মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে কার্টনের ভেতর হাত-পা বিচ্ছিন্ন মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তির নাম সবুজ মোল্যা। তিনি সাভারের যাদুরচর গ্রামের ইউনুস মোল্লার ছেলে। নিহতের মামা মহসিন মিয়া তার মরদেহ শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব আল হোসাইন জানান, নিহতের টুকরা করা মরদেহ কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মামা মহসিন মরদেহটি সবুজের বলে শনাক্ত করেন।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ঢাকার সাভার থানায় দায়েরকৃত একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে গতকাল রাত ১২টার দিকে মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের মামা মো. মহসিন জানান, নিহত সবুজ বনানীর একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে পিবিআইয়ের ফোন পেয়ে এবং মরদেহের ছবি দেখে আমার ভাগিনাকে শনাক্ত করি। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা বলতে পারছি না।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডল খানবাড়ি এলাকার আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে খানবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্টনের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মাথা ও গলা থেকে কোমর পর্যন্ত খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়।
একই দিন সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের মালঞ্চ এলাকায় সড়কের পাশে একটি কার্টনে মরদেহের কিছু অংশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। আলামত যেন নষ্ট না হয় সে কারণে সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ টিম পলিথিন খুলে মানবদেহের অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। পরে মুন্সীগঞ্জে মানবদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যায় সিআইডি ও পিবিআই। পর্যবেক্ষণ শেষে খণ্ডিত অংশগুলো একই ব্যক্তির বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।