শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

কেবল মজা

 

স্টামফোর্ড ইউনির্ভাসিটি বাংলাদশের ব্যাচ ৫৫; সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ছাত্র, ছাত্রীরা, অন্যদের সাড়া না পেয়ে মোট ১২ জন চলে গিয়েছেন কক্সবাজারে। দূরদর্শন গ্রুপের সেই একটি মোটে দিনের অতি চমৎকার ভ্রমণের গল্পটি ছবি তুলে লিখেছেন হাবিবুর রহমান

মিউজিক ভিডিওটি দারুণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাগর সৈকত বানানো অভিনব ও আধুনিক এই গানের চিত্ররূপ। সুর খুব অসাধারণ। শুরু হয়েছে কক্সবাজার। তীর ধরে সাগরের সঙ্গে মিলতে ছুটে চলছেনে দারুণ খুশিতে পাঁচটি ছেলেমেয়ে। তাদের পরণে টি-শার্ট, জিন্স। সাগর, তীর, আশপাশের গ্রামীণ পাহাড়ি পথ, চাঁদের গাড়ি-সবই ধীরে, ধীরে দেখাতে শুরু করলোন তারা। ডেকে আনছেন অন্য সবাইকে গানে-‘আহ্বানে/একসাথে/জেগে উঠি/বন্ধুত্বের শ্লোগানে/চলো মেলে দেই পাখা/ অভিমান ভুলে বন্ধুত্বের ছবি আঁকি/নেচে যাই গানে/ভেসে যাই সুরে/সব ভুলে একসাথে/বন্ধু, আমরা সবাই বন্ধু।’ আস্তে, আস্তে তাদের সংখ্যা বাড়ছে। জে এস শাহেদ ও নাসির হাসানের এই গানটি খুব ভালো লাগলো আফসানা রুবির। ও আমাদের বন্ধু। বাংলাদেশের গর্ব কক্সবাজারে বানানো মিউজিক ভিডিও দেখে দারুণ অবাক। খুব ইচ্ছে, আমাদের ব্যাচের সব বন্ধুকে নিয়ে বেড়াবে কক্সবাজারে। আমরা মানে স্টামফোর্ড ইউনির্ভাসিটি বাংলাদেশ’র সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের; ৫৫ ব্যাচের ছাত্র, ছাত্রী।
ওর আলাপের শুরু হলো তখন-সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হতে আরো দুটো বিষয় বাকী! তর সইলো না ঘরবন্দীনির। সামান্য একটি দিনের জন্যও কী কোথাও বেড়ানো মানে কক্সবাজারে ঘুরে আসতে মানা আছে? প্রথম আলাপ করলো সাকিবের সঙ্গে। দেশের অন্যতম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়টির মধ্যে ‘দূরদর্শন ৫৫’ নামে আমাদের ব্যাচ পরিচিত। তবে নানা কাজে-প্রধানত বিভিন্ন পত্রিকাতে প্রদায়ক সাংবাদিকতার সূত্রে অন্য কোনোতে তেমন সময় নেই কারো। ফলে ব্যাচ ঘোরাঘুরিতে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে। ‘সেমিস্টারের ছুটির এই সময়টি কাজে লাগানো যেতে পারে’-আলাপের পর বললো দীপ্ত। আলাপ পথ ধরে আরো এগুলো। আগে পুরোনো ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ছাড়া ব্যাচ বন্ধুদের কোথাও ঘুরতেও যাওয়া হয়নি। কয়েক দফা চায়ের দোকানে গল্পের পর অবশেষে এই ঐক্যমত হলো যে-শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘৫৫ ব্যাচ’ বেরিয়ে পড়বে। দূরদর্শনের সবাই যাবে কক্সবাজারে।


আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে আরো কনফার্ম করা হলো। তবে রুবির ভেতরে হতাশা জন্ম নিলো। কেননা, সময় গড়িয়ে গেল, মোটে দুটি দিন বাকি; তারপরও অন্যদের গরজ নেই। রেগে শেষমেষ তার পোষ্ট, চমকে দিলো অন্যদের-‘কক্সবাজার ট্যুর হবে না।’ আশেক, দীপ্ত ও সোহান লেগে গেল ম্যানেজে। তিনের সম্মিলিত অনুরোধ-ব্যাচ ট্যুর হবেই, যেতেই হবে। ছড়ালো অন্যদের মাঝেও। মন ভালো হলো রুবির। কাজের কাজীদের আলাপ কাজে এলো। ব্যাচ চূড়ান্ত করলো ফের-ট্যুর বন্ধ করা যাবে না। দুজন হলেও বেড়াতে যাবে।
আমি হাবিবের যাবার ইচ্ছা খুব। অন্যকে সহযোগিতা করার সুনামও অনেক আছে। তবে পরিবার ও নিজের নানা ঝামেলায় বরাবরের মতো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। জানের দোস্ত সাগরেরও ঠিক-ঠিকানা নেই। যার মাথা থেকে এসেছে সবার ইচ্ছেটি-সেই রুবি আমাদের আরো বিপদে ফেলে দিল ফাইনাল মোমেন্টে। ফ্যামিলি থেকে যেতে দেবে না। কয়েকবার বোঝানো হলো- তোকে যেতেই হবে, তোর মাথা থেকেই তো এসেছে। তোকে ফেলে কীভাবে যাবো আমরা? নড়ে বসলো বন্ধুটি। দুলাভাই পলাশ ভাইকে বুঝিয়ে শেষ মুহূর্তে অনুমতি আদায় করে নিলো। একেই বলে নারী জাগরণ!

আমার পেছনে লাগলো সুমনা। ট্যুর কী, কেন জরুরী, সবার সঙ্গে কেন যেতে হবে-এ বিষয়ে অনেক জ্ঞান, বাণী ও আলাপ হলো দুই বন্ধুর। শেষে বললো, ‘দোস্ত, পরিবারে কোনো না কোনো সমস্যা সব সময় থাকে। আমাদের মেয়েদের তো এসব ঝামেলা ঘাড়ে নিয়েই বাঁচতে হয়। এমনভাবে সবাই মিলে বেড়াতে যাওয়া কিন্তু সবসময় হবে না। আবার কবে যেতে পারবো কে জানে? মনে হয় না পারবো। চল যাই। খুব ভালো লাগবে।’ তাই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলাম মনের গভীরে-বাসায় যাই হোক, আমি যাবো।

সেদিন সন্ধ্যায়ই বাসের কাউন্টারে সময় মতো হাজির। ছবি তুলি বলে এই বিষয়ে আমার খুব সুনাম আছে। অন্যদের কখনো ফটোগ্রাফাররা বিপদে ফেলে না। তাদের ধাতে নেই। নিয়ন আলোয় বাস কাঊন্টারে আছি। রুবি, সাগর, আশেক, সাকিব, দীপ্ত, সুমনা, সোহান, রাব্বি, সজীব, সুমন, ঐশী-সবাই চলে এসেছে। মানস রায় আছে কক্সবাজারে। ফলে আমাদের কলিজার জোর অনেক বেশি। বলে রেখেছে, ‘কোনো ভবনা নেই, কেবল চলে আয়। পা রাখার পর থেকে দেখবি আমি তোদের জন্য কী করি।’

বাসে চড়ে বসার আগে আড্ডাটি জমে গেল। বাস ছাড়লো রাত ৯টায়। আগে জম্পেশ আড্ডা ও খাওয়া হয়েছে সবার। রাতের খাবার এত মজা করে ঢাকার বিভিন্ন বাসা, বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে মেস বানিয়ে থাকা এই অভাগার দলের অনেক দিন হয়নি। বান্ধবীরা খোঁজ খবর নিয়েছে, ভালোভাবে খাইয়েছে। তাই আমার মতো পেটুকদের মন খুব ভালো। অন্যদেরও।

আকাশে চাঁদ, বাতাসে ভেসে বেড়ানো কুয়াশার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে দূরপাল্লার বাস। দূর গন্তব্যের দিকে টানা ছুটে চলা গাড়িতে প্রায় সব বন্ধু একসঙ্গে আছে। আমার মনটিতে অদ্ভুত ভালো লাগা। এই পথে সবসময় গ্রামের বাড়িতে যাই কিন্তু আজ তো যাচ্ছি বেড়াতে। আমার ভার্সিটির সবার সাথে। যাদের নিয়ে প্রায় দিন পড়ালেখা করি, আড্ডা ও ক্লাস করি। কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর ওপর থেকে নিভু, নিভু জ্বালানো বাতিগুলো অনেক দূর থেকে দেখছি। এই জেলে নৌকাগুলো আসা-যাওয়ার পথে অনেকবার আগ্রহ নিয়ে দেখেছি। প্রতিবারই মনের গহীনে ছবি আঁকা হয়ে গিয়েছে। তবে আজ কেন মন আরো উদাসী হয়ে গেল।

