তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন

ছবি: সংগৃহীত
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক সফর বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পাশাপাশি একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্পে চীনের ইতিবাচক সাড়া দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
রোববার (৩০ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, "চীন বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়েও তারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।"
এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৬ মার্চ চার দিনের সরকারি সফরে চীনে পৌঁছান। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি এবং আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া, তিনি চীনের হাইনানে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফরের অংশ হিসেবে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
ড. ইউনূসের এ সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সফরের এক পর্যায়ে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এ সম্মান গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন, যা তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবন ও সামাজিক ব্যবসার প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চীনের ইতিবাচক মনোভাব ভবিষ্যতে এ প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
