আনা ফ্রিজটিও সেদিন বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। সংসারে টাকার অভাব ছিল সেটা সন্তানদের বুঝতে না দিয়ে বরং তাদের বলেছিলেন- "ঠাণ্ডা পানি খেলে সর্দি- কাশি হয়, গলা ব্যথা হয়, ঠাণ্ডা পানি খাওয়া ঠিক না। কাজেই এটা বিক্রি করে দিই "। সংসারের অভাব অনটনের কথা তাঁর মুখে কখনো শোনা যায়নি। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পর্বতের ন্যায় অবিচল ছিলেন বঙ্গমাতা।

বাঙালির ত্যাগ, সংগ্রাম ও অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জাতির পিতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দুটি জিনিসকে প্রধান শক্তি হিসেবে মানতেন। একটি এদেশের স্বাধীনতাকামী জনতা অপরটি প্রিয়তমা স্ত্রী বেগম মুজিব।

বঙ্গমাতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশি না হলেও তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, জ্ঞানী ও বিচক্ষণতা সম্পন্না নারী ছিলেন। যা খুব ভালো করেই জানতেন বঙ্গবন্ধু। লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু বঙ্গমাতা প্যারোলে মুক্তি মানতে নারাজ। এমনকি এতে কঠোর আপত্তিও জানিয়েছিলেন। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সেদিন বঙ্গমাতা পূর্ববাংলার আন্দোলনের গতি দেখে ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন - বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তিই হবে। আর সেটাই হয়েছিল। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুসহ সবাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। ঠিক পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি শেখ মুজিবকে  " বঙ্গবন্ধু " উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

বাংলাদেশের প্রথম ফার্স্টলেডি হয়েও জীবন যাপন করেছেন অতি সাধারণ নারীর মতো। একজন মন্ত্রীর স্ত্রী হয়েও বিলাসিতাপূর্ণ আড়ম্বর জীবন অতিবাহিত না করে সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন। দামি শাড়ি, গহনা, অলংকার এগুলোর প্রতি তাঁর কখনো লোভ ছিল না। স্বামীর কাছে চাওয়া বা দাবি করতেন না। এবিএম মূসার এক কলামে ৩২ নম্বরের ঐ বাড়ির সেই বঙ্গজননীর সাদামাটা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে এভাবে- "বঙ্গবন্ধু যখন দেশের প্রেসিডেন্ট তখন একদিন তার বাড়িতে গেলাম তার সঙ্গে দেখা করতে।ভাবি পানের থালাটা হাতে নিয়ে সামনে এলেন। পান বানিয়ে একখানা আমার দিকে দিলেন। আর একখানা নিজে মুখে দিলেন"।

বঙ্গমাতা কখনো মিডিয়া কিংবা পত্র-পত্রিকায় এমনকি খবরেও আসতে চাইতেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাহিরের কোনো অনুষ্ঠানেও যেতে পছন্দ করতেন না।  কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য বঙ্গপিতাকে উৎসাহ, শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। বেগম মুজিব আসলেই বাঙালি জাতির মাতা, যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও একজন অতি সাধারণ নারী। ভিনদেশী মেহমানরাও বঙ্গমাতার এই রূপ দেখে মুগ্ধ।

উত্তাল মার্চে ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুকে  তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিতে হবে। ইতোমধ্যে বাড়িতে অনেকেই এসেছে। এ বলছে এটা বলতে হবে, ও বলছে না এটা বলতে হবে। এসব শুনে জাতির পিতা বিচলিত। কারটা শুনবে, আর কারটা বলবে এটা ভেবে চিন্তিত । কিন্তু সেদিন শান্তির দূত হয়ে বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে আলাদা ঘরে নিয়ে, ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে বললেন। বঙ্গমাতা বললেন - " অনেকেই অনেক কথা বলবে। তুমি সারা জীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছ, তুমি জেল খেটেছ।তুমি জান কী বলতে হবে? তোমার মনে যে কথা আসবে সে কথাই বলবা "। তিনি আরও বলেছিলেন,  " মনে রেখো- তোমার সামনে আছে জনতা, এবং পিছনে বুলেট। তোমার মন যা চাইছে তুমি শুধু সেটাই আজ করবে "। সেদিন প্রিয়তমা স্ত্রীর কথাই মন দিয়ে শোনেন এবং উজ্জীবিত জনসমুদ্রে তর্জনী উঁচিয়ে ঘোষণা দেন,  " এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম- আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ;"। স্বাধীনতাকামী বাঙালি ভাষণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মুক্তির নেশায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত মুক্তি লাভ করে।

