শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

পঁচিশ বছরের একটি মেয়ে এসে সকলের নজর কেড়ে নিল: জয় গোস্বামী

এক সময়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার শারীরিক শক্তি চলে গেল শাঁওলী মিত্রের। অথচ বালিকাবয়স থেকেই শাঁওলী মিত্র স্টেজে অভিনয় করতে করতে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ‘ডাকঘর’ নামক রবীন্দ্রনাটক যখন বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠীর দ্বারা প্রথম মঞ্চস্থ হয়, তখন বালিকা শাঁওলী করেছিলেন ‘অমল’-এর চরিত্র। আমি সে অভিনয় দেখিনি। কিন্তু বহুরূপীর প্রবীণ অভিনেতা দেবতোষ ঘোষ, যিনি কোভিডে ২০২১ সালে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁর মুখে শুনেছি গোটা নাটক জুড়ে ‘অমল’ চরিত্রের দীর্ঘ সব সংলাপ, কেমন মর্মগ্রাহী নিপুণতায় ফুটিয়ে তুলতেন শাঁওলী, তাঁর ওই অতটুকু বয়সে। অর্থাৎ বাল্যকাল থেকেই শাঁওলী মিত্রের অভিনয়-প্রতিভা সকলকেই মুগ্ধ করে এসেছে। ১৯৭১ সালে বাদল সরকার রচিত ও শম্ভু মিত্র নির্দেশিত ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকে শাঁওলী মিত্র নিজের অভিনয় দ্বারা এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করেন যে, বাংলা রঙ্গমঞ্চে এক তরুণী, প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী এসে পড়েছেন। এই নাটকেও দেবতোষ ঘোষ ও শাঁওলী মিত্র দু’জনের উজ্জ্বল অভিনয় আজও পুরনো দর্শকদের মনে আছে। সেই সব দর্শকের একজন আমি। এর পরের বছর, ১৯৭২ সালের ১ মে, বহুরূপী-র পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে শম্ভু মিত্র নির্দেশিত আর এক রবীন্দ্রনাটক ‘রাজা’র অভিনয় হয়। তৃপ্তি মিত্র করেছিলেন রানি ‘সুদর্শনা’র চরিত্র, শাঁওলী হয়েছিলেন ‘সুরঙ্গমা’। সুদর্শনা-সুরঙ্গমার এই জোট বাঁধা অভিনয় এবং বহুরূপী-র অনন্য টিমওয়ার্ক সে দিন প্রযোজনাটিকে কত উচ্চমাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় একটি লেখায়। লেখাটির রচয়িতা ছিলেন সন্তোষকুমার ঘোষ। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এ নাটক বিষয়ে তাঁর রচনার শিরোনাম ছিল: ‘এক নদীতে দু’বার স্নান’। দু’বার কেন? কারণ তার আট বছর আগে ’৬৪ সালে বহুরূপীর এই প্রযোজনা দেখেছিলেন সন্তোষকুমার। এ বার সুদর্শনার সঙ্গে সুরঙ্গমারও প্রশংসায় অকৃপণ হয়ে উঠল সন্তোষবাবুর কলম। সুরঙ্গমার কণ্ঠে যে গানগুলি নাটকে ব্যবহৃত হয়, সে সব গানের পরিবেশন ছিল অত্যন্ত সুরঋদ্ধ। তখন শাঁওলী মিত্রের বয়স মাত্র পঁচিশ। পরে, যখন তাঁর সঙ্গে আলাপ হল, তখন দেখেছিলাম ওই সময়ে সুচিত্রা মিত্রের কাছে গান শিখতেন শাঁওলী। মনে রাখতে হবে, সে সময়ে বাংলা থিয়েটারে তৃপ্তি মিত্র তো বটেই, শোভা সেন, কেতকী দত্ত, মায়া ঘোষ, কেয়া চক্রবর্তী... এঁরা দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। সেখানে পঁচিশ বছরের একটি মেয়ে এসে সকলের নজর কেড়ে নিল।

তার পর বদল ঘটল যুগের। শম্ভু-তৃপ্তি-শাঁওলী কেউই আর রইলেন না বহুরূপী নাট্যদলে। এই সময়ে কলকাতার কয়েকটি নাট্যগোষ্ঠীর সদস্যরা একত্র হয়ে গঠন করলেন এক রেপার্টরি থিয়েটার। সেখানে মঞ্চস্থ হল ‘গ্যালিলিওর জীবন’ নামক নাটক, যাঁর লেখক বের্টোল্ট ব্রেখট। শম্ভু মিত্র অবতীর্ণ হলেন গ্যালিলিওর চরিত্রে। গ্যালিলিওর কন্যা ভার্জিনিয়ার চরিত্রটি করলেন শাঁওলী। এই ভার্জিনিয়ার জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে এল তার পিতারই কারণে। ভার্জিনিয়ার হবু স্বামী, গ্যালিলিওর ছাত্র লুদোভিকোকে গ্যালিলিও অপমান করলেন। ক্রুদ্ধ যুবকটি তার প্রেমিকাকে ছেড়ে চলে গেল। যখন ভার্জিনিয়া তার বিয়ের পোশাকটি পরিধান করে মঞ্চে এসেছে সে সময়ে শুনল এই দুঃসংবাদ। মূর্ছিতা হয়ে পড়ল ভার্জিনিয়া।

গ্যালিলিও যখন শেষ বয়সে ভগ্নহৃদয়ে গৃহবন্দি হয়ে প্রহরী-নিয়ন্ত্রিত জীবন কাটাচ্ছে, তখন ভার্জিনিয়ার হাতেই তার পিতার দেখাশোনার ভার। ভার্জিনিয়ার সঙ্গে গ্যালিলিও অত্যন্ত রুক্ষ ও কঠোর ব্যবহার করে সর্বদা। কন্যা মুখ বুজে থাকে। এ-নাটকে ভার্জিনিয়ার সংলাপ খুব কম। শেষ দৃশ্যে মঞ্চের এক দিক দিয়ে ভার্জিনিয়ার প্রবেশ মাত্রই ঝাঁঝিয়ে ওঠে ক্রুদ্ধ গ্যালিলিও। কটুবাক্য বলে। ভার্জিনিয়া কোনও কথা না বলে ধীরে ধীরে পুরো মঞ্চ পার হয়ে অন্য দিক দিয়ে নিষ্ক্রান্ত হয়। শাঁওলী মিত্র সম্পূর্ণ সংলাপহীন এই দৃশ্যটিতে কেবল মুখের পেশির ভাঙন ও কম্পন ছাড়া আর কিছুই ব্যবহার করেন না— যে ভাঙন কন্যার উদ্‌গত কান্নাকে আটকে রাখে। দর্শক বোঝেন, এখনই ভার্জিনিয়া কান্নায় ভেঙে পড়বে। কিন্তু সে কান্নাকে আটকে রাখেন অভিনেত্রী। এ বড় কঠিন কাজ। একটিও সংলাপ ব্যতীত পুরো মঞ্চ পার হওয়া ও এতটা অনুভবের সঞ্চার দর্শকমনে ঘটানো মোটেই সহজ নয়। শাঁওলী তা পেরেছিলেন।

এল ১৯৮৩। দর্শক দেখলেন ‘নাথবতী অনাথবৎ’ নাটকের মঞ্চায়ন। শাঁওলী মিত্রের রচনায় ও একক অভিনয়ে এ নাটক বাংলা থিয়েটারে এক মাইলস্টোন হয়ে আছে। মহাভারতের এক-একটি চরিত্র, এক-এক রকম স্বরপ্রয়োগে, এক-এক রকম শরীরভঙ্গিমায়, এক-এক রকম পদক্ষেপে মূর্ত হয়ে উঠতে লাগল শাঁওলী মিত্রের তুলনারহিত অভিনয়-ক্ষমতায়। প্রত্যেক শো তখন হাউসফুল যাচ্ছে। ১৯৮৯ সালে এল মহাভারত নিয়ে আরও এক নাটক— ‘কথা অমৃতসমান’। এই নাটকও লিখলেন শাঁওলী মিত্র নিজেই। অভিনয়ও করলেন একা। দু’টি নাটক একত্র হয়ে গ্রন্থ রূপে প্রকাশ পাওয়ার পরে এই বইয়ের জন্য আনন্দ পুরস্কার প্রদান করা হল শাঁওলী মিত্রকে।

২০০৪ সালে জাঁ পল সার্ত্রের একটি নাটকের অনুবাদ করলেন অর্পিতা ঘোষ। ‘রাজনৈতিক হত্যা’ নামক সেই নাটকে শাঁওলী নিজে অভিনয় করেননি, কিন্তু নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এই নাটকের প্রযোজনা দর্শকের এবং সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছিল।

এর পর ২০০৭ সালে এল নন্দীগ্রামে গুলিচালনায় ১৪ জন কৃষকের মৃত্যু এবং কৃষকরমণীদের ধর্ষিতা হওয়ার ঘটনা। মহাশ্বেতা দেবীর নেতৃত্বে বাংলার অনেক চিত্রকর, নাট্য ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ সকলে রাস্তায় নামলেন। মিছিলে হাঁটলেন শঙ্খ ঘোষ, অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, কৌশিক সেন, শুভাপ্রসন্ন, যোগেন চৌধুরী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সেই মিছিলে প্রথম সারিতে হাঁটলেন শাঁওলী মিত্রও। অন্য দিক থেকে রাজনৈতিক ভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদে উঠে দাঁড়ালেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি, তা হৃদয়ঙ্গম করে পশ্চিমবঙ্গবাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তুলে দিলেন রাজ্য শাসনের ভার, নির্বাচনের মাধ্যমে। শাঁওলী মিত্র হলেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি। মমতা খুবই শ্রদ্ধা করতেন শাঁওলী মিত্রকে, আন্দোলনের সময় থেকেই।

শারীরিক কারণে তখন তিনি মঞ্চে বসে কেবল পাঠ-অভিনয় করেন। তাঁর একক অভিনয়ের বিখ্যাত নাটক দু’টি তো বটেই, ‘রক্তকরবী’র পাঠ-অভিনয়ও দর্শকের কাছে মূল্যবান হয়ে উঠল। এ সময়ে তিনি গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন। ‘গণনাট্য, নবনাট্য, সৎনাট্য ও শম্ভু মিত্র’, ‘দিদৃক্ষা’ এবং ‘শম্ভু মিত্র রচনাবলী’ প্রকাশ পেল আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। অন্য প্রকাশনা থেকে বেরোল তাঁর লেখা শম্ভু মিত্রের জীবনী।

ব্যক্তিগত ভাবে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই তাঁর সস্নেহ সাহচর্য পেয়েছি আমৃত্যু। বাংলা আকাদেমির কাজে দেখেছি, সকলকে স্নেহ করার সঙ্গে সঙ্গে বয়সে কনিষ্ঠদেরও তাঁদের কাজের জন্য সম্মান প্রদর্শন করতে তিনি অকুণ্ঠিত ছিলেন। গ্যালিলিওর কন্যা ভার্জিনিয়া তাঁর পিতাকে কিছু চিঠি লিখেছিলেন, তার একটি সঙ্কলন আমার কাছে ছিল, ইংরেজি অনুবাদে। বইটি আমি শাঁওলীদিকে পড়তে দেওয়ায় উনি খুব খুশি হন। শাঁওলী মিত্রকে হারানো আমার কাছে এক নিজস্ব ক্ষতি। অর্পিতা ঘোষের মুখে শুনলাম, মৃত্যু সন্নিকট জেনে কী ভাবে তিনি শান্ত হাতে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেছিলেন। অর্পিতা বাধা দিলে বলেছিলেন, ‘‘আমাকে যেতে দে। আমি যাই।’’ তার পরেই চলে যান তিনি। এই ভাবে সুদৃঢ় সাহসে, মৃত্যুযন্ত্রণাকে বরণ করা, এ কি আমরা, সাধারণ মানুষরা ভাবতে পারি?

সৌজন্য: আনন্দবাজার পত্রিকায় সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে জয় গোস্বামীর এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে।

 টিটি/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত