বইমেলা নিয়ে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের ১০ দফা সুপারিশ

অমর একুশে বইমেলা নিয়ে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের প্ল্যাটফর্ম বইবাড়ি রিসোর্ট।
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) শাহবাগের পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ১০ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও প্রকাশক রবীন আহসান। এসময় প্রকাশক, লেখক ও পাঠক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রবীন আহসান বলেন, গত আড়াই বছরে করোনার কারণে প্রকাশকরা ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রকাশকরা সারা বছর বইমেলার দিকে তাকিয়ে থাকে। মেলাতেই মূলত বিপুল সংখ্যক বিক্রি হয়। অথচ এবার করোনার বিধিনিষেধের কারণে বইমেলা হবে কী-না সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বইমেলা মার্চে হতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে জানিয়ে রবীন আহসান বলেন, বইমেলা ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। মার্চে ঝড়বৃষ্টির সময়। তখন বইমেলা করলে আমরা অংশগ্রহণ করব না। তাছাড়া মেলা নিয়মিতভাবে ১৫ দিন করতে হবে। এক মাস বইমেলা করার মতো অবস্থায় আমরা এখনো যাইনি।
এই ১০ দফা সুপারিশ ও প্রস্তাবনা নিয়ে আগামীকাল রবিবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে বসবেন বলে জানান রবীন আহসান।
দশ দফা সুপারিশ ও প্রস্তাবনা
১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে 'নো মাস্ক নো এন্ট্রি ও টিকা সনদ প্রদর্শন করে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করা।
২. স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োজনে মেলায় একাধিক 'প্রবেশ পথ' ও 'বাহির পথ' এর ব্যবস্থা করা।
৩. অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর সময় সূচি করতে হবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা।
৪. অমর একুশে বইমেলা ২০২২ সফল করার জন্য বইমেলায় যাওয়া-আসার জন্য বইমেলা প্রাঙ্গণকে ঘিরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ৫০টি বাস চালু করা হোক। বাংলা একাডেমি, বিআরটিসি ও সিটি করপোরেশনকে সঙ্গে নিয়ে বইমেলার জন্য অতি সহজেই বাস সার্ভিস চালু করতে পারে।
৫. ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স-সীমাদের জন্য মেলায় প্রবেশের জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে অনাহুত জনসমাগম এড়ানো যাবে এবং যারা বইপ্রেমী মূলত তারাই বইমেলায় যাবেন। শিক্ষার্থীদের তাদের আইডি কার্ড দেখিয়ে বিনা টিকেটে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
৬. প্যাভিলিয়ন চতুর্দিকে খোলা না রেখে প্রবেশ ও বাহির পথসহ নির্মাণ করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু জোনে নয় প্যাভিলিয়নের অবস্থান হতে হবে পুরো মেলার সমানুপাতিক অবস্থানে।
৭. মেলায় প্রবেশ ও বাহির পথের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও রমনার মোড়ের ট্রাফিক ও পথচারীদের চলাচলের পথ সুগম রাখতে হবে। মেট্রো রেলের নির্মাণ স্থাপনা ও বিভিন্ন রোড ডিভাইডার ইত্যাদি সুশৃঙ্খল করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ দিবস (ভ্যালেন্টাইন ডে, পহেলা ফাল্গুন, অমর একুশ, শুক্রবার ও শনিবার) নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন, সেই দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঠক ক্রেতা মেলায় আসেন। নিরাপত্তা ইস্যুসহ পাঠক ক্রেতা দর্শনার্থীদের আসা যাওয়া নির্বিঘ্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. খাবারের দোকান/ক্যান্টিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে না দিয়ে নির্দিষ্ট জোনে দিতে হবে। টিএসসির গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশের পর এলোপাথাড়ি খাবার ও কাবাব ইত্যাদির দোকান বরাদ্দ বন্ধ করতে হবে।
৯. অমর একুশে বইমেলাকে শিশুবান্ধব বইমেলায় পরিনত করতে হবে। স্টল সজ্জা শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করতে হবে। শিশুরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় ঘুরাঘুরিসহ স্টলে প্রদর্শিত বই দেখতে পারে।
১০. লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে যে আলোচনা আয়োজনটি নিয়মিত মেলা প্রাঙ্গনে হয় সেটির কলেবর আরো বৃদ্ধি করতে হবে।
আরইউ/এএস