রাজনীতির দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে মানবিক নারীর সহযোগিতা প্রদানে শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ভূমিকা সত্যিই ব্যতিক্রম। মেয়েদের আত্মমর্যাদাশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান বঙ্গমাতার। মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে নিজের বাড়িতে স্কুল খুলেছেন, মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি স্বাধীনতার পর বীরাঙ্গনাদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। বীরাঙ্গনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, " আমি তোমাদের মা "তিনি আরও বলেন, " এই বীরাঙ্গনা রমণীদের জন্য জাতি গর্বিত। তাদের লজ্জা কিংবা গ্লানিবোধের কোনো কারণ নেই। কেননা তারাই প্রথম প্রমাণ করেছেন যে কেবল বাংলাদেশের ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও আত্মমর্যাদাবোধে কী অসম্ভব বলীয়ান "। ( দৈনিক বাংলার বাণী, ১৭ ফাল্গুন ১৩৭৯ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ককে আড়াল থেকে সাহস ও প্রেরণাদাত্রী  বেগম মুজিব ৭১ - এ নিজের ডানার আড়ালে সন্তানদের আগলে রেখে নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন। সন্তানদের বলতেন,  "কতবার কত দুর্দশায় পড়েছি,এবার না হয় একটু বেশি কষ্ট হবে "।

বঙ্গজননী প্রিয়তম স্বামীকে আমৃত্যু ভালোবাসতেন। সে ভালোবাসা কতটা হৃদয়াঙ্গম ছিল সে চিত্র ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যারকালে নিদারুণ ভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বঙ্গমাতা সেদিন সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে ঘাতকদের বলেছিলেন, "তোমরা আমাকে এখানেই মেরে ফেল "। শুধু জীবদ্দশায় না বরং মরণাকলেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী হয়েছেন মহীয়সী এই নারী।

রাজনীতির কবি, ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাফল্যের মূলে বেগম মুজিবের অবদান সত্যিই ক্যারিশম্যাটিক ও  একই সঙ্গে মুজিব এবং বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ছিল। রাজনীতি ও সংগঠন চালাতে অর্থের প্রয়োজন। তা সাধ্যমত বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে জোগাড় করে দিতেন। নিজের হাত খরচের টাকা কিংবা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত টাকা স্বামীকে দিতেন। যা ’ অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ তে বঙ্গবন্ধু লিখে গেছেন। " রেণু খুব কষ্ট করত, কিন্তু কিছুই বলত না, নিজে কষ্ট করে আমার জন্য টাকা-পয়সা জোগাড় করে রাখত যাতে আমার কষ্ট না হয় "।  

মামলার বিষয়ে কোর্টে গেছেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন, পরিবারের ভার বহন করেছেন। নেতা- কর্মীদের দেখভাল করেছেন।একজন দক্ষ ও নীরব সংগঠক হয়ে বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর নিভৃত সম্রাজ্যের একমাত্র সম্রাজ্ঞী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিন ছেলে, দুই পুত্রবধূ, আত্মীয়-স্বজনসহ সেনাবাহিনীর বিপথগামী  কিছু দুষ্কৃতকারীর বুলেটের আঘাতে তিনি শাহাদতবরণ করেন। বঙ্গমাতা  আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে  প্রতিটি দেশপ্রেমিক জনতার হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি চিরকাল  থাকবেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাঁর দেশপ্রেম ও আদর্শ অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক: মো. আহসান হাবিব, তরুণ কলামিস্ট, সদস্য, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম ও সাবেক শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 
 
Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো