বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৯

নেই দেশের নাগরিক

খরগোশের মতো কান খাড়া করে উঠল আতিফ! ভ্রূ টান হয়ে চোখ কপালে আটকে গেল! কানের জুলপি টান হয়ে উঠছে। চোখের মণিতে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিস্ময়! ঠোঁটজোড়া কাটা মাছের পাখনার মতো ফিনফিন করে হেলে উঠল, “আস্তে নবী!” বলেই নবীর হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে ঘরের ভেতরে ঢোকাল আতিফ। তারপর তার হলহল করে হালতে থাকা শরীরটাকে চার দেওয়ালের মধ্যে লুকিয়ে বলল, “তুই কী বলছিস, তুই জানিস?”
“আলবাত জানি। হান্ড্রেড পারসেন্ট জানি।“
“তোর মাথা সত্যি ঠিক আছে?”
“ঠিক আছে মানে, পুরো হান্ড্রেড অ্যান্ড হান্ড্রেড পারসেন্ট ঠিক।“
“আমার তো মনে হচ্ছে, তোর মাথায় মগজ বলে আর কিচ্ছু নেই। যা আছে তা হলো মড়ার খোল। আর.....।“
“আর কী?” ঠোঁটে বাঁকা হাসি নবীর।
“আর তোর পিঠে মরণের পাখা গজাচ্ছে।“
“মরণের পাখা আবার গজাচ্ছে কী রে! মরণের পাখা তো কবেই গজিয়েছে। এ পাখা নিয়েই তো ঘুরে বেড়াচ্ছি।“
“আর ঘুরে বেড়াতে হবে না। তুই যা ভাবনাচিন্তা মাথায় করে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিস, তাতে তোর ছায়াই তোর পাখা কেটে দেবে। তুই কি ভুলে যাচ্ছিস, তুই যাকে খুন করার কথা বলছিস, তার লোক ছায়ার মতো মানুষের পেছনে পেছনে ঘুরে বেড়ায়।”
“তুইও একটা কথা ভুলে যাচ্ছিস, আতিফ, ছায়ারও ছায়া থাকে। বাপের যেমন বাপ থাকে, তেমনি ছায়ারও ছায়া থাকে।“
“কিন্তু একটা জিনিস আমার মাথায় কোনোভাবেই ঢুকছে না, হঠাৎ ‘জুনাইদ মোল্লা’ কেন?” ‘জুনাইদ মোল্লা’ নামটা বলার সময় কণ্ঠটা একেবারে নামিয়ে মিনমিন করে বলল আতিফ।
“অত ভয়ের কিছু নেই। অত চুপসে যাচ্ছিস কেন? তুই তো ব্যাটা ভয়ে ছানা ময়দা হয়ে যাচ্ছিস!” নবী আতিফকে ঠেস মারল। আতিফ দরজার দিকটায় একবার চোরা দৃষ্টি ফেলে বলল, “তুই পোড়া লোহা হো গা। ইস্পাত হো গা। আমি ময়দা হয়েই থাকতে চাই।“
তারপর কণ্ঠ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “হ্যাঁ, হঠাৎ জুনাইদ মোল্লা কেন? ওঁকে উপরে পাঠিয়ে আমাদের কী লাভ? আমি তো চোখের সামনে কিছুই সেরকম দেখতে পাচ্ছি ন্যা!”
“দেখতে পাবি, দেখতে পাবি, ঠিক দেখতে পাবি। দেখার মতো দেখলে ঠিকই দেখতে পাবি। শ্বাসমূলের মতো একটু মাটি ফুঁড়ে ওঠ, ঠিকই দেখতে পাবি। ওই মাল’টাই তো যত নষ্টের গোঁড়া।“
“যত নষ্টের গোঁড়া! জুনাইদ স্যার! আমাদের জে সি ও জুনাইদ মোল্লা যত নষ্টের গোঁড়া!” চোখ, ঘেলু সব ঘোল পাকিয়ে যাচ্ছে আতিফের। নবীর কথায় সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। হিসেবের কোনো অংকই মেলাতে পারছে না সে। ‘কচ’ করে কাঠের চেয়ারটা টেনে এলানো বস্তার মতো ‘ধপ’ করে বসল। নবী সোফাটার পেছনে দাঁড়িয়ে বলল, “ব্যাটা, জুনাইদ, দু’দিক থেকে মালকড়ি ভালোই কামাচ্ছে।“
“দু’দিক থেকে মানে!” চোখ বড় করল আতিফ।
“দু’দিক মানে, ‘আইএসআই’ আর ‘এমএসএস’।“
“’এমএসএস’! মানে, চীনের গুপ্তচর সংস্থা?”
“ইয়েস ফ্রেন্ড, চীনের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। যাকে আমরা বলি, ড্রাগনের আগুন।“
“’এমএসএস’র সাথে আবার কী করে কানেকশন তৈরি করলেন!”
“ওটাই তো ঘেলুর খেল, বন্ধু। তলে তলে সব ঘাটের পানি খাচ্ছেন। এ মুখে একবার চুমু খাচ্ছেন, ও মুখে একবার চুমু খাচ্ছেন। মালটা ‘ঘাগু’। আগাও খান তলাও খান। অথচ আমরা ওসবের কিছুই টের পাই না। ‘আইএসআই’এর কাছ থেকেও কাড়ি কাড়ি টাকা নিচ্ছেন আবার ‘এমএসএস’এর কাছ থেকেও কাড়ি কাড়ি টাকা নিচ্ছেন। আর আমাদের মতো ভিটেছাড়া, এঘাটে ওঘাটে ঠক্কর খাওয়া, দিশাহীন, অবসাদগ্রস্ত, দিকভ্রান্ত ছেলেদের ‘বেহেশত’ ‘হুরি’র স্বপ্ন দেখিয়ে ‘মুজাহিদ’ বানাচ্ছেন। আর আমরা তাতে ‘ধেই’ করে নেচে উঠছি। ‘শহীদ’ হওয়ার জন্যে ছটফট করছি। আমরা তো ভাঙা থাম। শেকড় উপড়ানো গাছ। আমাদের যেন কিচ্ছুই করার নেই। শুধু নিজেই নিজের কবরটুকু খুড়লেই বাঁচি!”
“তুই এতসব জানলি কী করে?”
“আমি তো আর তোদের মতো চিনির মতো মিশি না, আমি ওদের সাথে তেলের মতো মিশি। মিশে ভূত হয়ে যাই না। পানি হয়েও যাই না। আলাদা করে হয় তলে অথবা ওপরে ভেসে থাকি। শোন, জীবনটাকে সোজা পেরেকের মতো করে লাভ নেই, অত সোজা হলে হাতুড়ির ঠোকা খেয়ে পুঁতে যেতে হবে। পারলে একটু ব্যাঁকা ট্যারা হো।“
“তুই এত চালাক, আগে তো একচুলও জানতাম না!”
“জানার কী দরকার? আর এ তো চালাকি নয়? এ হলো ‘পেছনের চোখটা খুলে রেখে চলা আর কী।“
“তুই ওভাবে পানি মেপে চলতে পারিস!”
“না পারার কী আছে। আল্লাহ মগজে বুদ্ধি তো কম দেননি? এ মগজ যেমন বারুদ হতেও পারে, আবার মোম হতেও পারে।“
“তুই যে ভেতরে ভেতরে এত শুঁয়োপোকার মতো চরে বেড়াস, তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ পাইনি কোনদিন!”
“এ যে মাকড়সার জালের দুনিয়া। পদে পদে বাঁধা। ফন্দি-ফেউর। চোখ-কান না খুলে চললে তো সমূহ বিপদ। মাথার ঘেলু থেকে যেমন ‘গোলাপ ফুল’ ফোটাতে হবে, ঠিক তেমনই, ঘেলুর দাঁত-নখও ফোটাতে হবে।“
“তুই এত পাকা হলি কবে, নবী!” তাজ্জব হয়ে যাচ্ছে আতিফ। যেন এ নবী তার এতদিনের চেনা নবী নয়, এ কোথা থেকে দুম করে পড়া অন্য নবী। অন্য মানুষ।
“মানুষ এমনি এমনি পাকা হয় না, বন্ধু, তাকে পাকতে হয়। মানুষ আপনা আপনি বয়সে পেকে যায়, কিন্তু বুদ্ধিতে পাকে না, বুদ্ধিতে পাকতে গেলে, তাকে বুদ্ধি ঘেঁটেই পাকতে হয়।“
“সবই বুঝলাম, কিন্তু জুনাইদ মোল্লার মৃত্যুর সাথে আমার নয়াপাড়া ক্যাম্প যাওয়ার কী সম্পর্ক?” পিঠ খাড়া করে বসল আতিফ।
“সম্পর্ক আছে আছে। মগজে একটু ঠোকা দে, তাহলেই বুঝতে পারবি।“
“ঠোকা দেব কী, মাথা খুঁটেও কিচ্ছু পাচ্ছি না।“
“আচ্ছা, তোকে এখানে সব থেকে কে বেশি ঘরবন্দি করে রাখার জন্যে কড়াকড়ি করেন?” মাথা খুঁটে আতিফ। হন্যে হয়ে মাথার ঘেলু হাতড়ায়। মাথাটাকে হাঁটুর কাছে ঝোঁকায়। এক মাথা তিন মাথা হয়। “নাহ, ঠিক কাউকে তো সেভাবে ভেবে পাচ্ছি নে!” মাথা তোলে। নবীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কে বল তো?”
“এত সহজ লোকটাকে নাগাল করতে পারছিস ন্যা!”
“নাহ, ঠিক আন্দাজ করতে পারছি ন্যা। হ্যাঁ, তবে, একজন খুবই তোখিদ করেন।“
“হ্যাঁ, ওটাই তো টেকনিক। উপরে তোখিদদারি, আর ভেতরে চৌকিদারি।“
“মানে?”
“মানে, সহজ, পানির মতো সহজ। সে লোকটা কে?”
“জুনাইদ স্যার। এ তো সবাই জানে, জুনাইদ স্যার, আমার ব্যাপারে বেশি খেয়াল রাখেন।“
“ওখানেই তো রহস্যটা লুকিয়ে আছে।“
“রহস্য!”
“হ্যাঁ, রহস্য। একটা জিনিস কি খেয়াল করেছিস? তুই যখনই, কায়রাপরীর টংকীর কথা তুলিস, তখনই জুনাইদ স্যার কথাটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই প্রসঙ্গটা তুললেই উনি কেমন একটা অস্বস্তি বোধ করেন। ব্যাপারটা যেন কাঁটার মতো তাঁর গায়ে বিঁধে।“
“হ্যাঁ, তা ঠিক, কেমন আমতা আমতা করেন।“
“এখনি তো দেখলি, তুই যেমনি প্রসঙ্গটা তুললি, আর উনি অমনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি তোকে চোখ টিপে ছিলাম, কায়রাপরীর প্রসঙ্গটা ওঁর সামনে না বলার জন্যে। কিন্তু তুই হাঘরা, আমার ইশারাটা বুঝতেই পারলি ন্যা!”
“কিন্তু, আমার নাফ নদীতে গিয়ে আব্বা-মাদের উদ্ধার করার সাথে, জুনাইদ স্যারের আমাকে তোখিদ করা, কায়রাপরীর টংকী, এতসবের কী সম্পর্ক!”
“এগুলো হলো এক একটা কাঁটা। নাফ নদীতে গিয়ে তোর আব্বা-মাদের উদ্ধার করাটা তোর কাছে যদি একটা ফুলের মালা হয়, তাহলে এগুলো জুনাইদ স্যারের কাছে ওই ফুলের এক একটা কাঁটা। তুই যে এত কট্টর চীন বিরোধী, সেটা উনি পছন্দ করেন না। উনি সন্দেহ করেন, তুই তলে তলে ইন্ডিয়ান গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ এর সাথে যোগাযোগ রাখিস।“
“বলছিস কী!”
“হ্যাঁ, অত অবাক হওয়ার কিছু নেই, আমি ঠিকই বলছি। এ সন্দেহের দুনিয়া রে বন্ধু, সন্দেহের দুনিয়া। এখানে দেওয়ালও তার ছায়াকে সন্দেহ করে। জুনাইদ মোল্লা ভাবেন, তুই হয়ত তলে তলে, ‘র’ এর কাছে ওঁর ‘এমএসএস’ এর সাথে যোগাযোগের কথাটা ফাঁস করে দিবি। তাছাড়া উনি কোনোভাবেই চান না, চীনা সৈন্যদের কব্জায় থাকা কায়রাপরীর টংকীর গোপন কথাটা ‘র’এর কানে যাক।“
“’র’ অর্থাৎ ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’?”
“হ্যাঁ, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা।“ মাথা নড়াল নবী। গলা থিতিয়ে বলল,“তাই উনি সব সময় তোকে ও আমাকে কড়া প্রহরায় রাখেন। আমাদের এই চোহদ্দির বাইরে কোত্থাও যেতে দেন না। আমাদের চোখে চোখে রাখার জন্যে লোক লাগিয়ে রেখেছেন।“
“লোক! আমাদের পেছনে!”
“শুধু কী লোক, বলা হয়, তাঁর কথায় এই জঙ্গলের পশুপাখি, গাছপালাও উঠবস করে। জঙ্গলের প্রতিটি পাতায় তাঁর চোখ লাগানো থাকে। তাঁকে ফাঁকি দেওয়া যার তার কম্ম নয়।“ সোফার এককোণে গা এলিয়ে দিয়ে বসল নবী। সোফার কভার থেকে বের হওয়া সুতোর খুঁট আঙুল দিয়ে পাকাতে পাকাতে বলল, “এই বালুখালি চৌকি আক্রমণের প্ল্যান ‘লিটলবার্ড অ্যাকশন’ এর নীলনকশাও তাঁর মাথা থেকে আসা। তিনিই এর মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’। এর পেছনেও তাঁর একটা গোপন অভিসন্ধি আছে।“
“এখানেও অভিসন্ধি!”
“হ্যাঁ, অভিসন্ধি। ছকের ভেতরে ছক।“
“ছকের ভেতরে ছক!”
“হু।“
“সেটা আবার কী?”
“আমরা যেই বালুখালি চৌকি আক্রমণ করব, অমনি চীন মিয়ানমার সরকারকে বলবে, মিয়ানমারের সীমান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই আক্রমণের পেছনে ‘র’ এর ভূমিকা আছে। ভারত যেকোনো সময় এইসব সেনাঘাঁটি দখল করে নিতে পারে। ফলে, এসব সেনাচৌকি আমাদের কব্জায় থাকাটা বড্ড দরকার। এইভাবে, পরিকল্পনা করে পরোক্ষভাবে বালুখালি চৌকি চীনাদের হাতে তুলে দেওয়া মেজর জেনারেল জুনাইদ মোল্লার টার্গেট। কারণ, চীন জানে, বালুখালি চৌকি তাদের কর্তৃত্বে থাকলে, ভারতকে নিশানা করা আরও সহজ হয়ে যাবে। সমুদ্রপথে ঢিল ছোড়া দূরত্বে যে ভারত।“
“এত কিছু!” ষড়যন্ত্রের হাঁড়ির খবর শুনে আতিফের চক্ষু চড়কগাছ।

চলবে...

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৮

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৭

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৬

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৫

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৪

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২১

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৯

Header Ad

‘দেশের মানুষ এখনো কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারে না’

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুন। কাজের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সরব তিনি। কথা বলেন নানা ইস্যু নিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনেও বিভিন্ন সময় নিজের আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যেও বিভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। এবার এমনি একটি বার্তায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগনের আস্থার বিষয়ে আক্ষেপ জানালেন এই নির্মাতা।

বুধবার (২০ নভেম্বর) আশফাক নিপুন তার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল, বাসায় বসে বসে দোয়া করেছিল, যার যা সামর্থ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল। কারণ, তারা দেখেছিল লড়াইটা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসক বনাম সাধারণ ছাত্র-জনতার। এটাও অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই যে এই আন্দোলন বেগবান করতে বিরোধী সকল দলের কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের সংগ্রামও গত দেড় দশকের। কিন্তু এটা যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার লড়াই হতো তাহলে সাধারণ মানুষ এই লড়াই থেকে দূরে থাকত। সেই প্রমাণ বিগত ১৫ বছরে আছে।

‘দেশের মানুষ এখনো কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারে না’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতা মেনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত কীভাবে সাধারণ জনগণের ভেতর নিজের দলের প্রতি আস্থা তৈরি করা যায় সেই বিষয়ে নিরলস কাজ করা। এই আস্থা ক্ষমতায় গিয়ে অর্জন করা সম্ভব না। কারণ, সাধারণ মানুষ আজীবন এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে। এই আস্থা অর্জন করতে হয় ক্ষমতা বলয়ের বাইরে থেকেই।

নিপুন আরও লিখেন, অরাজনৈতিক সরকার দিয়ে দীর্ঘদিন দেশ চালানো যেমন কাজের কথা না ঠিক তেমনি রাজনৈতিক সরকার হতে চাওয়া সকল রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝা উচিত মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে সকল প্রকার পূর্বানুমান (যেমন- বর্ষাকালে আন্দোলন হয় না, নির্বাচনের আগেই কেবল জোরেশোরে আন্দোলন হয়, ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সকল পক্ষ আন্দোলনে শামিল না হলে সফল হয় না) অগ্রাহ্য করেই। সেটা সম্ভব হয়েছে সাধারণ মানুষের ন্যায্যতার আকাঙ্ক্ষা থেকেই।

সবশেষ এই নির্মাতা লিখেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার দুই পয়সার দাম দেন নাই। সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা আর দেশপ্রেমকে পুঁজি করে অরাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক যারাই রাজনীতি রাজনীতি খেলতে চাইবে, তাদের দশাও কোন একসময় যেন পলাতক শেখ হাসিনার মতো না হয়, সেই বিষয় নিশ্চিত করতে হবে তাদেরকেই।

Header Ad

‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’: প্রধান উপদেষ্টা

ফাইল ছবি

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সকল মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা। কেউ কারো উপরে না, আবার কেউ কারো নিচেও না, এই ধারণা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সম্প্রতি আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত এবং জীবিত ছাত্র-জনতার কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে চাই। যে সুযোগ তারা আমাদের দিয়েছে, তার মাধ্যমে আমাদের দেশকে পৃথিবীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশে পরিণত করতে আমরা শপথ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করে যারা দেশ গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে জাতি তাদের সারা জীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বক্তব্য শেষে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

Header Ad

নওগাঁ শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ অভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁ শহরে যানযট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও রিকশা মালিক-শ্রমিকদের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে শহরে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) অভিযানের উদ্বোধন করেন নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক টি.এম.এ মমিন। এ সময় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জিয়া উদ্দিন, নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, নওগাঁ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আফজাল হোসেন ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শুরুর পর থেকেই শহরের বরুনকান্দি, মশরপুর, তাজের মোড় ও কালীতলাসহ মোট ৮ টি প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেক পোষ্টগুলোতে ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন ছাত্র সমন্বয়ক, ৪ জন রোভার স্কাউট সদস্য ও ২ জন রিকশা মালিক শ্রমিক প্রতিনিধিসহ মোট ১২ জন করে কাজ করছেন।

পৌর প্রশাসক জানান, নওগাঁ শহরে বৈধ যানবাহনের সংখ্যা ৪ হাজার। কিন্তু প্রতিদিন পার্শবতী বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০ হাজার রিকশা, ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করে। এতে তীব্র যানযট ও জন মানুষের ভোগান্তি তৈরী হয়। এই দূর্ভোগ লাঘোবে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিনের দিক নির্দেশনায় যানবাহন নিয়ন্ত্রনসহ বিশেষ অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। বৈধ চালকদের চিহ্নিত করতে তাদের মাঝে পরিধেয় বিশেষ ধরনের জ্যাকেট প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নওগাঁর পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন বলেন, নওগাঁ শহরের যানযট দীর্ঘদিনের সমস্যা। পরিকল্পিত ভাবে এই সমস্যা দূর করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে পৌর কর্তৃপক্ষ ও রিকশা মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন ষ্টেক হোল্ডারদের পরামর্শ নিয়ে একটি কর্ম পরিকল্পনা গ্রহক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, অভিযান সফল ভাবে বাস্তবায়ন হলে শহরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। জনগন এর সুফল পাবেন। সকলকে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানান তিনি।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

‘দেশের মানুষ এখনো কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারে না’
‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’: প্রধান উপদেষ্টা
নওগাঁ শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ অভিযান শুরু
২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচন হতে পারে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত
সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ৫ জনকে রোবটিক হাত উপহার
সেনাকুঞ্জের পথে খালেদা জিয়া
সুযোগ পেলে শেখ হাসিনার পক্ষে মামলায় লড়ব: জেড আই খান পান্না
নির্বাচন কমিশন গঠন, সিইসি হলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দীন
ডিএনএ টেস্টের ফলাফল: ভিনিসিয়ুসের পূর্বপুরুষ ছিলেন ক্যামেরুনের
জামিন পেলেন সাংবাদিক শফিক রেহমান
বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা সেই শাহজাহান ওমর গ্রেপ্তার
মিরপুর ও মহাখালীতে অটোরিকশা চালকদের সেনাবাহিনীর ধাওয়া
‘শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’, এমন কথা বলেননি ট্রাম্প
লেবাননে ৮ শতাধিক ইসরায়েলি সেনা নিহত
ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরল ২৪ বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরী
ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভ
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় আরও ৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত
সাবেক এমপি শাহজাহান ওমরের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
১২ বছর পর সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া