রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫ | ১৫ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বছরজুড়ে ভোগান্তির রেকর্ডে ব্যাংকিং খাত

করোনার ধকল সামলে উঠতে না উঠতে বছরের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাণ্ডবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। বিশ্বে পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়লে ডলারের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। ৮৬ থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে থাকে।

বিলাসী পণ্যের শতভাগ ঋণ মার্জিন ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না রিজার্ভ সংকট। ৪৬ বিলিয়ন থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপির তকমা কমাতে ঋণ পুনঃতফসিলকরণ ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। তারপরও ঋণ গ্রহীতারা ঠিকমতো তা পরিশোধ করছেন না। এর ফলে এক লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকায়। এভাবে ব্যাংকিং খাাত সারাবছরই ভুগিয়েছে দেশের মানুষকে।

অস্থির ডলারের বাজারে রিজার্ভে টান

আমদানি ব্যয় মেটাতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে। এক সময়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থাকলেও কারও মুখে কোনো টু শব্দ দেখা যায়নি। কিন্তু করোনার পরে আমদানি ব্যয় মেটোতে হলে রিচার্ভে বাড়তে থাকে চাপ। চলতি বছরের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ছিল ৪৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হলে আকাশে দেখা দেয় মেঘ। অর্থনীতিতে মারাত্বকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। দেশের প্রায় নিত্যপণ্য আমদানি নির্ভর হওয়ায় বাড়তে থাকে ডলারের চাহিদা।

এর ফলে বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে প্রতি ডলার ৮৬ টাকায় বিনিময় হলেও প্রতি মাসে বাড়তে থাকে চলারের চাহিদা। এ কারণে দামও বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরে ১১৫ টাকায় উঠে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক দাম নির্ধারণ করেও তা রুখতে পারেনি। পরে ব্যাংকের দাবির মুখে তা বাজারের উপর ছেড়ে দেয়। বাফেদার হাতে ডলার ছেড়ে দিলেও তা ১০৭ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। আর খোলা বাজারে তা ১২০ পর্যন্ত ডলার বেচাকেনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও প্রতিদিন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে। তারপরও মিটছে না ডলারের সংকট। কোনো ব্যবসায়ীই ঠিকমতো এলসি ঋণপত্র খুলতে পারছে না।

বাধ্য হয়ে চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৯৫০ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। ডলার বিক্রি করতে থাকায় রিজার্ভের পরিমাণও দিন দিন কমছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) ডলারে নেমে গেছে। এ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ কয়েকটি তহবিলে বিনিয়োগ করা হয়েছে ৮০০ কোটি (৮ বিলিয়ন) ডলার।

এই তহবিলের বিনিয়োগ রিজার্ভ হিসেবে মানতে নারাজ আইএমএফ। তা নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় উছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য হচ্ছে এই বিনিয়োগ করা অর্থও রিজার্ভের। কাজেই এটা বাদ দিলে রিজার্ভ থাকে ২৬০০ কোটি (২৬ বিলিয়ন) ডলার, যা দিয়ে বর্তমানে সাড়ে চার মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব। এটা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

হুন্ডির রমরমা ব্যবসাতে রেমিট্যান্সে ভাটা

আমদানির লাগাম টানতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও ডলারের সংকট কমেনি। সরকার রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে গত জানুয়ারিতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে। তারপরও দেশে বৈধ চ্যানেলের চেয়ে অবৈধ পথে শুধু ঘোষণার মাধ্যমেই হুন্ডিতেই বেশি আসছে রেমিট্যান্স। ডলার নিয়ে দেশে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় প্রবাসী আয়ে এক দর বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরফলে কোনো ব্যাংক বেশি দামে বিদেশ থেকে আয় সংগ্রহ করতে পারবে না। অন্যদিকে, দেশে মার্কিন ডলারের চরম সংকট দেখা দেওয়ায় সরকারের আমদানি দায় পরিশোধে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়েও লাগামহীন খেলাপি ঋণ

২০২০ সালের মার্চে করোনা শুরু হলে গত দুই বছর ধরে ঋণ আদায়ে নানাভাবে ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে ২০২০ সালের শুরু থেকেই মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ নবায়নে ছাড় দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল শপথ নিয়েই বলেছিলেন, ‘আজ থেকে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না।’

