শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রয়াণ

একবার যদি তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে শিখে যাই, তাহলে তোমার সংসর্গও আমার কাছে বিরক্তিকর ঠেকবে। তখন তুমি বাঁচবে কার স্পর্শ নিয়ে? কাকে বিলিয়ে দিবে তোমার প্রণয়? কার জন্য চোখে জমিয়ে রাখবে কান্না, কার জন্য ভালবাসার বাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্টি করবে খুশির বন্যা? শিবলীর কথার বৃষ্টিতে চমকিতা বনে যায় অপূর্বা। কি উত্তর দেবে ভেবে পাচ্ছে না। চুপ করে থাকবে, নাকি জড়িয়ে ধরবে ওর হাতটা, বুঝে উঠতে পারছে না।

 এক বছরের অন্তরঙ্গতায় শিবলী এতটুকু বুঝতে পেরেছে অপূর্বা ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী স্বভাবের মেয়ে। অন্য সব মেয়েদের চেয়ে একটু অন্যরকম। ওর হাসিতে লুকিয়ে থাকে অদ্ভুত রকমের কান্নার সিলমোহর। কান্নাতে লুকিয়ে থাকে ভীষণ রকমের মায়ার আলপনা। কিন্তু শিবলীর মনে একটা প্রশ্ন বারবারই জট পাকিয়ে উঠে, 'ও আমাকে বুঝতে পেরেছে কতটুকু? বুঝবার চেষ্টা করছে কি কখনো!" উত্তরের খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠে ওর মন।

অপূর্বা চুপ করে থাকে। স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ওর পাশে। বিদিশার চুলের কালো রঙে ছেয়ে উঠে চারপাশ। হঠাৎই কিছু না বলেই রিকশা ডেকে উঠে পড়ে অপূর্বা।

বুকফাটা কষ্ট নিয়ে ঘোলা চোখে তাকিয়ে ওর চলে যাওয়া দেখে শিবলী। চাইলে সবার সামনে খুব জোরে ওর হাতটা চেপে ধরে উত্তরটা জানতে পারতো। কারণ সেই অধিকারটা আছে ওর। তবুও চশমাটা খুলে আবার তাকায় ওর দিকে। কিন্তু এবার সত্যি সত্যি-ই সবকিছু ঘোলাটে লাগছে ওর কাছে।

তাহলে ওদের প্রেমটাও কি ঘোলাটে কিছু স্মৃতি মাত্র! মেয়েটা কি তাহলে প্রেমের অভিনয় করেছে ওর সাথে। মনে মনে ভাবে, মেয়েরা কি এভাবেই অভিনয় করে প্রেমের! কত টাই না আপন করে নিয়েছিল ওকে। ও ভাবতে লাগে সেদিনের ঘটনা কিভাবে ভুলে গেল অপূর্বা। স্মৃতিরা এসে আঘাত হানে ওর বুকে আর নিউরন স্মরণ করে সেই ঘটনা-

-এই শুন না!

-কি?

-থাক বলবো না।

-কি হয়েছে বলো।

-ইচ্ছে করছে...

-কি ইচ্ছে করছে?

-ইচ্ছে করছে তোমার বুকে মাথা দিয়ে হাঁটি।

-বুকে মাথা রেখে কি হাঁটা যায়?

-আমি জানি না। আমি হাঁটবো। তোমার বুকে মাথা রেখেই হাঁটবো।

-আচ্ছা। ঠিক আছে। এই বুকটা তো তোমারই।

-সত্যি!

-হ্যা, সত্যি।

-কতটুকু সত্যি?

-সত্যি তো সত্যিই। এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি- একশো বার সত্যি। এবার খুশি!

-অনেকটা, খুশি।

-দেখ অপূর্বা, চন্দ্রিমা কি অপরূপা! কি মায়াবতী!  কি সুন্দরী! সোনালী রঙের মসলিন শাড়িতে কি সুন্দর লাগছে ওকে।

-এই চন্দ্রিমা কে? কোথায় চন্দ্রিমা। আমি কাউকেই তো দেখছিনা।

-চন্দ্রিমা আমার বুকে।

-একটু আগে না বললে, এই বুকটা আমার। এখন মিথ্যে বলছো কেনো?

