শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

পরাশক্তি হওয়ার পথে চীন

ভেঙে পড়ছে মার্কিন সাম্রাজ্য!

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। কেউ কেউ শীতল যুদ্ধের সূত্রপাত হচ্ছে বলেও অনুমান করছেন। ইতিহাসবিদ আলফ্রেড ম্যাকয়ের মতে, অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ সংগঠিত হতে পারে। তবে চীন যেখানে পরাশক্তি হওয়ার পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, সেখানে মার্কিন আধিপত্য ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।

দুই দেশের উত্তেজনা নিরসনে গত ১৬ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেও বাইডেনকে সতর্ক করে শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করা হবে ‘আগুন নিয়ে খেলা’। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার ভার্চুয়াল সাক্ষাতে শি জিনপিংকে তাইওয়ান ইস্যুতে সংঘর্ষে না জড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জলবায়ু ইস্যুর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই এই বৈঠক হয়।

চীনের উত্থান মোকাবেলা করতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জোট গঠনের সমালোচনা করেন শি জিনপিং। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকে বিভক্ত করলে অবশ্যই বিশ্বে বিপর্যয় আসবে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাধিকার রেকর্ড প্রকাশ করে। যেখানে চীনের ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতি বর্ণনা করা হয়েছে। বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ সাক্ষাতে জো বাইডেন দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বার বার প্রকাশ করতে চাইলেও তাইওয়ানের প্রসঙ্গটি এড়াতে পারেননি। যা বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। চীন তাদের একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রদেশ হিসেবে তাইওয়ানকে মূল্যায়ন করে। যা কোনো একদিন মূলভূমির সঙ্গে ঐকীভূত হবে বলে চীনের বিশ্বাস।

আবার বাইডেন তাইওয়ানের স্বাধীনতা অর্জনে যে কোনো সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। যা চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে বৈরি সম্পর্কের দিকে ধাবিত করছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে পেন্টাগন মার্কিন-চীনের মধ্যে এক ধরনের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় রয়েছে। পররাষ্ট্র খাতের শেষ ১৮টি প্রতিযোগিতার সবগুলোতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হেরেছে।

চীনের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। আর তাইওয়ানের অবস্থান চীনের পাশেই। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালীতে বিমানবাহী রণতরী স্থানান্তর করে, চীন সেই বিমানবাহী রণতরীগুলো ধ্বংস করতে পারে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধের শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি সেই সংঘাতের উদ্ভব হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি যুদ্ধ লড়তে হবে, যা হারার সম্ভাবনাই বেশি।

ম্যাকয় বলেন, একটি গভীর ভূরাজনৈতিক লড়াই চলছে। বিগত পাঁচ দশকে, বিশ্বের প্রায় সব পরাশক্তি একইভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে। পর্তুগাল থেকে হল্যান্ড, ব্রিটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং এখন চীন এই আধিপত্যের খেলায় নাম লিখিয়েছে, যেখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের আবাসস্থল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ২০১৪ সালের মধ্যে চার ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছে। চীন এই বিশাল অবকাঠামোতে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। রেল, রাস্তা এবং গ্যাস পাইপলাইনের ইস্পাত গ্রিড স্থাপন করে বিশাল ইউরেশীয় ল্যান্ডমাসকে যুক্ত করেছে। যেখানে বাণিজ্য ও শক্তি বেইজিংয়ের দিকে প্রবাহিত হতে চলেছে।

মার্কিন-রুশ কথিত ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পশ্চিম ইউরোপে ন্যাটো জোট গঠন এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চারটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ইউরেশিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আধিপত্য বিস্তারের জন্য ইস্পাত, বিমানবাহী রণতরী, জেট, যুদ্ধ বোমারু বিমানের ব্যান্ড দিয়ে ইউরেশিয়াকে আবদ্ধ করা হয়। ইউরেশীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ভূরাজনৈতিক আধিপত্য ভাঙার চেষ্টা করছে চীন। বর্তমানে চীন ইউরেশীয় ল্যান্ডমাস ও আফ্রিকার উপকূলে ৪০টি বন্দর তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অর্থনৈতিকভাবে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এ দুই দেশ বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ একসঙ্গে করে। তাদের পৃথক হওয়ার কোনো সুযোগও নেই। চীন অর্থনৈতিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ওপর নির্ভরশীল। চীনের রফতানি আয়ের মূল উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে চীনের উৎপাদিত পণ্যের ওপর মার্কিন ভোক্তাগোষ্ঠী অনেকাংশে নির্ভরশীল।

অন্যদিকে মার্কিন-চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিযোগিতাও অসম। চীন অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং সংস্থা প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্সের মতে, এই দশকের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনীতি মার্কিন অর্থনীতির চেয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বড় হতে চলেছে। চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক না রাখলেও বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে পারবে। কারণ চীন দিনে দিনে অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
সেই অর্থনৈতিক শক্তির কারণে চীন তার সামরিক ক্ষেত্রগুলোকে অনেক সম্প্রসারিত করছে। সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।

মার্কিন ইতিহাসবিদ ম্যাকয় বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সিংহভাগ করা হয়েছে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে। এর কৌশলগত কারণ ছিল–মধ্যপ্রাচ্যের তেলকে সুরক্ষিত রাখা। একটি পণ্য সুরক্ষিত করতে ৮ থেকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি, যা ইতিহাসের ডাস্টবিনে চলে যাচ্ছে।’ এটিকে একটি ব্যর্থ কৌশল ছিল বলে মনে করেন সমালোচকরা।

মানুষ নৌবাহিনীকে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রয়োজন বলে ধারণা পোষণ করে; কিন্তু যুদ্ধ ছাড়াও নৌবাহিনীর বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়। একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আধিপত্যে মহাসাগরগুলো সুরক্ষিত রাখতে টহল বাড়ানো জরুরি। কারণ খনিজসম্পদ ও মৎস্যসম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে সব দেশেরই সামুদ্রিক টহল জোরদার করা প্রয়োজন। যেদিক থেকে চীনের চিন্তা সুদূরপ্রসারী। চীন আকাশ ও সমুদ্র সীমানায় অবিরাম টহলদারি করছে। দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে সাতটি দ্বীপ ঘাঁটি তৈরি করছে চীন। এটি একটি সাম্রাজ্যবাদী খেলার অংশ। যা চীন পাঁচশ বছর ধরে সফলভাবে খেলে আসছে।

বিশ্ব নেতা হওয়ার পথে চীন

বিশ্বে এখন পর্যন্ত এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন দ্রুতগতিতে এ ভূমিকায় চলে আসতে চায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এরইমধ্যে পরাশক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

প্রচলিত ধারণা রয়েছে–চীন শুধু আঞ্চলিকভাবে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চায় এবং সে ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কিছুটা হ্রাস পাবে। যেখানে বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হয়ে ওঠার কোনো লক্ষ্য ছিল না চীনের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গা নিতে চীন প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে–এমন লক্ষণ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই চীনের বর্তমান সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে প্রথম ঘোষণাটি আসে ২০১৭ সালে। সে সময় তিনি বলেন, চীন একটি ‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করেছে এবং তারা অবশ্যই ‘বিশ্বে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবে’। এর দুই বছর পর ওয়াশিংটনের সাথে বেইজিংয়ের নাজুক সম্পর্ক বোঝাতে প্রেসিডেন্ট শি ‘নিউ লং মার্চ’ আইডিয়াকে ব্যবহার করেন।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল–এ চার বছরের মধ্যে জার্মানি, ভারত, স্পেন ও ব্রিটেনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি জাহাজ সমুদ্রে ভাসিয়েছে চীন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে নিজেদের অগ্রাধিকার ধরে রাখতে উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তারা। এশিয়া-ভূমধ্যসাগরসহ অন্যান্য অঞ্চলেও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেইজিং।

নতুন প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথমে আঞ্চলিক পর্যায়ে আধিপত্য স্থাপনের পর বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে চীনকে। তবে এই আধিপত্য স্থাপনের অর্থ কোনো দেশকে জোরপূর্বক দখল নয়।

প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর ভেটো দেওয়ারও অধিকার অর্জন করতে হবে। এ ছাড়া অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন মিত্র জোটের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করতে হবে ও চীনের উপকূল থেকে মার্কিন সামরিক শক্তিকে ফেরত পাঠাতে হবে। তাইওয়ান বা হংকং প্রশ্নে এ বিষয়টিই সামনে এসেছে। আর এ ক্ষেত্রে কার্যত মার্কিন আধিপত্য প্রশ্নের মুখেই পড়েছে। ভেঙে পড়ছে মার্কিন আধিপত্য। যেখানে চীন এক নম্বর শক্তি হওয়ার পথে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।

/টিটি/এসএ/

Header Ad

ভিসা কবে উন্মুক্ত করবে সেটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার: হাসান আরিফ

ছবি: সংগৃহীত

ভূমি এবং বেসামরিক বিমান, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফ জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশিদের জন্য কবে থেকে ভিসা উন্মুক্ত করে দিবে, তা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার, এটা নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য দেয়ার কিছু নেই।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর নবনির্মিত ওয়ামি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসান আরিফ বলেন, দেশের পর্যটন বিকাশে তার মন্ত্রণালয় বিশদ পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

এ সময় তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দানকৃত জমিতে গড়ে তোলা হবে হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সমাজে অবস্থার কারণে বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। ওয়ামী তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। তবে শিক্ষার পাশাপাশি যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে ওয়ামি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। অন্যতম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সৌদি রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলান,ওয়ামী সচিবালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর ড. আব্দুল হামিদ ইউসুফ আল মাজরু, ওয়ামী কার্যালয়ের বৈদেশিক অফিস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিরেক্টর সাআ’দ আব্দুল্লাহ বিন জাবর ও ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক আল আমের প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন, জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহামেদ, উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার দিল আফরোজ।

এর আগে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পর ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। নবনির্মিত ওয়ামি কমপ্লেক্স ভবনে রয়েছে দ্বিতল বিশিষ্ট সুপরিসর মসজিদ, ১০০ জন এতিম শিশুর জন্য উন্নত মানসম্পন্ন আবাসন ব্যবস্থা, ১টি ক্যাডেট মাদ্রাসা, ১টি নুরানী ও হিফজ মাদরাসা, ১টি লাইব্রেরি হল, ১টি হলরুম ও কনফারেন্স রুম, তরুণ শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লার্নিং জন্য একটি আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার ও ডাইনিং হল। এ ছাড়াও কমপ্লেক্স এর অবশিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে একটি হাসপাতাল, স্কুল, ভোকেশনাল সেন্টার, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ডরমিটরি ও প্লে গ্রাউন্ড নির্মাণের বিষয় তিনি উল্লেখ করেন।

Header Ad

জুরাইন রেলক্রসিং ছাড়লেন রিকশাচালকরা, ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

জুরাইন রেলক্রসিং ছাড়লেন রিকশাচালকরা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর জুরাইন রেলক্রসিং থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা সরে গেছেন। এর ফলে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে এ ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা তিনটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এবং পদ্মা সেতু হয়ে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কে চলতে দেওয়ার দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন রিকশাচালকেরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে রিকশাচালকরা জুরাইন রেলক্রসিং অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশপাশের সড়কগুলোয় যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। তবে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে রিকশাচালক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে রেললাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রেল চলাচল শুরু হয়।

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে লাঠিপেটা করতে বাধ্য হয়েছে। বেলা দেড়টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মহাখালী রেলগেট এলাকায় অটোরিকশাচালকদের অবরোধে সোয়া ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে রেলযাত্রীরা।

এর আগে গত সোমবার তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আরজতপাড়ায় রেলপথ অবরোধ করে। এ সময় আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।

আন্দোলন চলাকালে সম্প্রতি ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই ট্রেনের নারী-শিশুসহ অনেক যাত্রী আহত হয়। ওই ঘটনায় উপকূল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

Header Ad

পাঁচ দেশে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা

পাঁচ দেশে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা। ছবি কোলাজ: ঢাকাপ্রকাশ

বিশ্বের পাঁচটি দেশে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ওই পাঁচটি হলো: থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া।

মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবাসী কিছু অসাধু ব্যক্তি ও এসব দেশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু স্ক্যাম প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার অপারেটর, টাইপিস্ট, কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে (ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি) প্রচার কার্যক্রম/নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছে। এসব ক্ষেত্রে স্ক্যাম সেন্টারগুলো বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশিদেরও সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক জিম্মি করে স্ক্যামের কাজে নিয়োজিত করছে।

ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় গড়ে ওঠা স্ক্যাম সেন্টারগুলো থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত/পালিয়ে আসা বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারসমূহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সতর্কতা বার্তায় আরও বলা হয়েছে, এসব দেশে সাইবার স্ক্যাম নিয়ে কাজ করছে এরূপ এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের এসব দেশে কম্পিউটার পরিচালনা সংক্রান্ত চাকরির প্রস্তাব পেলে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা অথবা জনশক্তি, কর্মস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সহযোগিতায় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে/বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের টার্গেট করে আর্থিকভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে। দেশে/বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করলে প্রতারক চক্রটি তাৎক্ষণিকভাবে এসব লেনদেনের অ্যাকাউন্ট বন্ধের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে জানিয়েছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে দেশে/বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ভিসা কবে উন্মুক্ত করবে সেটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার: হাসান আরিফ
জুরাইন রেলক্রসিং ছাড়লেন রিকশাচালকরা, ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
পাঁচ দেশে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
সাফজয়ী নারী ফুটবলার আইরিনকে নওগাঁয় সংবর্ধনা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেবে পাকিস্তান
বেনাপোলে সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার
পুলিশ-অটোরিকশা চালক সংঘর্ষ, ঢাকা-পদ্মা সেতু ট্রেন চলাচল বন্ধ
ভারতীয় সাবমেরিনের সঙ্গে মাছ ধরা নৌকার সংঘর্ষ, নিখোঁজ ২
সংসার ভাঙার দুদিন পরই সুখবর দিলেন এ আর রহমান
ঢাকায় পৌঁছেছেন বাইডেনের বিশেষ প্রতিনিধি
আ.লীগকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবানন থেকে ফিরলেন আরও ৮২ বাংলাদেশি
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৪৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন
তামিমকে অধিনায়ক করে বাংলাদেশের দল ঘোষণা
নতুন নির্বাচন কমিশন শপথ নেবে রোববার
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৪৪ হাজার
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন মাহফুজ-আসিফ-নাহিদ
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
‘দেশের মানুষ এখনো কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারে না’