ব্যাংক মালিকরাও বলেছিলেন, এটা কার্যকর করা হবে। তারপরও বাড়ছে খেলাপি ঋণ। কোনোক্রমেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে অনেকে ঠিকমতো তারা পারিশোধ করছেন না। এরফলে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের প্রায় ৮ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাব মতে, সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর নয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৩১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

ডিসেম্বর প্রান্তিকের কেলাপি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এটা করা হলে খেলাপি ঋণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

সাবেক অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর হয়েই গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয়েছে , এখন থেকে খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক মালিকরাই এখন ঋণখেলাপিদের কী সুবিধা দেওয়া যাবে তা ঠিক করে দেবেন। আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগলেও সেই ক্ষমতা পুরোটাই ব্যাংকগুলোর হাতে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায়, খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। আগে নিয়মিত করতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হতো। আগে এ ধরনের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় থাকলেও সময় বাড়িয়ে তা ৫ থেকে ৮ বছরে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ৫০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ স্থিতিকারিরা এই সুবিধা পাবেন। শুধু তাই নয়, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ পুনরায় খেলাপি হওয়ার পূর্বে কোনো পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে ‘খেলাপি ঋণ’ এবং গ্রাহককে ‘খেলাপি ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সর্বশেষ চলতি বছরে গত ২০ জুলাই ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ও ঋণের সুদহার বেঁধে দেওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই খাতে। সুদহার বেঁধে দেওয়ার পর আমানত হারাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত কমেছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

বিলাসপণ্য আমদানিতে কড়াকড়ির রেকর্ড

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়ে দেশে। কারণ তেল, চিনি, গুড়া দুধসহ প্রায় পণ্য আমদানি নির্ভর হওয়ায় ডলারে টান পড়ে। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয় এলসি খুলতে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত করতে আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কীম চালু করে। একইসঙ্গে বিলাস জাতীয় দ্রব্য, বিদেশি ফল, অশস্য খাদ্যপণ্য, চিনজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এলসি ঋণ মার্জিন ৭৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া, আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক গাড়ি, টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণসহ ২৭ পণ্যে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, রপ্তানি বিল পাওয়ার এক দিনের মধ্যে নগদায়ন, বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়িসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

আমদানি ব্যয়ের চাপ কমাতে বিলাসীপণ্য আমদানির লাগাম টেনে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোটরকার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে অতি জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে বলা হয়।

বেশি দামে ডলার বিক্রি করায় জরিমানা

মে মাস থেকে ডলারের বাজার অস্থির হয়ে যায়। এ সুযোগে কিছু মানি এক্সচেঞ্জ যোগসাজস করায় ৮৬ টাকার ডলারের দাম ১১০টাকা ছড়িয়ে গেছে। তা এ নিয়ে দেশে হই-চই পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিযান শুরু করে। ডলারে কারসাজি করায় ২ আগস্ট পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪২ মানি এক্সচেঞ্জকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া, মার্কিন ডলারের সংকটকে পুঁজি করে অনৈতিক সুবিধা নেয় ১২ ব্যাংক। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার মজুত করে বড় অঙ্কের মুনাফা করে তারা। কোনো কোনো ব্যাংক ডলার বিক্রি করে ৭৭০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এমডিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থপাচারের তথ্য অধরা

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লোক গেছেন এক লাখের বেশি। এভাবে চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাজের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ কর্মী গেছেন। কিন্তু তারপরও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসছে কম। বেড়েছে হুন্ডির রমরমা ব্যবসা। করোনার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

অপরদিকে, বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন ফাঁক ফোকরে দেশ থেকে প্রচৃর অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। বহু সন্দেহজনক লেনদেনও হচ্ছে। তারপরও এর সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস সম্প্রতি এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের কৌশলগত দুর্বলতা এবং উদার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে লন্ডারিংকৃত অর্থ সহজেই বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে ঢুকে পড়ে। আবার খুব সহজে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যায়। এসব অর্থ ফেরাতে বাধ্য হয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্ততায় বলেছেন, ‘পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনলে কথা দিচ্ছি কোনো প্রশ্ন করা হবে না। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, অস্থাবর সম্পত্তিতে ১০ শতাংশ এবং নগদ টাকা আনলে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। এই সুযোগ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। তারপরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশ

খেলাপি ঋণ হুহু করে বাড়তে থাকলেও সেদিকে নজর না দিয়ে ব্যয় কমানোর অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কর্মকর্তাদের চাকুরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে এই বছরে। তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসলে বাধ্য হয়ে বছরের শুরুতেই ২৫ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয় আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অজর্ন করতে না পারা বা কোনোরূপ প্রমাণিত অভিযোগ ছাড়াই অদক্ষতার অজুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি হতে বঞ্চিত বা চাকুরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না। তা পালন করতে তফসিলভুক্ত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় অন্য এক সার্কুলারে দেশের বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি শুরুর বেতনকাঠামোও বেঁধে দেওয়া হয়। তাতে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার/ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার/ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার অথবা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা-যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, ব্যাংকের অ্যান্ট্রি লেভেলে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষে এ ধরনের ব্যাংক কর্মকর্তাদের শুরুর মূল বেতনসহ ন্যূনতম মোট বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

জেডএ/এমএমএ/

Header Ad
Header Ad

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়েছে মিয়ানমার। ৭.৭ মাত্রার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জান্তা সরকারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৪৪ জনে, আহত হয়েছেন ৩,৪০৮ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩৯ জন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল বিশেষ বিমানে আগামীকাল রোববার মিয়ানমারে যাবে। তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভয়াবহ এই ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। এতে সাগাইং, মান্দালয় ও রাজধানী নেইপিদোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলে শত বছরের পুরোনো একটি সেতু ধসে পড়েছে এবং বহু ভবন ও মসজিদ বিধ্বস্ত হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির রাজ্য প্রশাসন পরিষদের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে মান্দালয় পরিদর্শনে যান। এর আগে শুক্রবার তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।

ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সামরিক সরকার উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবে তথ্য প্রবাহের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের এই দুর্যোগে সহানুভূতি প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সহায়তা প্রদানের আগ্রহ দেখিয়েছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান । ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স (পিডব্লিউএ)-এর সদস্যরা এই মনোনয়নের ঘোষণা দেন।

পিডব্লিউএ হলো একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নরওয়েজিয়ান রাজনৈতিক দল পার্টিয়েট সেন্ট্রামের সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পার্টিয়েট সেন্ট্রামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, মনোনীত করার অধিকারী এমন একজনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আমরা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছি। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার নিরলস প্রচেষ্টা এই মনোনয়নের মূল কারণ।’

এর আগেও, ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য ইমরান খানকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

প্রতি বছর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের শত শত মনোনয়ন পেয়ে থাকে। এরপর দীর্ঘ আট মাসের কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দী। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরান খান চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির একটি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এর আগে, ২০২২ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব হারান।

Header Ad
Header Ad

চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

চারদিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

চারদিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রধান প্রোটোকল কর্মকর্তা হং লেই তাকে বিদায় জানান।

এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত দ্য বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (BFA) বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখা। সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের শক্ত অবস্থানের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস। তিনি এক চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পে বেইজিংয়ের আগ্রহকে স্বাগত জানান।

অপরদিকে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সমর্থন কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা, এবং চীনা প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি এবং আটটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীন বাংলাদেশকে ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ-ঋণ এবং অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ইমরান খান
চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল সৌদিতে ঈদ
ভারত-পাকিস্তানে ঈদের তারিখ ঘোষণার পর বাংলাদেশের বিষয়ে যা জানা গেল
দুপচাঁচিয়ায় শহীদ যুবদল নেতার পরিবারকে তারেক রহমানের ঈদ উপহার
ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ঈদের তারিখ ঘোষণা
সৌদি আরব ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে রাত ৯টার পর
রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন মির্জা ফখরুল
কারাবন্দিদের জন্য ঈদের বিশেষ আয়োজনে থাকছে ভালো খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
চীনের সঙ্গে চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ
পদ্মা সেতুতে এক দিনে সোয়া ৪ কোটি টাকা টোল আদায়
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনা নিয়ে পুতিনের সতর্কবার্তা
অস্ট্রেলিয়ায় ঈদ আগামী ৩১ মার্চ  
বাংলাদেশেও বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা, ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ সতর্কবার্তা
মেট্রোরেলে নেই চিরচেনা ভিড়, বন্ধ থাকবে ঈদের দিন
নাটোর ডিসি বাংলোর বাঁশবাগান থেকে শতাধিক সিলমারা ব্যালট উদ্ধার
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
ঈদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে পুলিশ-বিজিবি-আনসার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ৪০ জেলা