-মিথ্যে বলবো কেন!

-এই দেখো আমার বুকে চন্দ্রিমা।

-কোথায়! দেখি। ওকে আজকে নাস্তানাবুদ করেই ছাড়ব। কেউই তো নেই তোমার বুকে।

-চন্দ্রিমা তো চাঁদের আলো। মিষ্টি চাঁদের আলো নববধূবেশে লাজুক বদনে এসে মিশেছে আমার বুকে। তবে তুমি কিন্তু আছো সবসময় আমার অনুভবে। চাঁদের কিরণের চেয়েও বেশি অপরূপা তুমি। তুমিই তো আছো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, হৃদয়ের কোয়াড্রেট, কডেটে।

-তাহলে এতো ঢং করার কি দরকার ছিলো। আমার চোখের জল ঝরানো ছাড়া কি তোমার শান্তি হয় না।

-পাগলী টা কাঁদছে কোনো! এত ছোট একটা বিষয়ের জন্য কি কাঁদতে হয়!

-হ্যা, আমি কাঁদব এখন। হাউমাউ করে কাঁদব।

-এই কাদতে হবে না প্লিজ। একটা জিনিস দেখবে।

-কি!

-দেখো দুটো পাখির ছায়া।

-উপরে চেয়ে দেখো ছাদের উপরে দুটো পাখি।

-কি ভালবাসা পাখিদের মধ্যে, তাই না?

-হ্যা, পাখি দুটো কত কাছাকাছি বসে আছে। মনে হচ্ছে সাত জনমের বাঁধনে বেঁধে আছে ওরা এক সুতোয়।

-ওদের সময়গুলো কতটা আবেগঘন, তাই না?

-আস্তে কথা বলো না হয় পাখি দুটো উড়ে যাবে।

-আচ্ছা, আচ্ছা। ঠিক আছে। সারাটি জীবন এভাবে পাশে থাকবে তো আমার?

-কেনো থাকব না, বলো! তুমি-ই আমার সবকিছু। আমি তোমাতেই রবো চিরকাল।

পুরনো সেই স্মৃতি মনে উঠতেই চোখের কোণে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। মন খারাপ হলে নিভৃতে মৌনী হয়ে তাকিয়ে থাকে শিবলী। রাস্তার মাঝে থ হয়ে বিজন চাওনি তে দেখে ওর চলে যাওয়া। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে ব্যস্ত পথের জীবন্ত যানবাহনের দিকে। সবকিছুই ছুটে চলছে আপন গতিতে। জীবনটা কি এরকমই! চলে যায় যে যার মতো। 

হঠাৎই ট্রাক এসে আঘাত করে পেছন থেকে। এরকম আঘাতে কেউ বেঁচে ফিরতে পারে না। কিন্তু রক্তাক্ত দেহে প্রাণটা এখনও আছে। নিয়ে যাওয়া হয় কমিউনিটি বেসড মেডিকেল হসপিটালে। কিছুক্ষণ পর কাঁদতে কাঁদতে চলে আসে হলের সব বন্ধু বান্ধব। এই প্রথম একসাথে এতগুলো যুবক ছেলে কাঁদছে। বন্ধুগুলো আসলে এই রকমই হয়। জগতে মৃত্যুটা মাঝে মাঝে খুব কঠিন, আবার মাঝে মাঝে খুব সহজ। শিবলীও মরে যেতে পারতো। কিন্তু মরবে কিভাবে, ভালবাসার উত্তরটা যে এখনও বাকি রয়ে গেছে। তাই হয়তো সৃষ্টিকর্তা ওকে প্রাণে মারে নি, বাচিয়ে রেখেছে সেই উত্তরের আশায়।

ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ছিল তিনদিন। দুনিয়াতে ওর আপন বলতে আছে মমতাময়ী এক মা। ছেলের খবর শুনে নীলফামারী থেকে ছুটে এসেছে মা আর মামা। বাবা নেই। দশ বছর আগে মারা গেছে রোড এক্সিডেন্টে। তাই মায়ের চিন্তার অন্ত নেই। মায়ের মনে বারবারই জাগে শমনের ভয়। মা ছেলের শিয়রে বসে কাঁদে আর হাত তুলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে প্রার্থনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে। সৃষ্টিকর্তা হয়তো ওর মায়ের প্রার্থনা সেদিন কবুল করে নিয়েছিল।

চারদিন পরেই ও মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠে। কিন্তু ডাক্তার বলে দেয় পনেরো দিনের আগে বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। আশেপাশে ও প্রতিদিনই খুঁজে বেড়ায় অপূর্বার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু খুঁজে পায় না একটি বারের জন্যেও। কতটা নির্মম হৃদয়ের মেয়ে অপূর্বা!

