শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

সন্ধ্যার পর বের হলাম খান এল খলিলি বাজারের উদ্দেশ্যে। আল মাআদি থেকে পঁচিশ-তিরিশ মিনিটের পথ, পৌঁছাতেই যদি রাত আটটা সাড়ে আটটা বেজে যায় তাহলে যে জমজমাট বাজারের কথা শুনে এসেছি তার দেখা পাবো কি না সে ব্যাপারে আমার একটু সন্দেহ ছিল। রানা ভাই আশ্বস্ত করলেন, রাত যত গভীর হবে কায়রোর আড্ডা ততই জমে উঠবে। আজ গাড়িতে চালকের আসনে সৌরভ। রানা ভাই এবং হেনা ছাড়াও আমাদের সঙ্গে আছেন পাইলট রাজি। খান এল খলিলি বাজারের প্রবেশ পথ বাঁ হাতের দিকে রেখে সৌরভ অনেকটা সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজতে খুঁজতে আবার প্রবেশ পথের কাছে এসে একটা খালি জায়গা পেয়ে গেল। এখানকার গাড়ি রাখার ব্যবস্থাপনা ঢাকার নিউ মার্কেটের কথা মনে করিয়ে দেয়। তেমনি একজন ইজারাদারের লোক কিংবা স্থানীয় মাস্তানের প্রতিনিধি ডানে-বামে সামনে-পেছনে করে গাড়ি পার্ক করতেও সাহায্য করল। আমরা নেমে বিশাল বড় গেট দিয়ে সাড়ে পাঁচ শ বছর আগের বাণিজ্যিক এলাকায় ঢুকে পড়লাম।

সুলতান সালাহউদ্দিনের শাসনকালেই মিসরের ব্যবসা বাণিজ্য ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছিল। দেশে বিদেশে আসা যাওয়ার সময় সওদাগরদের পথের পাশে গড়ে উঠেছিল অস্থায়ী সরাইখানা। আরো শ দুয়েক বছর পরে চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকে মামলুক সুলতানদের আমলে অস্থায়ী সরাইখানাগুলো তুলে এনে আল আযহার মসজিদের পাশের খালি জায়গায় গড়ে তোলা হয় নতুন বাজার ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্য কেন্দ্র। পাথরের তৈরি দ্বিতল ভবনের উপরের তলায় ব্যবসায়ীদের আবাস আর নিচের তলা এবং উঠানে রাখা হতো তাদের মালপত্র। প্রথম মামলুক সুলতান বারকুকের সময়ে সম্পদশালী ব্যবসায়ী যুবরাজ জাহারকাস আল খলিলি এখানে বিশাল এক সরাইখানা গড়ে তোলেন। তার নামেই সম্প্রসারিত বাজার এলাকার নামই হয়ে যায় খান এল খলিলি। এখানে বলে রাখা ভালো, আরবি ভাষায় ‘খান’ অর্থ সরাইখানা বা আবাসিক হোটেল! অর্থাৎ আইয়ুব খান, মোনায়েম খান থেকে শুরু করে শারুখ খান, আমির খান পর্যন্ত খান বংশের সকলেই আসলে একেকটা সরাইখানা! খোদ আরব দেশের ভাষায় যে খান সাহেবদের এমন বেইজ্জতি করা হয়েছে, কায়রোর খান এল খলিলিতে না এলে তা কখনোই জানা হতো না।

বিশাল তোরণের নিচে দিয়ে ভেতরে ঢুকলেও প্রথমে মনে হলো আমরা কী পুরনো ঢাকায় কোনো রাস্তায় ঢুকে পড়েছি! অপ্রশস্ত পথের দুপাশে পুরনো দালান। সড়কজুড়ে তেমন ব্যস্ততা নেই। দোকানগুলোতে বাতি জ্বলছে; কিন্তু আদৌ কোনো বেচা-কেনা চলছে বলে মনে হয় না। যতই সামনে এগোতে থাকি, বাজারের জনসমাগম এবং জৌলুস দুটোই বাড়তে থাকে। প্রথমেই যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হলো–আট দশজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের তুমুল এক আড্ডা। সৌরভ এবং রাজি হাতের বাঁ-পাশের একটা হুক্কা-কলকির দোকানে ঢুকে গেলে রানা ভাই আড্ডাবাজ বৃদ্ধদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেন। তাদের একজন আমাদের ডেকে বসতে বলেন। যে দুজন বসে ডোমিনো খেলছিলেন তাদের একজন জানতে চান কোন দেশ থেকে এসেছি আমরা। আলাপ পরিচয়ের পরপরই একজন কফি খাবার আমন্ত্রণ জানান। হয়তো আরো কিছুক্ষণ বসলে কফির আমন্ত্রণ রেখেই বেরোনো যেতো। কিন্তু হাতে সময় নেই বলে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে আমরা একটু এগিয়ে সামনে একটা আলোকোজ্জ্বল দোকানে ঢুকে পড়ি। আসলে দোকানটাই আলোর। সামনে এবং ভেতরে সুদৃশ্য বাতিদান, নকশা কাটা ল্যাম্প শেড, কাচের তৈরি রঙিন টেবল ল্যাম্প সাজানো। জিনস জ্যাকেট পরা হিজাবহীন তরুণী সেলস গার্ল আগ্রহের সঙ্গেই এটা সেটা দেখায়; কিন্তু এসব ভঙুর জিনিস নিয়ে হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌঁছানো যে সম্ভব নয়, তা তাকে কে বোঝাবে!

খানিকটা সামনে এগিয়ে দাঁড়ালাম আলো ঝলমলে একটা তিন রাস্তার মোড়ে। মাঝখানে ছোট্ট সড়ক দ্বীপে গোটা দুই খেজুর গাছের নিচে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে চলছে চায়ের আড্ডা। একদিকে বড় একটা রেস্টুরেন্টের গায়ে আরবিতে লেখা কোকাকোলা পেপসির বড় বড় হোর্ডিং। এ পথে এমনিতে যানবাহন চলাচল নিষেধ, তবে ছোট ছোট চার চাকা এবং তিন চাকার ডেলিভারি ভ্যান চলাচলে কোনো মানা নেই। আর মোটর সাইকেল আরোহিদের যাতায়াত বোধহয় সর্বত্র অবাধ। একটু এগিয়ে একটা অলঙ্কারের দোকানে রূপা কিংবা ব্রোঞ্জের মতো ধাতবে বসানো বিচিত্র রঙ রূপ আকৃতির পাথরের অলঙ্কার দেখে চোখ ফেরানো যায় না। রানা ভাই এখান থেকে বেশ কয়েকটা পাথর বসানো আংটি লকেট কিনে ফেললেন।

জনাকীর্ণ গলিপথ, ব্যস্ত রেস্তোরাঁ, মোড়ে মোড়ে মসজিদ আর পথের দুপাশে অগণিত সম্ভারে সাজানো খান এল খলিলি বাজার। এক একটি গলিতে পায়ে চলার পথ ধরে হাঁটতে থাকলে হাজারো পণ্যের চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনী যে কোনো বাজার বিলাসী মানুষকে বিভ্রান্ত করবেই। এখানে যা পাওয়া যায় না তেমন কিছু বোধহয় শুধু কায়রো বা মিসরে নয়, এশিয়া বা আফ্রিকার কোনো বাজারেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। রূপার তৈরি ঝকঝকে পানপাত্র, স্টেইন্ড গ্লাসের নানা রকম বাতি, হাতে তৈরি সুদৃশ্য বিভিন্ন সামগ্রী। সোনা রূপা তামা এবং পাথরের অলঙ্কার কিংবা মশলাপাতি, আগরবাতি, ধুপ-ধুনা এবং সুগন্ধি আতর আর তৈজসপত্র, বাসন কোসন, সিরামিক সামগ্রীর বিপুল সমাবেশ সারাদিন ধরে ঘুরেও দেখে শেষ করা সম্ভব নয়।

বাজার জুড়ে প্রত্যেক মহল্লায়, প্রতিটি রাস্তার মোড়েই রয়েছে এক একটি মসজিদ। মসজিদগুলোর খোদাই করা কাঠের দরজা, জাফরি কাটা জানালা, কারুকাজ করা খিলান মিহরাব এবং প্রায় একই ধরনের স্থাপত্যের দীর্ঘ এক বা একাধিক মিনার। রাতের প্রতিটি মিনারে বা গম্বুজে রঙিন আলো ফেলে সৃষ্টি করা হয়েছে চমৎকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এক জায়গায় এসে দুটি বিভক্ত পথের মাঝখানের একটি মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা একই সঙ্গে তিনটি মসজিদের সৌন্দর্য দেখি কিছুক্ষণ। খান এল খলিলি বাজারের বিভিন্ন গলিতে মসজিদের সংখ্যা ডজনখানেকের কম নয়।

রানা ভাইকে পেছনে ফেলে আর একটু এগিয়ে সৌরভ একটা সরবতের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। তাজা ফলের রস নয়, বরং শুকনো ফলের নির্যাস থেকে তৈরি পানীয় এদের বৈশিষ্ট্য। আমরা গ্লাস হাতে নিয়ে চেখে দেখার আগে তেতুলের শরবত তৈরির কলা-কৌশল দেখলাম। পরিবেশিত শরবত কুশলী শরবতওয়ালার হাতের কারুকাজ এবং মুখের কথার মতো সুস্বাদু না হলেও তেমন সমস্যা ছিল না; কিন্তু হেনা এক চুমুক মুখে দিয়েই বলল, ‘আরশোলার গন্ধ পাচ্ছি। হয় তেতুল কিংবা গ্লাসের উপর আরশোলা হেঁটে গেছে।’ তার ঘ্রাণশক্তি বেশি, আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারিনি। গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে বললাম, ‘অতিকায় ডাইনোসোর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও হাজার বছর ধরে তেলেপোকা ঠিকই টিকে আছে। অতএব শ তিনেক বছরের পুরনো বাজারে আরশোলা থাকতেই পারে।’

আড়াই কিংবা তিন শ বছরের পুরনো রেস্তোরাঁ বা ক্যাফে ছড়িয়ে আছে বাজারের সর্বত্রই। আমরা একটা জনবহুল চওড়া রাস্তা থেকে খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ পেরিয়ে এবং কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভেঙে ক্রমেই আরো সংকীর্ণ অথচ লোকে লোকারণ্য পথে হাঁটতে থাকি। এখানে দুপাশে কাপড় চোপড়, তৈরি পোশাক, বোরকা-হিজাব, বিছানার চাদর, কুশন কভার এবং কার্পেটের দোকান। রেস্তোরাঁগুলোর বাইরে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে চলছে জমজামাট আড্ডা এবং ডোমিনো খেলা। কোথাও কোথাও গিটার বা দলসিমার বাজিয়ে চলছে একক বা মিলিত কণ্ঠে গান এবং তার সঙ্গে মহা হৈ চৈ! আপাদমস্তক বোরকায় ঢাকা, কিংবা হিজাব পরা নারীরা আড্ডায় পিছিয়ে আছে বলে মনে হয় না। তাদের ডোমিনো খেলতে বা হৈ হৈ করে আড্ডা দিতে দেখিনি, কিন্তু চার পাঁচজন এক সঙ্গে বসে দিব্যি ‘শিশা’ নামে পরিচিত নলওয়ালা হুঁকা টানছে। এতে মসজিদ ভারাক্রান্ত খান এল খলিলি কিংবা ঈজিপশিয়ান ইসলামের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হয়েছে বলেও মনে হয় না। সরু গলি পথে হাঁতে হাঁটতে যেখানে এক জায়গায় টেবিল ঘিরে পাঁচ সাতজনের একটা দল বেহালা বাজিয়ে গান গাইছেন আর আমি ভাবছি এখানে মিউজিকসহ ভিডিও রেকর্ড করতে পারলে ভালো হতো, তখনই সৌরভ বললো এই সেই বিখ্যাত এল ফিসাবি। নাগিব মাহফুজের ক্যাফে!

এল ফিসাবি যাত্রা শুরু করেছিল এখন থেকে সোয়া দুই শ বছর আগে ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে। আসবাবপত্র বা পরিবেশন রীতি কিছুটা বদলে গেলেও পুরনো হলদে রঙের দেয়াল, ছোট ছোট টেবিল এবং উঁচু সিলিং থেকে ঝোলানো বাতি দেখে মনে হয় প্রাচীন এই রেস্তোরাঁর আসলে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মিসরের কবি সাহিত্যিক, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়মিত সমাবেশের এই জায়গাটি সাধারণ মানুষের কাছে কেবলই একটি চা কফির দোকান হলেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই অপরিসর রেস্তোরাঁ একটি অন্তরঙ্গ মিলনক্ষেত্র। সন্ধ্যার এ সময়টা বাইরে ভেতরে প্রায় পুরো ক্যাফেতেই কোনো আসন খালি নেই। তারপরেও আমরা কেমন করে যেনো দুটো কাছাকাছি টেবিলে পাঁচজনই বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। সৌরভ এখানকার বিখ্যাত চায়ের কথা বলে আরবিতে কিছু ইংরেজি মিশিয়ে অর্ডার দেবার পরে আমি প্রথমেই নোবেল বিজয়ী মিসরীয় লেখক নাগিব মাহফুজের স্মৃতি জড়িত সংরক্ষিত কক্ষটি দেখতে যাই।

শুনেছি নাগিব তাঁর কায়রো ট্রিলজির অনেকটাই এল ফিসাবির এই কক্ষে বসেই লিখেছিলেন। অপরিসর ঘরটির একদিকে দেয়ালে বিশাল ফ্রেমে বাধানো আয়না, বিপরীত দিকে কাঠের কারুকাজ করা দেয়াল এবং তাকে সাদা কালো বা রঙিন ছবি। এসব ছবিতে নাগিব মাহফুজের সঙ্গে বিভিন্ন জনের যুগল বা দলগত উপস্থিতি। মাথার উপরে ঝুলছে পুরনো আমলের নকশা কাটা কাচের মাঝারি ধরনের ঝাড় বাতি। প্রবেশ পথের বিপরীত দিকের দেয়ালের দুদিকে দুটি ছোট আলমারি বা তাকের মতো কিছু একটা ছাড়াও কতগুলো বাধানো ছবির নিচে ঝুলছে আরবি ও ইংরেজিতে লেখা ‘এল ফিসাবি’। এখানেও নাগিব মাহফুজের একক কোনো আলোকচিত্র নেই। একটা তাকের উপরে কতগুলো জায়নামাজ স্তূপ করে রাখা। বিশ্বখ্যাত নোবেল বিজয়ী লেখকের স্মৃতিধন্য পুরো ঘরটা অগোছালো এবং খুব একটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নও বলা যাবে না। ‘এল ফিসাবি’র প্রতিষ্ঠাতার সপ্তম প্রজন্ম আকরাম আল ফিসাবি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমরা নতুন করে সাজাতে চাই না, কারণ আমরা রেস্তোরাঁ না, একটা ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছি। নিয়মিত যারা এখানে আসেন, তারাও চান এটি যেমন আছে তেমনই থাকুক।’ আকরাম সাহেবের কথায় হয়তো যুক্তি আছে; কিন্তু তার মানে এ নয় যে, কিছুটা সাজিয়ে-গুছিয়ে সাফ সুতরো রাখলেই ঐতিহ্য খসে পড়বে!

বাইরে আড্ডা থেকে বেহালার সঙ্গে জোরালো কণ্ঠ সঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসে। আমি নাগিব মাহফুজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে দ্রুত বেহালাবাদক এবং তার দলের ছবি তুলতে যাই। বাইরে বসলেও এই আড্ডাটা ঘিরে রয়েছে নকশা কাটা কাঠের বেষ্টনী। ছবি তোলার ব্যাপারে আমার একটু দ্বিধা ছিল, কেউ যদি আপত্তি করে! কিন্তু ইশারায় ক্যামেরা দেখাবার পরে দুজন উঠে দাঁড়িয়ে মাথার উপরে দুই হাত তুলে গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন শুরু করলেন। ছবি তুলে ফিরে এসে দেখলাম গাঢ় নীল টি-শার্ট পরা বয়সী পরিবেশক ইতিমধ্যেই টেবিলে চা নামিয়ে দিয়ে গেছে। পুদিনা পাতা দেওয়া মিন্ট-টি এবং চায়ের মধ্যে সেদ্ধ ছোলা দেয়া বিশেষ ধরনের ভেষজ চা। ছোট ছোট স্বচ্ছ কাপে পরিবেশিত চা থেকে চামচ দিয়ে ছোলা তুলে খাবার ব্যবস্থা আছে।

ছোলা-চা খেতে খেতেই একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম–এখানে রেস্তোরাঁ বা কফিশপের ভেতরে ফেরিওয়ালা অথবা কোনো সাহায্য প্রার্থী অবাধে ঢুকে পড়তে পড়তে পারে। প্রথমে ক্যালিগ্রাফি করা রুমাল নিয়ে একজন এবং তারপরে এলেন তসবিহর ফেরিওয়ালি। দুজন বিক্রেতাকে ফিরিয়ে দিলেও শেষে শিশু সন্তান কোলে কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো মেরুন রঙের বোরকা পরিহিতা সাহায্য প্রার্থীকে রানা ভাই খালি হাতে ফেরাতে পারলেন না।

চা শেষ করে আরও কিছুক্ষণ বসে আমরা যখন বেরোতে যাব, সেই সময় আমাদের জানালার ঠিক বাইরে নতুন করে আরেকটা আড্ডা শুরু হলো। এবার গিটার হাতে কয়েকজন জন তরুণ শুরু করলেন সমবেত কণ্ঠে জমাট আরবি গান। গানের শেষটা না শুনে শতবর্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও লেখক কবিদের অন্তরঙ্গ কথপোকথনের কেন্দ্র এবং নিঃসঙ্গ লেখকের চেয়ার টেবিল পেছনে ফেলে আমরা সরু গলিপথ ধরে বাইরে বেরিয়ে এলাম।

(চলবে)

এসএ/

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

Header Ad
Header Ad

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, আর বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত এবং জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রগুলো ছিল পূর্ণ। ৯ দিনের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায়, কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় ১০ তারিখ পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনকে কাজে লাগিয়ে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ এবং যানবাহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি কলাতলীর সী মুন হোটেলে নন এসি রুমের জন্য প্রতি রাতের ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ করেন। একইভাবে, সুগন্ধা পয়েন্টের লাইট হাউস কটেজে এক রাতের জন্য ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে, যা রুমের মানের তুলনায় অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সাবিনা আক্তারের কাছে।

এছাড়া রাজশাহী থেকে আসা সোলেমান জানান, বাস থেকে নামার পর এক অটোচালক তাকে এক হোটেলে নিয়ে যায়, যেখানে এসি রুমের ভাড়া ৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তবে, তিনি সাড়ে ৬ হাজার টাকায় রুমটি নিতে রাজি হন।

এ বিষয়ে মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসায় এই সুযোগে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং হেল্প ডেস্কে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে চলেছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে শুক্রবার বৈঠক হবে।

তিনি জানান, ব্যাংককে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল)  বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশকিছু সময় ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করছেন।

ব্যাংককে ২ এপ্রিল বিমসটেক সম্মেলন শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ৪ এপ্রিল।

Header Ad
Header Ad

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত

শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইয়াসিন শেখের বাড়িতে। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের যুবক ইয়াসিন শেখ। সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত হয়েছেন। ২৭ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় প্রাণ হারান ইয়াসিন, এবং তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায় ঈদের পরদিন। পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান, কারণ তারা কিছুদিন আগেই তার কাছ থেকে শেষ বার্তা পেয়েছিলেন।

ইয়াসিনের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু দেশের সেনাবাহিনীতে সুযোগ না পাওয়ার পর, তার সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয় রাশিয়াতে। গত বছর রাশিয়ায় কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি সেখানে চলে যান এবং এরপর রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ফেসবুকে নিয়মিত তার যুদ্ধে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন ইয়াসিন। শেষ ভিডিওতে তিনি তার বাবার স্বপ্ন পূরণ, সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং যুদ্ধের প্রতি তার মনোভাব শেয়ার করেছিলেন।

নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষা শেখে ইয়াসিন। পরে বন্ধুর সহায়তায় ইয়াসিন রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে ভালো চাকরি পান। সবই ঠিকঠাকমতো চলছিল। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে সব ওলটপালট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার সময় ইয়াসিনের মা ও বড় ভাইকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে অনাপত্তিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নেয় রাশিয়ায় পাঠানো এজেন্সির লোকজন। গত ২৬ মার্চ তার মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন ইয়াসিন। কয়েকদিনের মধ্যেই দশ লাখ টাকা পাঠাবে বলে মাকে জানিয়েছিলেন তিনি।

ইয়াসিনের লাশের কী অবস্থা, লাশ দেশে আনা যাবে কি না তা নিয়ে কোনো তথ্যই পাচ্ছে না ইয়াসিনের পরিবার। ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের কান্না থামছেই না। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের সদস্যরা। গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান বলেন, ইউক্রেনে থাকা ইয়াসিনের সহযোদ্ধারা মোবাইল ফোনে জানিয়েছে, তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, লাশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরিবারটি যেন ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার সুনন্দা সরকার প্রমা নিহতের বাড়িতে যান। তিনি বলেন, ইয়াসিনের মরদেহ দেশে ফেরত আনাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ ব্যাপারে সকল প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা