ঘি চেনার উপায়

রাত পোহালেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ। আর ঈদ মানেই ঘোরাফেরা, সাজগোছ, নতুন পোশাক পরা ইত্যাদি। সঙ্গে যোগ হয় খাওয়া-দাওয়া। আর খাওয়া-দাওয়া মানেই বাজারের তালিকায় যোগ হয় ঘি। ঘি ছাড়া বিশেষ বিশেষ রান্না তো হবেই না। তাই ঘি না থাকলে খাবারের তারিকা যেন পূর্ণ হয় না।
ঘি ব্যবহারে পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি, রোস্ট, সেমাইসহ বিভিন্ন খাবারে শাহী-নবাবী স্বাদ নিয়ে আসা যায়। তাই ঈদের বাজারে ঘিয়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
উৎসব মানেই বাধা-নিষেধহীন খাবার খাওয়া। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে আসল-নকলের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আর তাই স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য কেনা চাই। বাজারের তালিকা থেকে যেমন ঘি বাদ যায় না, তেমনি ভেজালের তালিকা থেকেও বাদ যায়নি ঘি। তাই ঘি কেনার আগে জানতে হবে আসল ঘি কেনার উপায়।
পরিচিত দোকান থেকে ঘি কেনা হলেও বাড়িতে এসে সবসময় আগে পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। কারণ নানা সময়ই ঘিয়ে ভেজাল মেশানোর খবর পাওয়া যায়। তাই দোকান থেকে আপনি আসল ঘি কিনছেন নাকি ভেজাল মেশানো, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
তাপমাত্রা: একটি প্যানে ১ চামচ ঘি নিয়ে গরম করুন। যদি ঘি তাৎক্ষণিকভাবে গলে যায় এবং গাঢ় বাদামি রঙে পরিণত হয়, তবে এটি খাঁটি ঘি। যদি ঘি গলতে সময় নেয় এবং হলদে হয়ে যায় বুজতে গবে এটি ভেজাল ঘি।
পাম টেস্ট: ১ চা-চামচ ঘি নিন হাতের তালুতে। ঘি যদি ত্বকের সংস্পর্শে আপনাতেই গলে যায় তবে বুঝবেন ঘি আসল। এর ব্যতিক্রম হলে ওই ঘি এড়িয়ে চলুন।
গরম পানিতে পরীক্ষা: একটি কাচের বয়ামে সামান্য পরিমাণ ঘি নিন। একটি গরম পানির পাত্রে বয়ামটি বসিয়ে গরম করুন। ঘি গলে গেলে ফ্রিজে রেখে দিন বয়াম। ঘি যদি এক লেয়ারে জমে তাহলে বুঝবেন খাঁটি ঘি। কিন্তু যদি দুই লেয়ারে জমে, তা হলে বুঝবেন ঘিয়ের সঙ্গে নারিকেল তেল মেশানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘি এবং নারকেল তেলের দুটি আলাদা লেয়ার দেখতে পাবেন।
আয়োডিন টেস্ট: অল্প পরিমাণ ঘি গলিয়ে তার মধ্যে দুই ফোঁটা আয়োডিন সলিউশন মিশিয়ে নিন। আয়োডিন যদি বেগুনি রঙ ধারণ করে তাহলে বুঝবেন ঘিয়ে ভেজাল আছে।
বোতল টেস্ট: এক চামচ ঘি গলিয়ে একটি স্বচ্ছ বোতলে রাখুন। এবার এতে এক চিমটি চিনি দিন। এরপর বোতলের মুখ বন্ধ করে খুব জোরে জোরে ঝাঁকান। ৫ মিনিটের জন্য বোতলটি স্থির অবস্থায় রেখে দিন। এরপর খেয়াল করুন বোতলের নিচে লাল রঙের আস্তরণ পড়েছে কি না। যদি লাল রঙের আস্তরণ পড়ে, তাহলে বুঝবেন ঘিয়ে ভেজাল আছে।
এসএন
