বিএনপির অতীত ইতিহাস আশ্বস্ত হওয়ার মতো নয়: সোহরাব হাসান

প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেছেন, গণমাধ্যম ও মুক্ত সাংবাদিকতায় বিএনপির আজকের আয়োজন সাধুবাদ জানাই। তবে তাদের অতীত ইতিহাস আশ্বস্ত হওয়ার মতো নয়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যদি এমন আয়োজন করা হতো তাহলে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম উপকৃত হতো। বিএনপির শাসনামলেও সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়েছিল। এমনকি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে বন্ধ করা হয়েছিল কিন্তু কিভাবে জানি না? তাদের কোনো নেতা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন কিনা আমরা জানি না। বিরোধী দল গণমাধ্যম বান্ধবমুখী, কিন্তু সরকারে গেলে বন্ধুত্ব থাকে না বৈরিতা তৈরি হয়।
রবিবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতন্ত্র হত্যা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি।
ব্যবস্থার পতন হয়নি, ব্যক্তির পতন হয়েছে মন্তব্য করে সোহরাব হাসান বলেন, বাকশাল গঠনের আগে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা মোটামুটি স্বাধীন ছিল, বাকশাল গঠনের পর সেই স্বাধীনতা বন্ধ হয়ে যায়। মোটকথা স্বাধীনতার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তখন কিন্তু তারাই গণমাধ্যম বান্ধব ছিল না।
তিনি বলেন, আজকে মত প্রকাশের সব বাধা দূর করতে হবে। এর জন্য সাংবাদিকদের যেমন দায়িত্ব আছে রাজনৈতিক নেতা ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি মুক্ত স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক করতে চাই- আজকে যারা বিরোধী দলে, ক্ষমতায় গেলে তারা যেন এই বিষয়গুলো ভুলে না যায়। কারণ বিএনপিই প্রথম আইসিটি আইন শুরু করেছিল।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, কাউকে ক্ষমতায় ধরে রাখা কিংবা কাউকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব সাংবাদিকদের নয়। সরকার যদি অন্যায়ভাবে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতিবাদ করব, তবে এখন যারা বিরোধী দলে থাকার সময় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্যতা রেখে কথা বলছেন, ক্ষমতায় গিয়ে তা যেন বজায় থাকে। কারণ আজকের আওয়ামী লীগের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন ঠিক বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় একই ভাষায় কথা বলতেন, আমরা প্রত্যাশা করি আপনারা ক্ষমতায় গেলেও বর্তমানের ভাষায় কথা বলা অব্যাহত রাখবেন।
এমএইচ/আরএ/
