শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

টস ভাগ্য বদলালেও ম্যাচ ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের

উইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ যেন এক অভাগা। যেদিকে তাকায় সাগর শুকিয়ে যায়! এবারের উইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো টস জিতেছিল। কিন্তু টস ভাগ্য বদলাতে পারলেও ম্যাচ ভাগ্য বদলাতে পারেনি। হেরেছে ৫ উইকেটে। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের করা ১৬৩ রান স্বাগতিকরা পাড়ি দেয় ১০ বল হাতে রেখে। তাও আবার ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করে। জয়সূচক রান আসে অধিনায়ক নিকোলাস পুরানের ব্যাট থেকে ছক্কায়। এই হারে টেস্ট সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারালো বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে।

সময় মন্দ গেলে যা হয়, বাংলাদেশ দলের হয়েছে সেটিই। ব্যাটে-বলে আর এক সঙ্গে জ্বলে উঠতে পারছে না। উইন্ডিজ সফরে বা তারও আগে থেকে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। কিন্তু গত দুই ম্যাচে সেখানে ভর করেছে বোলিং ব্যর্থতা। আগের ম্যাচে উইন্ডিজের ৫ উইকেটে করা ১৯৩ রানের জবাব বাংলাদেশ দিয়েছিল ৬ উইকেটে ১৫৮ রান করে। এবার আগে ব্যাট করে ব্যাটাররা জমা করেছিলেন ৫ উইকেটে ১৬৩ রান। কিন্তু বোলারদের ব্যর্থতায় তা সহজলভ্য করে তুলেন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা। যে কারণে বাংলাদেশ সিরিজ বাঁচানোর মিশনে নুন্যতম কোনো লড়াই করতে পারেনি।

ব্যাটরদের দেওয়া মাঝারি মানের সংগ্রহ নিয়ে বোলাররা শুরু করেছিলেন দুর্দান্ত। ৪৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচের ড্রাইভিং আসনে চেপে বসেছিল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর ‘মুখস্ত’ অধিনায়কত্ব বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। প্রথম ওভারেই আবার সেরা একাদশে ফিরে আসা নাসুম ফিরিয়ে দেন ব্রান্ডন কিংকে। নাসুমের সঙ্গে অপরপ্রান্তে শুরু করা মেহেদি হাসান ফিরিয়ে দেন সামরাহ ব্রকসকে। ফলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে তাদের রান আসে ২ উইকেটে ৪৩ রান। বাংলাদেশ করেছিল ২ উইকেটে ৪৪ রান। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের ওভারে সাকিব বল হাত তুলে নিয়েই প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন স্মিথকে। কিন্তু সাকিবের ওভার শেষে মাহমুদউল্লাহ তাকে বোলিং আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন। কারণ সে সময় উইকেটে ছিলেন দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মায়ার্স ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। সাকিবও বাঁহাতি। একই কাজ তিনি করেছিলেন আগের ম্যাচে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত প্রথম ওভারে মেডেন উইকেট নেয়ার পরও তাকে দিয়ে পরে আর বোলিংই করাননি উইকেটে দুই ডানহাতি ব্যাটার থাকাতে। এবার মাহমুদউল্লাহ সাকিবকে সরিয়ে কী করলেন? তার পরিবর্তে নিয়ে আসলেন মোস্তাফিজকে। তিনিও বাঁহাতি। শুধু পাথর্ক্য সাকিব স্পিনার, মোস্তাফিজ পেসার। মোস্তাফিজ কি করলেন? সেই ওভারে তিনি দিলেন ১৩ রান। এরপর মোস্তাফিজকেও সরিয়ে নেওয়া হলো। নিয়ে আসা হলো মোসাদ্দেককে। তিনি দিলেন ৮ রান। এ সময় আরেক বাঁহাতি পেসার শরিফুলকেও আক্রমণে নিয়ে আসা হয়। তিনি দেন ১৩ রান। মোস্তাফিজকে আবার আক্রমণে আনলে তিনি এবার দেন ১৫ রান। এক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয় নাসুমকেও। তিনি দেন ১৯ রান। ওভার তখন ১৫টি শেষ। জয়ের কাছাকাছি উইন্ডিজ। ২৬ বলে প্রয়োজন ৩০ রানের। হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু তারপরও মাহমুদউল্লাহ সাকিবকে আক্রমণে নিয়ে আসেননি। তাকে যখন আক্রমণে নিয়ে আসেন তখন ম্যাচের কোনো কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। উইন্ডিজের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৪ বলে ২০ রানের। হাতে উইকেট ছয়টিই। সাকিব আক্রমণে আসেন ১৭তম ওভারে। আগে প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন। এবার প্রথম বলেই চার হজম করেন। রান দেন ৮। এভাবেই মাহমুদউল্লাহর মুখস্ত অধিনায়কত্বের ‘বলি’ হয় বাংলাদেশ। প্রশ্ন থেকেই যায় মাহমুদউল্লাহ সাকিবকে সরিয়ে যদি ডান হাতি বোলারদের দিয়ে বোলিং করাতেন তাহলে কথা ছিল কিন্তু তিনিতো বাঁহাতি বোলারদের দিয়েও বোলিং করিয়েছেন তাহলে সাকিব কেন নয়? ডান হাতি বোলারের সন্ধান করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ মোসাদ্দেককে দিয়ে ৪ ওভারের কোটা পূরণ করিয়েছেন। আফিফ হোসেন ধ্রবর হাতেও বল তুলে দিয়েছেন। তিন উইকেটও পান একটি ডেঞ্জারম্যান রভম্যান পাওয়ালকে আউট করে। কিন্তু রান দেন ১০টি। মাহমুদউল্লাহ নিজেও বল হাতে তুলে নেন। পরে দেখা যায় দলের সেরা বোলার ওভার প্রতি সবচেয়ে কম রান দেওয়া সাকিব ২ ওভারে রান দিয়েছেন ১০। যেখানে বাঁহাতি তিন বোলার নাসুম (৪-০-৪৪-২), শরিফুল (১-০-১৩-০, মোস্তাফিজের (২-০-২৭-০) ওভার প্রতি রান ছিল আকাশ ছুঁয়া। ডান হাতি মোসাদ্দেক ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থেকেছেন।

মাহমুদউল্লাহর এ রকম মুখস্ত অধিনায়কত্বের কারণে উইন্ডিজ ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যে চাপে ছিল তা থেকে বের হয়ে যায়। মায়ার্স-পুরান জুটি চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮.৩ ওভারে ৮৫ রান যোগ করেন। মায়ার্স ৩৩ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। পরে ৫৫ রানে আউট হন নাসুমের বলে মেহেদির হাতে ধরা পড়ে। অপরপ্রান্তে অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ছিল আরো বেশি আক্রমণাত্বক। তিনি ক্যারিয়ারে নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ৩০ বলে। তিনটি করে চার ও ছয় মারেন। পরে আরও ৯ বল খেলে দুইটি করে চার ও ছক্কা মেরে যোগ করেন ২৪ রান। অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কা মেরে ৭৪ রানে। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন তিনিই।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফিফের ৫০, লিটনের ৪৯, মাহমুদউল্লাহর ২২, এনামুলের ১০ ও মোসাদ্দেকের অফরাজিত ১০ রানে ৫ উইকেটে ১৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ।

এমপি/এসআইএইচ

Header Ad
Header Ad

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘তারুণ্য উৎসব-২০২৫' আয়োজিত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এনডিসি শীষ হায়দার চৌধুরী। অন্যান্য অতিথিরা হলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত) জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক এম. এ. এন শাহীন, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং তারুণ্যে উৎসবের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের  উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর 'জুলাই বিপ্লব ও তথ্য প্রযুক্তি' বিষয়ক ডকুমেন্টারি এবং 'জুলাই বিপ্লবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়' দুইটি পৃথক ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। তারুণ্য উৎসবে অনলাইন ভিত্তিক কুইজ এবং একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। 

বিশেষ অতিথি শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, 'তারুণ্য উৎসবের মাধ্যমে ড. ইউনূস সরকারের পক্ষে আমরা একটি মেসেজ দেওয়া চেষ্টা করছি এদেশের তরুণরাই সবকিছুর চালিকা শক্তি। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে এটা প্রমাণিত। তারুণ্য উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করার কারণ হলো জুলাই বিপ্লবের অন্যতম স্থান ছিল কুমিল্লা। এছাড়া এই এলাকা একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এডুকেশন হাব। এই অঞ্চলে একসঙ্গে অনেক ভালো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরবর্তী ইনোভেশন হাবটি আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করবো।'

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো হায়দার আলী বলেন, 'আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের অনুষ্ঠানের ভেন্যু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করার জন্য এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে। তরুণদের এগিয়ে যাএয়ার পথ এখন সেটা তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ।  তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে  তরুনদের উদ্ভাবন ও উদ্দোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আজকের আইসিটি মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এখন এসব বিষয়ে তরুণদের টার্গেট হওয়া উচিত। যদি মন্ত্রণালয় থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কিছু প্রজেক্ট হাতে নেয় সেখানেও আমরা সহযোগিতা করবো।'

তিনিও আরো, 'বলেন আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সচিব ঘোষণা দিয়েছেন এখানে একটি আইসিটি হাব হবে এতে আমি আমি খুব খুশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুশি। তরুণদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এই হাবটিকে আমরা দেশের প্রথম এআই হাব বানানোর জন্য চেষ্টা করবো। কারন, এই সেক্টরে দেশ ও বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।'

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'আমাদের পুরো কার্যক্রমকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ভাষার মাসে আমাদের যে এই সুন্দর আয়োজন আমি শ্রদ্ধাভাবে স্মরণ করি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি, বিশেষ করে চব্বিশে জুলাই বিপ্লবে যে আত্মত্যাগ ছিলো তাদেরকে বিশেষভাবে স্মরণ করি। গভীরভাবে স্মরণ করছি আমাদের ছাত্র শহিদ আবদুল কাইয়ুমকে যিনি চব্বিশের আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন।' 

তিনি আরও বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি আরও বলে দিতে চাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে গ্লোবাল প্রডাক্ট হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।'

Header Ad
Header Ad

নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে ২ নেতার পদত্যাগ

সালাহউদ্দিন আম্মার এবং মেহেদী সজীব। ছবি: সংগৃহীত

নবগঠিত ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই সমন্বয়ক। ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আধিপত্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।

পদত্যাগকারী দুই নেতা হলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী সজীব ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালাহউদ্দিন আম্মার। তারা উভয়েই রাবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন।

গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’। সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে আবু বাকের মজুমদার এবং সদস্যসচিব হিসেবে জাহিদ আহসান-এর নাম ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই কমিটিতে ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মেহেদী সজীবকে, আর ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হন সালাহউদ্দিন আম্মার। কিন্তু কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা দুজনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ফেসবুকে মেহেদী সজীব লিখেছেন- ‘নতুন বন্দোবস্তের নামে ঢাকা ও ঢাবিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী মনোভাবের উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার প্রতিবাদেই আমি এই প্ল্যাটফর্মে থাকতে রাজি না।’

তিনি আরও লেখেন- ‘আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে সংগঠনে যুক্ত করা হয়েছে, যা আমি প্রত্যাখ্যান করছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ঢাবিকেন্দ্রিক মনোভাব যেভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমি এই সংগঠনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় যেতে রাজি নই।’

সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য- ‘এই সংগঠন সর্বজনীন হতে পারত, কিন্তু বর্তমান অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আমাদের আন্দোলনের প্রধান শক্তি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা, তাদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন- ‘রাবি শিক্ষার্থীরা চাইছে না ঢাবিকেন্দ্রিক আধিপত্য বজায় থাকুক। তাই আমরাও থাকতে চাই না।’

এই পদত্যাগের ঘটনায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। সংগঠনটি কতটা সর্বজনীন হতে পারবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

রাত পোহালেই বিএনপির নওগাঁ সদর ও পৌরসভা ভোট

ছবি: সংগৃহীত

একযুগ পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নওগাঁয় সদর উপজেলা ও পৌরসভার কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। রাত পোহালেই যেখানে ভোটাররা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের প্রত্যক্ষ ভোট প্রদান করবেন। দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল হওয়ায় প্রার্থী ও সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিতে গত কয়েকদিন থেকে শহর ও গ্রামে মাইকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করেছেন। তবে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা তা ঠিক করবেন ভোটাররা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়- নওগাঁ পৌরসভা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিলো ২০১০ সালে। যেখানে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কিমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুন নবী সাজা। বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছে ৬৩৯ জন।

অপরদিকে, নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১২ সালে। যেখানে ৭১সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু এবং সাধারণ সম্পাদক আ শ ম আল কাফী তুহিন। বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছে ৮৫২ জন।

নওগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদে দুই প্রার্থী- মোঃ নুরুন নবী সাজা ও শেখ মোঃ মিজানুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী- শাহ্ আজিজুর রহমান চৌধুরী হিরু, মোঃ আব্দুল মতিন তালুকদার এবং মোঃ দিদারুল হক রতন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন প্রার্থী-আগফা উদ দৌলা সবুজ, মোঃ মতিউর রহমান (বুলু), মোঃ মহসিন আলী, এস,এম শহীদুল ইসলাম (সাথী) এবং মোঃ শাহীদুজ্জামান (সাইদ)।
নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক বেলাল।

অপরদিকে, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে দুই প্রার্থী- দেওয়ান মোস্তাক আহমেদ (রাজা) ও মো. সারওয়ার কামাল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী- মোঃ আব্দুস সালাম পিন্টু, মোঃ নাদিম কুদ্দুস, সরদার সাইফুল ইসলাম সাজু এবং শ.ম.আ. আল কাফী তুহিন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী- মোঃ খালেদ হাসান (লিপ্ত), মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ আরিফুল হক রানা এবং মোঃ ওবাইদুর রহমান।

নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. ফারুকুজ্জামান ফারুক, সহকারি নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. মিনহাজুল ইসলাম ও মো. মোশারফ হোসেন।

পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ নুরুন নবী সাজা ঢাকাপ্রকাশকে বলেন- ‘দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কাউন্সিল খুবই দরকার। এতোদিন দলে যে দূর্বলতা ছিলো তা কাটিয়ে উঠবে। সেইসাথে এ কমিটির মাধ্যমে দল আগামীতে মজুত হবে এবং গতিশীল বাড়বে।’

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী দেওয়ান মোস্তাক আহমেদ (রাজা) ঢাকাপ্রকাশকে বলেন- দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশাবাদী নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

নির্বাচনের দায়িত্বরতা জানান- সকাল ১০ টায় নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌর বিএনপি এবং সকাল ৯টায় নওগাঁ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির ভোট গ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হওয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে। যেখানে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন
নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে ২ নেতার পদত্যাগ
রাত পোহালেই বিএনপির নওগাঁ সদর ও পৌরসভা ভোট
দেশের বাজারে ফের কমলো সোনার দাম
চুয়াডাঙ্গায় গুণগতমানসম্পন্ন বীজ আখ উৎপাদন কৌশল ও ব্যবহারবিষয়ক দুদিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
টাঙ্গাইলে শিক্ষা সফরের ৪ বাসে ডাকাতি-লুটপাট, গ্রেফতার ৪
সবার জন্য উন্মুক্ত কনসার্ট, জেমসসহ গাইবেন আরও পাঁচ ব্যান্ড
বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এমন সংবাদ দিয়ে ছেলেকে অপহরণ
রামপুরায় গাড়িচাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত, বাসে আগুন
একযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫৩ জন কর্মকর্তাকে রদবদল
‘টাকা-পয়সা-গয়না কেড়ে নেওয়াতে দুঃখ পাইনি, কিন্তু ধর্ষণের মিথ্যা খবর প্রচারে আমি ভেঙে পড়েছি’
বৈষম্যবিরোধীদের নতুন দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’, নেতৃত্বে যারা
নিরাপদ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’: বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৪৩ জন
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত
বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু ৯ মার্চ, সরকারের ব্যয় ৫২৫ কোটি টাকা
চা দোকানির ছেলে হলেন বিচারক
টাঙ্গাইলে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেল চালকের প্রাণ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২৭১ পদে বিশাল নিয়োগ
বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা