শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

কায়রো শহর দেরিতে ঘুমায় দেরিতে জাগে। এই প্রচলিত ধারণাকে অগ্রাহ্য করে পাঁচটায় আসার কথা থাকলেও করিৎকর্মা  বাসাম তার লাল গাড়িটা নিয়ে সাড়ে চারটায় হাজির! ঘুম থেকে উঠে গেছি আগেই। আসোয়ান যাবার ফ্লাইট সকাল সাড়ে সাতটায়। সে হিসাবে ঘণ্টাখানেক আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছালেই চলে। রাতেই সব গোছানো ছিল, গাড়ি চলে আসায় একটু তাড়াতাড়িই বেরিয়ে গেলাম। রাস্তায় দুচারটা যানবাহন দেখা গেলেও কোথাও কোনো মানুষের চলাচল নেই। সারি সারি সড়ক বাতি জ্বলছে রাস্তার দুপাশে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলোকোজ্জ্বল বড় বড় ভবনের দেয়ালে প্রবেশপথে এবং জ্বলতে থাকা রঙিন নিয়ন সাইনে বেশিরভাগ আরবি থাকলেও মাঝে মাঝে ইংরেজি উঁকি দিয়ে যায়। হাতের বাঁ দিকে লাল আলোয় সাজানো সিটাডেল মসজিদ পার হয়ে আমরা এগিয়ে যাই।

ঈজিপ্ট এয়ারের ফ্লাইট আকাশে উড়াল দিল যথাসময়ে। আসোয়ান পৌঁছাবে সকাল নয়টায়। সকালে নাস্তা না করেই বেরিয়েছি। অভ্যন্তরীন ফ্লাইট ঈজিপ্ট এয়ার তো বাজেট এয়ার নয়, অতএব দেড় ঘণ্টার আকাশ যাত্রায় ব্রেকফাস্ট পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত ছিলাম। বোর্ডিং-এর পরপরই বিভিন্ন নিরাপত্তা সম্পর্কিত  ঘোষণার সাথে সাথে অ্যারাবিশ ইংরেজিতে রিফ্রেশমেন্টেরও একটা ঘোষণাও শুনেছিলাম। কিন্তু সিটবেল্ট বাধা থেকে শুরু করে টেক-অফের পরে তেত্রিশ হাজার ফুট উপরে থিতু হবার পরেও দানাপানি যোগান দেয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। মিনিট চল্লিশেক পরে ট্রলিসহ কেবিনক্রুদের নড়াচড়া দেখে একটু ভরসা পেলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হা হোতস্মি! হাতে হাতে একটা করে পাঁচশ মিলি লিটারের নির্ভেজাল বোতল ধরিয়ে দিয়ে আসোয়ানে ল্যান্ড করার ঘোষণা দেবার আগে পর্যন্ত তাদের আর কোনো হদিস পাওয়া গেল না। বুঝলাম, যাত্রাটা যাতে একেবারে নির্জলা উপবাস না হয়, সেজন্যেই এই বোতলজাত পানির ব্য্রবস্থা। 

আসোয়ানের ছোট্ট এয়াপোর্টে লাগেজ নিজে বেরিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। সফর পরিকল্পনা অনুসারে আমাদের জানা ছিলএয়ারপোর্টের বাইরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে ইয়াসির। নামফলক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ‘তরুণ ইয়াসির’ আমাদের দুজনের লাগেজ অবলীলায় দুহাতে তুলে নিয়ে এবং গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় নিল। গাড়ি চলতে শুরু করলে একই সাথে বাজতে শুরু করলো আরবি গান।  ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে ছেলেটি আমাদের গাড়িতে তুলে দিয়েছে তার নাম ইয়াসির নয়। বুঝলাম চালক নিজেই ইয়াসির এবং সে সম্ভবত ভ্রমণ তরী ‘টুইয়া’র প্রতিনিধি!তবে তখনও অনেক কিছুই জানা বাকি ছিল।ড্রাইভারকে পথের দূরত্ব বা নদীর ঘাটে পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগতে পারে ইংরেজিতে ইত্যাদি  নানা প্রশ্ন করেও রানা ভাই কোনো সঠিক উত্তর বের করতে পারলেন না। তবে পথের ডান পাশে আসোয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেশ কয়েকটি পাথরের তৈরি মনুমেন্ট ও বিমূর্ত ভাস্কর্য ইত্যাদি পেছনে ফেলে আধাঘণ্টারও কম সময়ে আমরা শহরে ঢুকে গেলাম। বাঁ পাশে তখন কিছুটা দূরে নীল নদ সাথে সাথেই চলছে। মিনিট কুড়ি পঁচিশ পরে সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা নীল নদেরঘাটেআমাদের নামিয়ে অন্য আরেকজনের হাতে তুলে দিয়ে গাড়িচালক চলে গেলে লম্বামতো  লোকটি এসে নিজের পরিচয় দিয়ে ইংরেজিতে বলেন, ‘আই এ্যাম ইয়াসির! ইয়োর ট্যুর ম্যানেজার।’ 


যাক  এতোক্ষণে তাহলে আসল ইয়াসিরকে পাওয়া গেল। আমার মনে হলো স্বয়ং ইয়াসির আরাফাতও তাঁর জীবদ্দশায়  এতোগুলো ডামি ব্যবহার করেননি। যাই হোক, এই নতুন ইয়াসির ট্যুর ম্যানেজার হলেও তার সাথে আমাদের ভ্রমণ তরীর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ঘাট থেকে নৌযান পর্যন্ত বিছানো পাটাতনের উপর দিয়ে ট্যুইয়ার লবিতে নিয়ে এলেন। একপাশে অসংখ্য ব্যাগ বাক্স স্যুটকেস স্তূপ করে রাখা। আমরা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, এই বিপুল সংখ্যক লাগেজ কী চেক-ইনের প্রতীক্ষায়, না চেক আউট হয়ে গেছে এখন শুধু নিষ্ক্রান্ত হবার অপেক্ষায়! আমরা বাঁ দিকের লাউঞ্জে ঢুকে গেলাম। সেখানে নরম কার্পেটে ঢাকাবিস্তৃত লাউঞ্জে বড় বড় গোল টেবিল ঘিরে চেয়ার পাতা। একপাশের দেয়াল জোড়া  কাচের জানালার পাশে বসে বাইরে তাকাতেই রোদ ঝলমলে একটা সকাল চোখের সামনে বিস্ময় ছড়িয়ে দেয়। আহ! এই সেই নীল নদ!


আমি অবাক হয়ে দেখি নিস্তরঙ্গ নীল নদের নীল জলে ভেসে যাচ্ছে পাল তোলা জলযান ফেলুকা। আরবিতে আন-নীল বাংলা ভাষায় কেমন করে নীল হয়ে গেল জানি না, কিন্তুএর চেয়ে অর্থবহ নাম এ নদীর জন্যে আর কিছুই হতে পারে না। ‘নাইল’ শব্দের অর্থ কোথাও ঔজ্জ্বল্য, কোথাও আলো আবার কোথাও শুধুই নদী কিন্তু নীল নয়। অথচ সামনে প্রবহমান নদী, ওপারে ঘন সবুজ গাছপালা এবং তারও ওপারে ধূসর পাহাড়ের ওপরও মনে হয় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে খানিকটা নীল রঙ। একটু লক্ষ করলে দেখা যায় নৌকাগুলো নীল জলে সাদা পাল তুলে জল কেটে এগিয়ে গেলেও আসলে সবই ইঞ্জিনবোট। তাহলেও যান্ত্রিক নৌকায় সাদা পাল টাঙিয়ে যে নান্দনিক দৃশ্য তৈরি হয়েছেআমরা অনেকটা সময় বাইরে তাকিয়ে সেই ভাসমান জলযানগুলোরচলাচল দেখতে থাকি। 

সাড়ে দশটা বেজে গেছে, আমরা তখনও নাস্তা করিনি, ভুলেই গিয়েছিলাম। সাক্ষাৎ ইয়াসিরকে ডেকে নাস্তার ব্যবস্থা করতে বললাম। জাহাজের অতিথিরা ব্রেকফাস্ট করে পশ্চিম তীর ভ্রমণে বেরিয়ে গেছেন। আমাদের চেক-ইন শুরু হবার কথা দুপুর বারোটায়, অতএব ‘অন-বোর্ড’ সার্ভিসও শুরু হবে লাঞ্চ থেকে। তারপরেও লাউঞ্জের শেষ প্রান্তের কফিশপ থেকে স্যান্ডউইচ এবং কফি তৈরি হয়ে এলো। স্যান্ডউইচের আকার আকৃতি এবং পরিবেশিত খাবারের পরিমান দেখে আমাদের চক্ষু চড়ক গাছ। তিনজনের ব্রেকফাস্ট দিব্যি আমাদের মতো নয় জনকে খাইয়ে দেয়া যায়! এইবেলা মূল্য পরিশোধ করেই খেতে হবে,কিন্তুসাথে পাঠানো বিলটা দেখে আমরা আবারো বিভ্রান্ত! মাত্র সাড়ে সাত পাউন্ড? আমরা কি বাদশাহ ফারুকের জামানায় ফিরে গেছি! দশমিকের একটা বিন্দুর কারণে যা সাড়ে সাত পাউন্ড ভেবেছিলাম তা আসলে পঁচাত্তর পাউন্ড। টাকার হিসাবে প্রত্যেকের জন্য চারশ চল্লিশ টাকাও একটি ভ্রমণ তরীতে দেয়া ব্রেকফাস্টের জন্যে খুব বেশি বলে মনে হলো না। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ফ্রন্টডেস্ক পাসপোর্টের ফটোকপি করে নিয়ে সম্ভবত আমাদের পরিচিতি নিশ্চিত হয়েই ঘরের চাবি হাতে তুলে দিল। কার্পেট বিছানো প্যাঁচানো সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠে নিজেদের ঘরে পৌঁছে প্রথমেই বিছানায় পড়ে একটু ঘুমিয়ে নেবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু জানালার ভারি পর্দা সরিয়ে দিতেই আবার চোখে পড়ে পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীলের নীল পানিতে নৌকা বিহারের অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য।   


সেই শৈশব থেকে শুনে আসছি মিশর নীল নদের দান। তবে শুধু মিশর নয় উগান্ডা, সুদান এবং ইথিওপিয়ার জনজীবনের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই বহমান নদী। উগান্ডার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে ‘হোয়াইট নাইল’ সুদানের খার্তুমের কাছাকাছি ইথিওপিয়ার ‘ব্লু-নাইল’ এর সাথে একত্রিত হয়ে নাইল নামে মিশরে উপর দিয়ে বয়ে যাবার পথে দু পাশের গাছপালা এবং সবুজ ক্ষেত খামারের সকল বৃক্ষলতায় জলের যোগান দিয়ে যাচ্ছে এই নদী। নীলের তীর থেকে দূরের সারাটা দেশই ঊসর মরুভূমি।আলেক্সান্দ্রিয়ার কাছে ভূমধ্য সাগরে মিশে যাবার আগে পর্যন্ত নীলের দুপাশেই গড়ে উঠেছে আসোয়ান, এসনা, এডফু, লাক্সর, কোমওম্বো এবং কায়রোসহ সকল ছোটবড় শহর। দূর অতীতে পিরামিড এবং প্রত্মতাত্তি¡ক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও গড়ে উঠেছে নাইলের আশে পাশেই। 

লাঞ্চের কিছু পরেই আমাদের তৈরি থাকতে বলে ইয়াসির তার দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নিয়েছে। এবারে গাইডের দায়িত্বে মোহামেদ নামে যাকে পাওয়া গেল  সে যে আসলেই ট্যুর গাইড তা তার আচার আচরণে বোঝার উপায় নেই। মুন্ডিত  মস্তক ল্যাকপ্যাকা লোকটিকে আমি প্রথমে মাইক্রোবাসের হেল্পার মনে করেছিলাম।তার ইংরেজি ভাষা জ্ঞান নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই, বিদেশি ভাষায় সবার কাছে থেকে বিশুদ্ধ উচ্চারণ কেউ আশাও করে না। মাইক্রোবাসে মাত্র সাতজন যাত্রী। আমাদের তিনজনকে বাদ দিলে বাকি চারজনই আরবি ভাষাভাষি। সেদিক থেকে মোহামেদের সুবিধাই হয়েছিল। আমাদের জন্যে তেমন কিছু ব্যাখ্যা করতে হয়নি বলে দুবাই আবুধাবির ভ্রাতা ভগ্নিদের আরবি ভাষায় ইতিহাস ভূগোলের পাঠ দান করে সে বেশ স্ফূর্তিতেই ছিল।


আমাদের গন্তব্য আসোয়ান হাইড্যাম।আসোয়ানের প্রথম বাঁধ তৈরি হয়েছিল ১৯০২ সালে। অনেকটা সেই বাঁধের সাফল্য থেকে উৎসাহিত হয়েই  ১৯৫২ সালে বিপ্লব পরবর্তী গামাল আবদুল নাসের সরকারের একটা প্রধান লক্ষ ছিল এই বাঁধ নির্মাণ। চাষাবাদের জন্য পানি ধরে রাখা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জল-বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মিশরের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের জন্যই বাঁধ তৈরি করে নীল নদের পানির সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। নাসেরের মিশরের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্ত গাঁটছড়া বাধার এই সময়টা ছিল মিশরের সামগ্রিক অগ্রগতির কাল। আসোয়ান বাঁধ নির্মাণের এক পর্যায়ে নীল নদের জলপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আনুষ্ঠানিকতার সময় আবদুল নাসেরের উপস্থিতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভ নাকি বলেছিলেন আসোয়ান বাঁধ হচ্ছে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য! 

পিরামিড এবং আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘরের মতো দুটি আশ্চর্যের দেশে আরেকটি আশ্চর্য স্থাপনা দেখতে আমরা আসোয়ান হাইড্যাম এলাকায় এসে নামলাম। মূল বাঁধ এলাকায় প্রবেশের আগে বিশাল অক্ষরে লেখা ‘ওয়েলকাম’। তবে এই একটি শব্দ ছাড়া বাদবাকি সকল তথ্য এবং নির্দেশনা আরবিতে লেখা। আমরা নিরাপত্তা চৌকি, ওয়াচ-টাওয়ার এবং দীর্ঘ সুদৃশ্য দেয়াল পার হয়ে হাইড্যামের কৌশলগত এলাকায় ঢুকে পড়ি। আমাদের গাইড আরবিতে যা ব্যাখ্যা করছিলেন তা বোঝার সাধ্য না থাকলেও বার দুয়েক  ‘সোভিয়েত রাশিয়া’  বঙ্গ সন্তানের কানে আসে। বুঝলাম হয় বাঁধ নির্মাণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার কথা বলা হচ্ছে অথবা রাশিয়া এদেশের কী ক্ষতি করে গেছে তার ধারাবিবরণী চলছে।


বাঁধের এলাকাটা একটা উদ্যানের মতো করে সবুজ ঘাস, গাছপালা এবং রঙিন ফুলের ছোট ছোট ঝোপঝাড় দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। উপর দিয়ে চলে গেছে রাস্তা, মাঝখানের সড়ক দ্বীপে যাত্রী ছাউনি ছাড়াওকয়েকটি প্রায় পত্রপুষ্পহীন গাছ এবংএক প্রান্তে একটি ছোট্ট ক্যান্টিন। অনেকগুলো ট্যুরিস্টবাস একদিকে দাঁড়ানো। বাঁধের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা সাইন বোর্ডে আরবির সাথে ইংরেজিতে নিষেধাজ্ঞা ‘ছবি তোলা নিষেধ!’ নিষেধাজ্ঞা চোখে পড়ার আগেই বেশ কিছু ছবি তোলা হয়ে গেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্যে ধারে কাছে কাউকে দেখা না গেলেও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই ক্যামেরায় লেন্সক্যাপ লাগিয়ে ফেললাম। বাঁধের উপরে দাঁড়ালে যতোদূর দেখা যায় একদিকে পাহাড়ে ঘেরা বিস্তৃত এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে নীল জল। অপর পারের পানির রঙ কিছুটা হালকা। রানা ভাই অবশ্য বলছিলেন, ‘আসোয়ান হাই ড্যাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান যা রেখেছে তার তুলনায় ক্ষতিও কম করেনি। এরপরে যদি ইথিওপিয়া উজানে তাদের হাইড্যাম তৈরি করে তাহলে ক্ষতির পরিমান আরো বাড়বে।’


আমি বাঁধের প্রকৌশলগত বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। শুধু জানি প্রথম আসোয়ান বাঁধের কারণে ফাইলির প্রত্মতাত্তিক নিদর্শন প্রায় ডুবতে বসেছিল, তখন মূল টেম্পল কমপ্লেক্সটি বর্তমানের ছোট্ট দ্বীপভূমি আগিলকিয়াতে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। দ্বিতীয়বার পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসোয়ান হাইড্যাম নির্মাণের সময় দ্বিতীয় রামেসেস আমলের দুটি প্রকাণ্ড প্রস্তর মন্দির সম্পূর্ণ তুলে এনে নতুন করে বসানো  হয়েছে লেক নাসেরের পশ্চিম তীরে আবু সিম্বেল গ্রামে। আবু সিম্বেলে না গেলে মিশর ভ্রমণ অস্পূর্ণ থেকে যাবে। পরদিন ভোরে ত্রয়োদশ শতকের এই অভাবিত নির্মাণ এবং তার পুনস্থাপনের কীর্তি দেখতে যাবার কথা আছে। তবে তার আগে যেতে হবে ফাইলি। আসলে আসোয়ান হাইড্যামের উপরে দাঁড়িয়ে বেশি কিছু দেখার নেই। আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম আগিলকিয়াদ্বীপের উদ্দেশ্যে। 

 


চলবে...

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো