ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে যে কারও বিরুদ্ধে বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এখন হুট করে মামলা করা যায় না।
বুধবার (১১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে ঢাকায় কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ওকাব আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে আগে যে কারও বিরুদ্ধে যে কেউ মামলা করতে পারত। এখন চাইলে পারেন না। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে এখন সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে পুলিশের অনুমতি লাগে এবং সেটি এত সহজ নয়। এখন দেখা যাচ্ছে যে, এই মামলার হারগুলো অনেক কমে গেছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা অনেক কমে গেছে। অহেতুক কোনো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যখন এরকম কোনো মামলা হয়, অনেক প্রতিষ্ঠান করে, দেখা গেল একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সেটি সত্য এবং সেক্ষেত্রে দেখা যায় ওই প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিষয়টি যখন আমার নোটিশে আসে আমি চেষ্টা করি তিনি যেন জামিন পান। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।
মোবাইল সাংবাদিকতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে বা সংবাদ মাধ্যমের হয়ে যদি তিনি মোবাইলে সাংবাদিকতার কাজ করেন সেটি তো অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে কেউ এসে একটা মোবাইলে ছবি তুলে, ফেসবুকে একটা পেইজ খুলে সেখানে নিউজ করা-সেটা কিন্তু সাংবাদিকতা নয়। সেটির সঙ্গে তো মূলধারার সাংবাদিকতার অবশ্যই পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য টানা তো এতো কঠিন কাজ নয়। এই ধরণের কাজগুলোকে ...অনেকে আছে যে তারা দেখা যায় শুধুমাত্র নিজে পপুলার হওয়ার জন্য কিংবা আলোচনায় থাকার জন্য এ রকম করে এবং দেখা যায় অনেক ভুয়া সংবাদ...।
হাছান মাহমুদ বলেন, প্রথমত, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তো গণমাধ্যম নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের মধ্যে তো পার্থক্য আছে। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর গণমাধ্যমকে গুলিয়ে ফেলেন, সেটি তো সঠিক নয়। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম একটি মাধ্যম। যেখানে সবাই মত প্রকাশ করতে পারেন। সেটি একটি জিনিষ। কিন্তু এটিকে পত্র-পত্রিকা, কনভেনশনাল গণমাধ্যমের সঙ্গে তো গুলিয়ে ফেলা যাবে না। সুতরাং যারা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে এ ধরণের সংবাদ প্রচার, অপপ্রচার, এগুলো করেন সেটি আসলে সমীচীন নয়। আমি আসলে সেটিই বলতে চাইছি।
এনএইচবি/এমএমএ/
