বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বাজারে প্রবেশকারী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত জানান। এতদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল।
নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ৭৩৪ কোটি ডলারই তৈরি পোশাক। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘোষণায় উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও এসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক বাড়াচ্ছে। নতুন শুল্ক হার অনুযায়ী, ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া, মিয়ানমার, লাওস ও কম্বোডিয়ার পণ্যের ওপর যথাক্রমে ৪৪, ৪৮ ও ৪৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বিদেশি গাড়ি আমদানিতেও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি দেশের শিল্পখাতের পুনর্জন্মের দিন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং নতুন এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
বাংলাদেশের জন্য এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নতুন রপ্তানি বাজারের সন্ধান করতে হবে।
