আগামী ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের লে-অফ হওয়া প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হবে। এ পরিশোধে সরকারকে ব্যয় করতে হবে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বেক্সিমকো শিল্প পার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় তহবিলের বিভিন্ন হিসাব থেকে আরও ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। বেক্সিমকো গ্রুপের পাওনাদারদের মধ্যে শ্রমিক রয়েছেন ৩১ হাজার ৬৭৯ জন এবং কর্মচারী ১ হাজার ৫৬৫ জন।
বেক্সিমকো শিল্প পার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ছয় সদস্যের এই কমিটিতে আরও থাকবেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধিরা, পাশাপাশি বেক্সিমকো লিমিটেডের রিসিভারও থাকবেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
শ্রম উপদেষ্টা আরও জানান, ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রমিক ও কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া, ২০০৮-২০২৪ সালের মধ্যে জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো শিল্প পার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা, ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা, কোম্পানি বোর্ডের সদস্যরা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, ঋণ প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ১৩ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এ সময় তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও পুত্রবধূ শাজরেহ রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়।
প্রথমদিকে, বেক্সিমকো গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে শেয়ার বিক্রিতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়।