মাথায় একটি আইডিয়া খেলে গেল, আমাদের ট্যুরের জন্য ফেইসবুকে একটি পেইজ খুললে কেমন হয়? গ্রুপের নাম দিলাম, ‘হারিয়ে যাওয়ার পথে।’ গলা খুলে, চিৎকার করে সংবাদটি দিতে দেরি করলাম না। তবে এখানে, সেখানে; সিটে, সিটে; চলার পথেও আড্ডায় ব্যস্ত বলে ফেইসবুকের মতো অভিনব ও দারুণ আগ্রহের বিষয়ে প্রথমবারের মতো কারো কোনো আগ্রহ দেখলাম না। আমার মতো চমকহীন মানুষকে ওরা চমকে দিলো! একেই বলে গন্ডারের গায়ে লাঠির খোঁচা। ফলে কাজ ফেলে যোগ দিলাম বন্ধুদের দলে। আড্ডা কখন যে সকালকে ডেকে নিয়ে এলো বুঝতেই পারলাম না।

সকাল ৮টায় দূরদর্শনের পা পড়লো বিখ্যাত, সুপ্রাচীন কক্সবাজারে। মানস আগেই চলে এসেছে। রিসিভ করার তর সইছে না তার। ওকে নিয়ে সুগন্ধা ব্রিজের পাশের হোটেলে উঠলাম। বিশ্রাম বলতে বাক্স-পোটরা মানে কাঁধের ভার্সিটির ব্যাগগুলো এখানে, সেখানে ভালোভাবে রাখা। কানে আসছে সাগরের ডাক। ফলে দৌড়ে বেরুলাম। নীল আকাশের নিচ দিয়ে উড়তে, উড়তে চলে গেলাম অপরূপ, অসীম ঢেউয়ের রাজ্যে। তার কোলে গ্রাম থেকে আসা প্রায় সবার দলের ১২ জন হারিয়ে গেল সাঁতারে। যারা সাঁতরাতে পারে না, ওরা লাইফ জ্যাকেট পরে আছে। মুগ্ধতা, জলের প্রতি ভালোবাসা, বাংলাদেশের জন্য গর্ব ও বিশাল বিশ্বের অপার টানে হারিয়ে গেলাম প্রতিটি তরুণ প্রাণ। একে, অন্যের খেয়ালও রাখছি। এসব কাজে আমার মতো দুয়েকজন আছে খুব আগ্রহী। তাতে মেয়েদের কোনো ক্ষতি হলো না। কোনো অসুবিধা নেই, বরং কেবল মজা; বঙ্গোপসাগরের সাদা ঢেউয়ে শরীর ভিজে আছে। পানিতে নাচানাি তে কী যে শান্তি-বলে বোঝাতে পারবো না। লিখে তো নয়ই।

পেলাম বঙ্গোপসাগরের আলোকচিত্রীদের। অভাবী মানুষগুলো সাগরের মায়ায় পড়ে আছেন। সাগর জলের কত না আনন্দ, বেদনার স্বাক্ষী এই নির্বাকরা। সাগর যাদের রক্ষাকর্তার সামান্য কিন্তু অসামান্য দায়িত্বভার দিয়ে রেখেছে। আমি তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। কথা বললো অন্যরাও।  সাংবাদিকতার ছাত্র, ছাত্রী-আমি নিজে ছবি তুলি; এটাই পেশা করতে চাই; আমরা নিয়ে আসা ক্যামেরায় তাদের ছবি তুললাম। সাগরের দুঁদে ফটোগ্রাফাররা আমাদের আশপাশে ঘুরে, ঘুরে দেখছেন। আমাদের ছবি তোলা ভালো লাগছে তাদেরও। তাদেরই একজন আমাদের ছবিটি তুলে দিয়েছেন।

টিপ, টিপ বৃষ্টি নামতে লাগলো। আমার ক্যামেরা তো বাঁচাতে হবে। তাই তাড়া শুরু করে দিলাম। আরেকজনও তাই করলো। ফলে হোটেলে ফিরে এলো ভিজতে, ভিজতে; নাচার তরুণের দল। দুপুরটি খুব জমলো। আড্ডা টানা; খাওয়াও জম্পেশ। আমরা ছবি তুলছি; সেলফিতে ব্যস্ত অন্য সব নবীনতম সাংবাদিকের দল। কেউ কারো চেয়ে কম যাই না। খারাপ ছবি তুলেছে, কেউ বলতে পারবে না; আবার জ্ঞানেরও কোনো বিরাম নেই। গল্পের নেই কোনো শেষ। সেগুলো পরে রুবি, সুমন, সাকিব, আশেক আর অন্যদের অবসরে চলে এলো ফেইসবুকে। তাতে নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যদের বুকে জ্বালা ধরেছে।

প্রেম, আড্ডা, এখানে, সেখানে বেড়ানো; এর-তার গল্প; সামান্য বিরতিতেই বঙ্গোপসাগরের ডাকে সাড়া দেবার জন্য চলে যাচ্ছে সবাই; একা ও কয়েকজন-মিলে; চা, কফি, ফাস্টফুডের নানা বাহার বাড়ছে ক্ষণে, ক্ষণে; পেট পুরে খাওয়া হলো। এসব খেতে এবার আমাদের অরুচি ধরলো! সময়ের আর কোনো হিসেব নেই। পত্রিকা, অনলাইনের সময় ধরে ছুটে যাওয়া তরুণ প্রাণের বাজি এখন থেমেছে। ফলে খেয়ে-দেয়ে; হোটেলের মজার খাবার; আমরা প্রায় ১১টায় চলে গেলাম ভয়ংকর দানবের ডাকে সাড়া দিতে দুরু, দুরু বুকে।

কালো অসীম, বিপুল গজনে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের আমাজন নদীর বুকে বেঁচে থাকা অ্যানাকোন্ডা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে গিলে খাবে বলে। আমাদের তো পরোয়া কোনোকালে ছিল না, তার কাছে চলে গেলাম আড্ডা দিতে! বঙ্গোপসাগরের ওপরের তারার মেলা দেখেছেন কখনো? সেই তারাদের কাছে যাওয়া যায় না জানেন কী? সাগরের গর্জনের ভেতরেই গান আর আড্ডা চলছে। প্রবল বাতাসে, দিনে যেহেতু বৃষ্টি হয়েছে; তাই বেগ আছে বেশি; সাগরের ডাক শুনতে কী যে ভালো লাগছে।


সাগরের পাড়ে, পাড়ে প্রতিরক্ষা বাতিগুলো আলো বিলিয়ে চলেছে; চারপাশকে চিনিয়ে দিচ্ছে; আলোকিত বাতিতে সাগরের ঢেউগুলো দেখতে খুব সুন্দর হয়ে আছে। ফলে ছোট, ছোট দলে বেড়ানোর মানা নেই-দলটি এখন বাঁধনহারা হয়ে গেল। ভোর চারটে যে বেজে গিয়েছে কারোর কী কোনো খেয়াল আছে? এত রাতে সাগর পাড়ে আমরা! নিজেরই অবিশ্বাস লাগছে। ডেকে, ডেকে ফেরাতে গিয়ে গলা ভেঙে গেল। হোটেলে পৌঁছে টেবিলগুলোর ওপর রাখা খাবার খেয়ে ঘুম দিলাম।

পরদিন সকালের সিডিউল ধরতে কোনো অসুবিধা হলো না আমাদের কারো; লেখালেখির সূত্রে, অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে ভিডিওগ্রাফির কল্যাণে। তাই খেয়েই ছুটলাম চাঁদের গাড়ির দিকে। এখানে চলাফেরার প্রধান বাহন পুরোনো আমলের ব্রিটিশদের জিপগুলো। ছাল-বাকড় নেই, নেই কোনো দরজা জানালা। বিখ্যাত ইনানী বিচ ধরে এগিয়ে চলেছি একটি পুরোনো ধুঁকে, ধুঁকে নয়; অভিজ্ঞ ও বহুকালের ড্রাইভারের বহুকালের স্বাক্ষী গাড়িতে বসে। পথের দুই ধারে পাহাড়, মাঝে পিচঢালা পথে ছুটছে বাহন। দেখছি আর গাইছি। গানই যে ভুলে যাচ্ছি।

নেমে ছবি তোলা হলো। কক্সবাজার নারকেল গাছের জন্য বিখ্যাত। ফলে ডাব খেতে নেমে গেলাম সস্তায়। আমরা তো সস্তার দলের মানুষ। খরচ কম তো আছি, খরচ বেশি তো আমাদের দেখা মেলে না। তারপর আবার হোটেলে ফিরলাম। গোছল সেরে ভালোভাবে খেয়ে পেটপূজা হলো। বিশ্রাম।

মন খারাপ করে দিলো সন্ধ্যা নেমে। সাগর ডাকছে, তবুও বাসে চড়তে হলো। টানা ঘুম, কখনো জেগে, জেগে আশপাশের অপরূপ কুয়াশায় ঢাকা বন-বনানী, ছোট, বড় গাছের সারির দ্রুততম গতিতে পেছনে পড়ে যাওয়া; গরীবের কুঁড়ে ঘর, নিম্মবিত্তের মাটির, ছনের ঘর, মধ্যবিত্তের টিনের ছাদের দালান, বড়লোকের আলিশান বাড়ি; একজন, দুজন পথচলতি গরীব, গরু, ছাগল; বাড়ির কুকুর, বেওয়ারিশ মানুষ আমাদের পেছনে পড়তে লাগলেন।

মাঝ রাতে খেতে এক ভালো হাটেলে। মন ভরে পেট ভরালাম, একে অন্যের সহযোগিতায়। তারপর সব জীবনের ডায়েরিতে লিখে রেখে আমরা ফিরলাম বাসায়।

ওএস/৩১-১-২০২২।

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী