‘তিনি আর বেশি দিন বাঁচতে চাননি’

‘মৃত্যুর ১৩ দিন আগে মিজানুর রহমান খানের সঙ্গে আমার আদালতে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেছিলেন স্যার, আমি আর সাংবাদিকতা করতে চাই না। যদি জীবনে অন্য কিছু শিখতাম, তাহলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতাম। কারণ ইদানিং আমি যা দেখছি, শিখেছি তা লিখতে পারি না। আমি ভয়ের মধ্যে আছি। আমি মনে করি, তিনি আর বেশি দিন বাঁচতে চাননি।’
প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের স্মরণে কথাগুলো বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আমাদের একজন মিজানুর রহমান খান ছিলেন’ শীর্ষক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাবেক বিচারপতি মাজদার হোসেন বলেন, ‘আইন অঙ্গনের মানুষ না হয়েও মিজানুর রহমান খানের জানাজা হয়েছে আদালত প্রাঙ্গণে। এ পর্যন্ত আমি বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমে মিজান ভাইয়ের লেখার মতো মানসম্মত লেখা পাই না।’
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘মিজান ছিলেন বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ। তার শূন্যস্থান পূরণ হবার নয়। আজকে আর কেউ মিজানুর রহমান খানের মতো বিচার অঙ্গন নিয়ে আর লেখেন না। তিনি ছিলেন সৎ, নির্ভিক ও সাহসী সাংবাদিক।’
সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান একজন সামাজিক বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি চিন্তাশীল, বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের মধ্যে দিয়ে তিনি আজীবন এ দেশে সাংবাদিকতার মহানায়ক হিসেবে থেকে যাবেন।’
পরিবেশবাদী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘মিজান ভাই বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক নাকি অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন, তা বোধগম্য নই। কারণ, তার সব গুণই বিরাজমান ছিল। তার কাজ-কর্ম ও লেখনি আমাদের মতো অ্যাক্টিভিস্টদের অনেক শক্তিশালী করেছে।’
’নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রধান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মিজান ভাই নিরাপদ সড়ক বিষয়ক আইনগুলো এত সহজ করে গণমাধ্যমে তুলে ধরতেন, যা দ্বারা আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান সাংবাদিক মহলসহ এ দেশের মানুষের কাছে এত ভালোবাসার পাত্র ছিলেন যে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোনও সাংবাদিকের জানাজায় এত মানুষ হয়নি। তার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান সব সময় মানবাধিকার বিষয়ে সজাগ ছিলেন। তিনি নিয়মিত তার লেখনি দিয়ে গুম, খুন ও অপহরণ নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।’
হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিজানুর রহমান খান ছিলেন বাংলাদেশের একজন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, নক্ষত্র ও অনুকরণীয় সাংবাদিক। দেশে তার সমতুল্য সাংবাদিক এখন আর নেই। আমি এখন পর্যন্ত তার লেখনির সমতুল্য কোনও সাংবাদিকের লেখা পাইনি।’
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মিজানুর রহমান খানের স্ত্রী, ছেলে সাদমান হোসেন ও ছোট ভাই সাংবাদিক মশিউর রহমান খান প্রমুখ।
এমএ/এমএমএ/
