শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ আইন

এমপিরা বললেন রক্তক্ষরণের আইন, মন্ত্রী বললেন বাস্তবসম্মত

পৌর পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে আইন পাস করেছে সংসদ। এ আইনের চরম বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তারা বলেছেন, এ আইন সংবিধানের মূল স্প্রিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি এটি জনপ্রতিনিধিদের রক্তক্ষরণের আইন। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, এ আইন যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত। প্রশাসক নিয়োগ অতিব যুক্তিসঙ্গত।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সেই অধিবেশনে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২২ পাসের প্রস্তাব তোলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। বিলে জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাব তুলে ধরে এ আইনের চরম বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় এমপিরা।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নির্বাচিতদের বড় অংশের কাছ জনগণ সঠিক সেবা পাচ্ছে না। বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে যে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে, আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যারা দায়িত্বে আছে তারা বলছে আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন তারা কার্ড পাবেন, যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারাও বলছেন যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তারা কার্ড পাবে, সাধারণ মানুষ সাংঘাতিক বিপর্যস্ত। এরকম একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ৫০ বছর‌ পর প্রত্যাশা করিনি।’

আইনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘এ আইনের কী প্রয়োজনীয়তা ছিল? এ আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে আছে প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। ‌স্থানীয় সরকার সমূহের নির্বাচনের মেয়াদ যদি শেষ হয়ে যায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করার দায়িত্ব সরকারের। সুতরাং সরকার যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করতে না পারে এর জন্য দায়ী সরকার। সরকার যদি নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন না করতে পেরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে প্রশাসক বা সরকারদলীয় লোকদের বসালে অশুভ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এটি একটি বাকশালী সিস্টেম তৈরি করার জন্য নতুন উদ্যোগ।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জেলাপ্রশাসক ও ইউএনওরা আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচি পালন করছে। জনসাধারণকে সেসব কর্মসূচীতে অংশ নিতে বাধ্য করছে। সুতরাং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে যারা ভিন্নমতের লোক রয়েছে কমিশনার ও চেয়ারম্যান তারা যদি সেসব কর্মসূচীতে না যান তাহলে তাদের আপনি বহিষ্কার করবেন। এ পরিষদ থেকে সরিয়ে দেবে সেই বিধান রাখা হয়েছে আইনে।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনবরত প্রশাসকদের বসার ব্যবস্থা করছে। ‌সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি বসার কথা সেখানে কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তি সেই জায়গায় বসতে পারবেন না। এটি সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। পৌরসভাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা নির্বাচিত হবে। এখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিকে আমরা কেন বসাব? মামলার জুজু দেখিয়ে, মামলার ভয় দেখিয়ে প্রশাসক বসান। প্রশাসক হিসেবে ব্যক্তিরও বসার সুযোগ রাখা হচ্ছে আইনে। যে ব্যক্তি বসবেন তিনিও তো ইচ্ছা করলেই তার স্থান ধরে রাখার জন্য মামলা করে আরও দীর্ঘায়িত করবেন।’

রওশন আরা মান্নান বলেন, ‘একবার প্রশাসক বসলে পরে আর তাকে সেখান থেকে সরান যায় না, সেজন্য প্রশাসক বসাতে একটু চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।’

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কতগুলো পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন করা খুব জটিল বিষয় না, মন্ত্রী চাইলে এটা করা সম্ভব। এ জন্য আইন করার দরকার ছিল না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দিয়েই স্থানীয় সরকার চালাতে হবে এর কোনো বিকল্প করার সুযোগ সংবিধান দেয়নি। নির্বাচন না হলে কী হবে, নির্বাচন হবে না কেন? দেশে কী জরুরি অবস্থা চলছে? সারা জীবন এ সরকার যেখানে অনির্বাচিত ব্যবস্থাকে সমালোচনা করে আসছে, আর এ আইনের মধ্যে তা আমন্ত্রণ করা হচ্ছে, সুযোগ রেখে দেওয়া হচ্ছে। ব্যুরোক্র্যাট মার্শাল ল' অথবা আমলাতন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা জনপ্রতিনিধিদের রক্তক্ষরণের আইন হবে। ‌ সব নষ্টদের দখলে চলে যাচ্ছে। সব আমলাদের দখলে চলে যাচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতায় আইনটি হচ্ছে। ‌এ আইন পাস করলে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ’

তাদের এ বক্তব্যের জবাবে বিরোধিতা করে প্রশাসক নিয়োগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয় তখন আইনানুগ অথবা আইন বহির্ভুত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তখন সেখানে নির্বাচন করাটা আইনগত জটিলতা থাকে। এ সুযোগটা আমাদের কেউ কেউ হয়তো নিয়ে থাকেন। সেকারণে প্রশাসক নিয়োগ করাটা অতিব জরুরি। প্রশাসক নিয়োগ করার পর স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন হবে, নির্বাচন তার অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বাস্তবতাটা আমার মনে হয় ঠিক আছে।’

এসএম/এসএন

Header Ad
Header Ad

নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই নেতা

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর তরুণদের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে দুটি সংগঠন গঠিত হয়। সেই দুই সংগঠনের সমন্বয়েই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (National Citizens Party - NCP)। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন মো. নাহিদ ইসলাম, যিনি সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলের সদস্যসচিব হচ্ছেন আখতার হোসেন।

নতুন দলে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ এবং দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত। এছাড়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে একজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার (নিভা), মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম।

Header Ad
Header Ad

সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ ও আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রত্যেক শহীদ পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা ও মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া শহীদ পরিবারের সক্ষম সদস্যরা সরকারি ও আধাসরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন।

সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিরা তিন শ্রেণিতে আর্থিক, চিকিৎসা, পুনর্বাসনসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এ লক্ষ্যে তাদের নামের তালিকাও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ৯ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ৮৩৪ জন জুলাই শহীদের তালিকা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। জুলাই শহীদ পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা পাবেন। এছাড়া শহীদ পরিবারকে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আহতরা তিনটি মেডিকেল ক্যাটাগরি—এ, ক্যাটাগরি বি ও ক্যাটাগরি সি অনুযায়ী সুবিধাদি পাবেন। তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে এবং পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন।

এ ক্যাটাগরিতে (অতি-গুরুতর আহত) ৪৯৩ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে; যারা চিকিৎসার পরও শারীরিক অসামর্থ্যতার কারণে অন্যের সহায়তা ছাড়া জীবন যাপনে অক্ষম। তাদের এককালীন পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) দুই লাখ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন তারা। উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে দেশি-বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাবেন। কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন, বলেন তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, বি ক্যাটাগরিতে (গুরুতর আহত) ৯০৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যারা পর্যাপ্ত চিকিৎসার পর শারীরিক অসামর্থ্যতার কারণে অন্যের আংশিক সহায়তায় জীবনযাপনে সক্ষম হবেন বলে প্রতীয়মান। গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের এককালীন তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) এক লাখ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। তারা প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এছাড়া কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি অথবা আধা-সরকারি কর্মসংস্থান পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সি ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ৬৪৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যারা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। তাদের এককালীন এক লাখ টাকা, মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা ও পুনর্বাসন সুবিধা দেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে প্রথমবার ‘বই বিনিময়’ সংগ্রহ করা যাচ্ছে প্রিয় লেখকের পছন্দের বই

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টেবিলে থরে থরে সাজানো বই। কেউ জমা দিচ্ছেন, কেউ নিচ্ছেন। পড়া শেষে বাসার সেলফে পড়ে থাকা বই দিয়েও নিচ্ছেন আরেকটি পছন্দের বই। সংগ্রহ করা যাচ্ছে প্রিয় লেখকের প্রিয় বইটি। সঙ্গে আছে একাডেমিক ও ম্যাগাজিন সেকশন থেকে অফুরন্ত বই বিনিময়ের সুযোগ। কেবল বই দিয়েই বই বিনিময়, পুরো দিনটিই ছিল বই বিনিময়ের।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা বিকাল ৫ টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে টাঙ্গাইলে এই প্রথমবারের মতো ‘বই বিনিময়’ উৎসবের আয়োজন করে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’ নামের একটি সংগঠন।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

উৎসব শুরুর পর থেকেই ব্যতিক্রমী এ বই বিনিময়ে বইপ্রেমী তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের শুরুতেই কুরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। 

এতে অতিথি ছিলেন- লেখক ও গবেষক অধ্যাপক বাদল মাহমুদ, লেখক ও গবেষক ড. আলী রেজা, অধ্যাপক আলীম আল রাজী ও প্রাবন্ধিক জহুরুল হক বুলবুল প্রমুখ।

‘বই হোক বিনিময়, বই জীবনের কথা কয়' - জানা যায়, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বইকে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলা ও বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বই বিনিময় উৎসবটি। উৎসবে ছিল বইয়ের ৬টি স্টল এবং ২টি রেজিস্ট্রেশন বুথ। ছয়টি স্টলে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই বিনামূল্যে বিনিময় করা হয়েছে। জানা যায়, উৎসবের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয় এক হাজারের বেশি বই। সারা দিন প্রায় তিন হাজার বই বিনিময় হয়। 

এছাড়াও উৎসবে উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্পগ্রন্থসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় সহস্রাধিক বই টেবিলে সাজিয়ে রেখেছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। বইগুলোর পরিবর্তে পাঠকরা তাদের ঘরে পড়ে থাকা বা সাজিয়ে রাখা বইটি বদলে অপঠিত বই নিয়েছেন, এটাই হচ্ছে বই বিনিময়। শিক্ষা ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এমন বইয়ের খোঁজও করেছেন অনেকে। হাজারো বইয়ের ভিড়ে পছন্দের বইটি খুঁজে পেতে একজন বইপ্রেমীর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখকসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিবা রহমান বই বিনিময় করতে এসে বলেন, ‘ছোট থেকেই বই পড়তে ভালো লাগে। তাই আমার কাছে থাকা বই পড়া শেষে নতুন বই পড়ার আগ্রহ থেকে বই বিনিময় করতে এসেছি। এই উদ্যোগটা অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং আমাদের মতো পাঠকেরা খুব উপকৃত হয়।’

সরকারি সা’দত কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন ‘আমার বন্ধু ফেসবুকের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বই বিনিময় উৎসবে। তাই ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি অনুষ্ঠান দেখতে। এটা ব্যতিক্রম আয়োজন, খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে ’।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘পড়া বই ঘরে না রেখে নতুন কিছু জানার আশায় বই বিনিময় করতে পেরে ভালো লাগছে। কারণ এতে নতুন বই পড়তে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে না। এরকম আয়োজন আরো হওয়া প্রয়োজন’।

বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও বই বিনিময় উৎসবের আয়োজক কামরুজ্জামান বলেন, বইকে পাঠকের কাছে সহজ করতে আমাদের এই উদ্যোগ যা থেকে নতুন প্রজন্মের পাঠক তৈরি হবে। এতে তরুণ ও কিশোররা স্মার্টফোন বিমুখ হয়ে বই পড়ার দিকে ধাবিত হবে। তাছাড়া অর্থ ব্যয় করে নতুন বই কেনার চেয়ে পুরোনো বই বিনিময়ের এই উৎসব পাঠের অভ্যাস বাড়াবে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুধীজনরা।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই নেতা
সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা
টাঙ্গাইলে প্রথমবার ‘বই বিনিময়’ সংগ্রহ করা যাচ্ছে প্রিয় লেখকের পছন্দের বই
বর্তমান সংবিধান ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান গ্রহণযোগ্য নয়: ড. কামাল হোসেন
জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ ১০টি পদ চূড়ান্ত, থাকছেন যারা
দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসছেন ছাত্র-জনতা
সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ, ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপে থাকবে না বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ নিতে চায় চীন
ভারতে পাচারকালে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে আড়াই কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ
ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুল ইসলামসহ ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেফতার
নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও জাপা বাদে সব দল আমন্ত্রিত
চুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি সাগরময় আচার্য আটক
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেন জেদনী
বিধ্বস্ত গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ১৭ লাশ উদ্ধার
মধ্যরাতে শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজারে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই সব দোকান
‘জাতীয় নাগরিক পার্টির’ আত্মপ্রকাশ আজ, ৩ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা
মিয়ানমারে আটক ২৯ জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন
নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে ২ নেতার পদত্যাগ
রাত পোহালেই বিএনপির নওগাঁ সদর ও পৌরসভা ভোট