একটি বারের জন্যও দেখতে আসতে মন চাইল না ওর। অতীতের রঙিন আলপনা মাখা স্মৃতিগুলো বারবার আঘাত দিয়ে যায় ওর পীড়িত দেহের ভীত মনটাতে।

এদিকে অপূর্বার মনটাও খারাপ। কেন খারাপ তা ও জানে না। মেয়ে মানুষের কান্নাটা খুব রহস্যের। ওর কান্নাটা আরও বেশি রহস্যের। ওর মন কেন জানি আতঙ্কের স্পন্দনে কম্পিত হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে ও হারাতে চলেছে আপন কাউকে। কিন্তু হারাবেই বা কাকে! সেদিনের ঘটনার পর রাগ করে ভেঙ্গে ফেলেছে নতুন কেনা মুঠোফোনটি। অকারণে মায়ের সাথে রাগ করে চলে এসেছে নানু বাসায়। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ১৬ নং হাউসিং সোসাইটির বিপরীতে ওর নানু বাসা। কিন্তু মনটা কেন খারাপ তার কারণ ও খুঁজে পায় না।

শিবলী ওর বন্ধু মেহেদিকে বলেছিল অপূর্বাকে ফোন করে জানাতে। মেহেদি ওকে ফোনে না পেয়ে, ওর কয়েকজন বান্ধবীকে বলে দেয় শিবলীর এক্সিডেন্টের কথা। ওরাও চেষ্টা করেছে অপূর্বার সাথে যোগাযোগ করার। কিন্তু পারেনি।

বিবাগী মনে অপূর্বা তাকিয়ে থাকে আকাশে। রাতের আকাশে দুটো তারাকে পাশাপাশি দেখে খুব হিংসে হয় ওর। ভাবে, সেদিন ওর সাথে এমন করাটা ঠিক হয়নি। ছেলেটা মনে হয় খুব কষ্ট পেয়েছে। এখন ও আবার নিজেই আফসোস করে তখন মনটা অনুগ্র হলো না কেনো! তাহলেই তো ঝামেলা হতো না।

ওর চঞ্চল মন আবার এটাও ভাবে, প্রেমে যদি একটু বিরহের ছোয়া না লাগে, তাহলে তাকে প্রেম বলে না। তখন সেটা হয়ে যায় নিতান্তই ভালো লাগা। ও বুঝে ভালোলাগা এবং ভালোবাসা এক জিনিস নয়। সে হিসেবে ও ভাবে, যা করেছি, ঠিকই করেছি ওর সাথে।

তবে ওর অদ্ভুত আচরণে কষ্ট পেয়ে শিবলী এখন মৃত্যু পথযাত্রী। কোনমতে বেঁচে আছে। ওর কাছে এই সত্যটা এখনো অজানা। কিন্তু অনুভব করছে অশুভ কিছু একটা ঘটেছে। কোন কারন খুঁজে না পেয়ে একান্তে বসে বসে কেঁদে কেঁদে সময় কাটায়।

পাঁচদিন পার হলেই বাসায় ফিরবে। কারণ, ভার্সিটিও অফ আছে। সমস্যা হবে না কোনো।

ওর বাসা ময়মনসিংহের আকুয়ায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনা করছে ফিসারিজ অনুষদে। শিবলী পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পরিচয় হয়েছিল গতবছর। ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবসের দিন।আজ মার্চ মাসের দশ তারিখ। এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে ওদের অপরিচিত থেকে খুব কাছের মানুষ হবার।

অপূর্বার বাসা ময়মনসিংহ হলেও থাকে বেগম রোকেয়া হলে। এদিকে আজকে শিবলীর মাথায় অপারেশন হবার কথা। কিন্তু খুব ভয় পাচ্ছে ও। মামা এসে সাহস দিয়ে যায়, বন্ধুরা এসে সাহস দিয়ে বলে, "কিছু হবে না দোস্ত। তুই আবার সুস্থ হয়ে উঠবি।" ও সাহস পায় বুকে। মা হাত বুলিয়ে দেয় মাথায়। নিজ হাতে খাইয়ে দেয় ছেলেকে। ছেলে বলে, " আর কত কাঁদবে গো মা! এই তো আর কয়েকটি দিন।তারপরেই আমি সুস্থ হয়ে উঠছি।" মা ছেলের কথা শুনে হাসে, তারপর আবার কাঁদে লুকিয়ে লুকিয়ে। সেই কান্না চোখে পরে না শিবলীর। 

সন্ধ্যায় অপারেশন হবে। অপারেশন করার সময় হঠাৎই রক্তের প্রয়োজন পড়ে। ও নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত। মেহেদি বিশ্ববিদ্যালয়ের "বাঁধন " সংগঠন কে ফোন দেয় কিন্তু এই গ্রুপের রক্ত নেই। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়েও পাওয়া যায়নি রক্ত। ডাক্তার বলছে, "রোগীর অবস্থা খুব সিরিয়াস। খুব তাড়াতাড়ি রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে।"

এদিকে কিছুক্ষণ আগেই হলে ফিরে এসেছে অপূর্বা।এসে শিবলীর দূর্ঘটনার কথা শুনে বিবশ হয়ে পড়ে ও। বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্স নিয়ে চলে আসে হাসপাতালে। এসে দেখে সবাই কাঁদছে। কোথাও নেই ও নেগেটিভ রক্ত। ও বলে, " আমার ও নেগেটিভ রক্ত। আপনারা প্লিজ রোগীকে বাঁচান। " ডাক্তার ওর রক্তের চেক আপ করে এক ব্যাগ রক্ত নিয়ে যায় অপারেশন থিয়েটারে । নার্স আবার চলে আসে ভীত হয়ে। এসে বলে, " আর ও এক ব্যাগ রক্ত লাগবে।" ডাক্তার বলে দেয়," রক্তদাতার শরীর থেকে এরচেয়ে বেশি রক্ত নেয়া সম্ভব হবে না।"

কিন্তু অপূর্বা পাগল হয়ে গেছে। বারবার বলে উঠছে, "যত রক্ত লাগে নিন। কিন্তু আমার শিবলীকে আপনারা বাঁচান। ওকে খুব ভালোবাসি আমি। ওকে ছাড়া বাঁচব না আমি।"

হঠাৎই শুরু হয় ঝোড়ো বৃষ্টি।

ডাক্তারের নিষেধ সত্ত্বেও ও রক্ত দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। একদিকে বিত্তীর্ণ জার্নি, অর্ধভুক্ত দেহে দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া! রক্ত নেবার পর অপূর্বা চোখ মেলে না। একদিকে শিবলীর অবস্থা মুমূর্ষু। অন্যদিকে অপূর্বা এখন সিরিয়াস ওয়ার্ডে। এক ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনও চোখ মেলছে না অপূর্বা। ঝড়ের বেগ আর-ও বেড়েই চলছে। ডাক্তাররা খুব চেষ্টা করছে দুজনকে বাঁচাতে। দুইটা সিরিয়াস ওয়ার্ড থেকে দুইজন ডাক্তার বের হয়ে আসে বেদনাকান্ত মন নিয়ে।

কিভাবে বলবে সেই কথা বুঝে উঠতে পারছে না। সব দোষ-ই যে নিয়তির। নিয়তি কেন নিয়ে আসলো অপূর্বাকে। অপূর্বা যে কতটা ভালবাসে শিবলীকে, শিবলীর আর জানা হলো না। মনে অতৃপ্তি নিয়েই মারা গেলো দু'জনে। খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎই বৃষ্টি কারণ কী? মনে হয় ওদের দুজনের জন্ম দিনেই খুব বৃষ্টি হয়েছিল। তাই হচ্ছে আজও।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত