অসাধু ব্যবসায়ীর অপবাদ থেকে মুক্তি চাই: এফবিসিসিআই সভাপতি

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, আমরা খারাপ মানুষের পক্ষে নয়, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে নীতি-নৈতিকতার মধ্যে। ভেজাল ও নকল এই দুইটি মারাত্মক জিনিস। তাই অসাধু ব্যবসায়ীর অপবাদ থেকে মুক্তি চাই।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গণশুনানি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবন মিলনায়তনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
জসিম উদ্দিন বলেন, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেজালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তারপরও আমরা ভেজাল দিচ্ছি। খোলা তেলে ভেজাল দিয়ে বেশি দাম নিচ্ছি। এ থেকে মুক্তি চাই। পৃথিবীতে কোথাও খোলা তেল নেই। তাই আমাদেরও খোলা তেল বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। অন্যের পণ্য এনে ব্যবসা করা যাবে না। ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে গিয়ে ভোক্তা আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল করতে কিছু নিত্যপণ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিৎ। তেল, চিনির দাম সরকার বেঁধে দিয়েছে। তবে সব জায়গায় ধরা ঠিক না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে নীতি-নৈতিকতার মধ্যে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আইন করলেও অনেকে নিজেই মানে না। এনবিআর কাউকে অহেতুক ২০০ শতাংশ জরিমানা করলে এটা ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সবাইকে সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পরিমাণ কমিয়েছে। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা করা হয়েছে। এমন কোনো কাজ করা ঠিক হবে না যাতে ভাবর্মূতি নষ্ট হয়। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে। কারণ ইচ্ছা করলেই জোর করে আলু ও পেঁয়াজের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।
এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না করতেই ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে টাকা থাকলেও জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না। ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা গেলেও বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ ২৫ ডলারের জ্বালানি ১৫০ ডলার হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের কৃষক ফসল উৎপাদন করে, প্রবাসী যোদ্ধারা রেমিট্যান্স এনে ও রপ্তানিকারকরা পণ্য রপ্তানি করে দেশকে ভালো রেখেছেন। তারপরও আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এজন্য সরকার বিলাসী পণ্যে বেশি কর বসিয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মো. জসিম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরাও ভোক্তা। তাই আমরা সবাই এক পক্ষ। তবে কেউ দুষ্কৃতকারি থাকলে আমরা তার পক্ষে নয়। এটা দেখার বিষয়।
অনুষ্ঠানে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেডএ/এসএন
