শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

স্মৃতিই হয়ে গেলেন পীর ভাই...

পীর হাবিবুর রহমান

ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউ। দরজা বন্ধ। ভেতরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা পীর হাবিবুর রহমানের শরীর থেকে সমস্ত যন্ত্রপাতি সরাচ্ছেন। যা দিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা পীর হাবিবুর রহমান এতক্ষণ বেঁচে ছিলেন।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকের ঘটনা এটি।

এর কিছুক্ষণ পর রুমের ভেতর থেকে সাদা কাফনে মোড়ানো পীর ভাইয়ের নিথর দেহ ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হল লিফটের দিকে। আমরা ছুটলাম পিছু পিছু। সোজা ল্যাবএইড হাসপাতালের পুরনো ভবনের বেজমেন্টে। সেখানে লাশবাহী গাড়িতে ট্রলিটি উঠানো হল।

পীর ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে তার বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী,দীর্ঘদিনের সহকর্মী, নিজ এলাকার মানুষ, কাছের দূরের সব স্বজনরা জড়ো হয়েছিলেন ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব মোড়ের হাসপাতালটিতে। সংবাদকর্মী আর টেলিভিশন ক্যামেরার উপস্থিতি ছিল চির বিদায় নেওয়া পীর ভাইয়ের শেষ শব যাত্রার চিত্র ধারণ করার জন্য।

লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ীর ছোট দরজাটি খোলা রাখা হয়েছিল, সবাই যেন এক নজর দেখতে পারেন প্রিয় মানুষটিকে। কিন্তু সাদা কাপড়ে মোড়ানো পীর ভাইয়ের মরদেহ দেখা গেলেও মুখ দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও স্বজন আর শুভাকাঙ্খীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল সেই স্বচ্ছ গ্লাসের উপরে।

সন্ধ্যার আকাশে সূর্য ডুবো ডুবো। এর মধ্যেই লাশবাহী গাড়িটি পীর ভাইকে নিয়ে বের হয়ে গেল হাসপাতালে বেসমেন্ট থেকে। গন্তব্য উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের বাসা। সেখানে শনিবার বাদ এশা প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। রাতভর সেখানেই ছিল মরদেহটি।

রবিবার শীতের সকাল। ঢাকার আকাশে ঝকঝকে রোদ। উত্তরা থেকে রওয়ানা হয়ে শব যাত্রাটি সকাল ১১টার কিছু পর পৌঁছালো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। উদ্দেশ্য এই বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকের শেষ যাত্রায় যেন তার ভক্ত, অনুসারী, দীর্ঘদিনের সহকর্মী আর পরিচিতজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

একঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে রাখা হয়েছিল কফিন বন্দি মরদেহটি। ফুলে ফুলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত পীর হাবিবুর রহমানের শব বাহী বাহনটি এবার চলে এলো তার দীর্ঘদিনের আড্ডাস্থল জাতীয় প্রেসক্লাবে।

এখানে দ্বিতীয় নামাজের জানাজা শেষে নিয়ে যাওয়া হল রিপোর্টারদের প্রাণের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে। সেখানে জানাজা ও শ্রদ্ধা জানানো শেষে তৃতীয় জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার সর্বশেষ কর্মস্থলে।

সেখান থেকে বিকেলেই শববাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রওয়ানা হল সেই মাটির উদ্দেশে, যেখানে তার নাড়ি পোঁতা, তার (পীর হাবিব) ভাষায় জল-জোছনার শহর, কবিতার শহর, শান্তির শহর, হাওর কন্যা সুনামগঞ্জে।

সোমবার দু’দফা জানাজা শেষে এবং প্রিয় মানুষটির প্রতি সুনামগঞ্জবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে সমাহিত করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশে।

সুনামগঞ্জ যাওয়ার আগে পথে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেটের সবস্তরের প্রতিনিধিরা।


আর কখনো পীর হাবিব ফিরবেন না ইট পাথরের এই শহরে। আর কখনোই মানুষের কথা লিখবেন না। মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনবেন না। তার কলম দিয়ে আর কখনোই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বের হবে না। তার ভক্ত পাঠককুল আর কখনোই তার লেখার কোনো আলোচনা কিংবা সমালোচনা করবেন না, করতে পারবেন না। তার পুরোনো লেখা আর স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরেই ভক্ত পাঠককুলকে পার করতে হবে বাকিটা সময়, খুঁজতে হবে শান্তনা। প্রিয় বন্ধু-বান্ধব স্বজন প্রতিবেশী কিংবা সহকর্মীর ডাকে সাড়া দেবেন না। দেখাও দেবেন না। এই শহরে তার শূন্যতা দীর্ঘদিন অনুভব হবে।


পীর ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক অনেক মধুর মধুর স্মৃতি আছে। তার আগে বলে রাখি, পীর ভাইয়ের নামের সঙ্গে মফস্বল থেকেই পরিচিত। কিন্তু সামনাসামনি কখনোই দেখা হয়নি। ঢাকায় মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও দেখা বা পরিচয় কোনটাই হয়নি।

২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে যোগ দিলাম দৈনিক যুগান্তরে। তখনই পীর ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। প্রথম পরিচয়েই বুকে জড়িয়ে ধরলেন। যেন অনেক দিনের চেনা। সেই থেকেই পীর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক। কিন্তু যুগান্তরে তাকে বেশিদিন পাইনি।

২০১১ সালে তিনি উপসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনে। তার কিছুদিন পর এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে হঠাৎ একদিন দুপুরে ফোন করলেন। বললেন, বিপুল তুই কই? বললাম, ঢাকার বাইরে আছি ভাই। বিকেলে ফিরব। বললেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আমার অফিসে আমার সঙ্গে আজই দেখা করবি।

বিকেলে ফিরেই পীর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করলাম। বললেন, তুই আমার সঙ্গে কাজ করবি। সিভি দিয়ে যাস। ঠিক আছে বলে বিদায় নিলাম।

পরদিন মেইলে সিভি পাঠিয়ে দিলাম। তারপর আরেকদিন পীর ভাইয়ের ফোন, দ্রুত আমার অফিসে আয়। যেতেই তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন শাহজাহান সরদার ভাইয়ের কক্ষে। শাহজাহান ভাই তখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক।

আমাকে দেখে শাহজাহান ভাই নানান কথা জিজ্ঞেস করলেন। এক পর্যায়ে পীর ভাই বললেন, শাহজাহান ভাই বিপুলকে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে সচিবালয় বিটে নেওয়া যায়। ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী তাকে ... বেতন দিয়েন।

এরপর আমি চলে আসলাম। তার কয়েকদিন পর ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ফোন। আপনার একটা চিঠি আছে। ওই দিনই গেলাম পত্রিকা অফিসটিতে। নিয়োগপত্র নিয়ে আসলাম। পরদিন ১৮ এপ্রিল যুক্ত হলাম পীর ভাইয়ের সঙ্গে। তারপর টানা নয় বছর নয় মাস ১২ দিন ছিলাম। পীর ভাইয়ের ছায়ায়। যদিও মধ্যে এক বছর পীর ভাই ছিলেন না পত্রিকাটিতে।

এই দীর্ঘ সময়ে পীর ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক নিউজের আইডিয়া পেয়েছি। আবার আমি অনেক নিউজ নিয়ে যখন তার সামনে হাজির হয়েছি। ঘটনা শুনে লাফিয়ে উঠেছেন। বলেন, দারুণ রিপোর্ট। এটা হিট হবে, কিংবা এটা লিড করা যাবে।


একবার একটি রিপোর্ট লিখেছিলাম একজন মন্ত্রী, একজন সচিব ও একটি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে। তাদের বিদেশ ভ্রমণ আর নারী প্রীতি নিয়ে। রিপোর্টের কাহিনী বলতেই পীর ভাই বললেন, ভালো করে লেখ। এটা বক্স আইটেম করব। দেখবে এই রিপোর্ট হিট হবে। সত্যিই পরদিন রিপোর্টটি বক্স আইটেম হিসেবে প্রথম পাতায় তিন কলামে ছাপা হয়েছিল।

রিপোর্ট প্রকাশের পর কত কত ফোন। এক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বললেন, ভাই আগামী ৬ মাস আপনি আমার মন্ত্রণালয়ের ধারের কাছেও আসবেন না। কেন, কেন? জিজ্ঞেস করতেই বললেন, রিপোর্ট লিখলেন আপনি। আর মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই আমাকে দায়ী করছেন। বলছেন, আমি নাকি তথ্য দিয়েছি। আপনার সঙ্গে তো গত একমাসেও আমার দেখা হয়নি। শুনে বললাম, ভয় পাইয়েন না। আমি আপনার আশপাশেও আসব না।

আরেক কর্মকর্তার পক্ষে একজন অফিসে ফোন করলেন। আর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমার ওই সময়ের সহকর্মী মতিন আব্দুল্লাহকে বললেন, আপনাদের রিপোর্টার তো আমাকে শেষ করে দিয়েছে। এসব ঘটনা দারুণ এনজয় করেছিলাম।


এমন আরও অনেক অনেক স্মৃতি আছে। অন্য কোনো সময় লেখার চেষ্টা করব। লেখাটি শেষ করতে চাই পীর ভাইয়ের অন্তিম যাত্রায় তার জন্য শুধু প্রার্থনার মধ্য দিয়ে।
অসময়ে চলে যাওয়া পীর ভাই ওপারে ভালো থাকবেন।

আরএ

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা