যমুনা সেতু মহাসড়কে র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ
ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে ঘরমানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফেরা ও সড়কে ডাকাতিরোধে র্যাবের টহল টিম জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে মহাসড়কের এলেঙ্গা ও মির্জাপুরসহ গুরত্বপূর্ণ এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে যাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মহাড়কে চলাচলের সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছে র্যাব সদস্যরা।
এছাড়াও ডাকাতিরোধসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতে র্যাবের যোগাযোগ করতে জরুরি মোবাইল নম্বরও সরবরাহ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে র্যাব- ১৪ এর ৩ নং কোম্পানী কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন বলেন, ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তাদের একাধিক টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
নারী ক্রিকেটের বিশ্বকাপ ২০২৫-এর জন্য বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার, ৯ এপ্রিল, পাকিস্তানের মাটিতে। এই বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, যারা এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশ—এই ছয় দল নিয়ে ৯ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত হবে বাছাইয়ের লড়াই।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতোমধ্যে স্থান নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ভারতসহ ২০২২-২৫ আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ ছয় দল—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং নিউজিল্যান্ড। তবে, বাছাইপর্ব থেকে আর দুটি দল বিশ্বকাপে জায়গা পাবে।
পাকিস্তানের লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়াম এবং লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এলসিসিএ) গ্রাউন্ডে হবে ১৫টি ম্যাচ। এই বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্বাগতিক পাকিস্তান। গত জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারিয়েছিল। এখন তাদের লক্ষ্য, বাছাইপর্বে টিকে থেকে শীর্ষ দুইতে জায়গা করে নেওয়া।
বাংলাদেশের দল প্রথম ম্যাচে ১০ এপ্রিল থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, পরের ম্যাচ হবে ১৩ এপ্রিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড, ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ নারী দলের কোচ হাশান তিলাকারাতে্নর বিদায়ের পর নতুন কোচ সরওয়ার ইমরানের অধীনে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে তারা। বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, বিশেষত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান দলের বিপক্ষে, কিন্তু সম্ভাবনা একেবারে শেষ নয়।
এখনো অনেক কিছুই নির্ভর করছে বাংলাদেশ নারী দলের পারফরম্যান্সের ওপর। বাছাইপর্বে ভালো ফল লাভ করলে তারা নিশ্চিত করতে পারবে ২০২৫ বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামীকাল সোমবার (৭ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসছেন। শনিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বৈঠকে শুল্ক নীতি, গাজা পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলি আমদানির ওপর ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করেছে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধবিরতি, সেখানে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিয়েও রয়েছে গভীর উদ্বেগ।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি গাজা থেকে জিম্মি মুক্তি, ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্ক, ইরানের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপ মোকাবিলাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। এ প্রেক্ষাপটেও বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া, সম্প্রতি বিশ্বের একাধিক দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পটভূমিতে নেতানিয়াহু হতে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউজ সফরকারী প্রথম বিদেশি নেতা। ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি শিগগিরই নেতানিয়াহুর সফর আশা করছেন।
বৈঠকটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হতে পারে।
বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল এবার রাজনীতির মাঠে নামলেন, তবে নিজের জন্মভূমি জার্মানি নয়, তুরস্কের রাজনীতিতে। তিনি তুরস্কের ক্ষমতাসীন একেপি (AKP) দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করার একটি বড় পদক্ষেপ।
২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে পরিচিত মেসুত ওজিল এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (AKP)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে তুরস্ক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর এই পরিস্থিতিতে ওজিলকে জনতার পাশে দেখা যাচ্ছে—রাস্তা ঘাটে খাবার বিতরণ করছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। তবে, এ দৃশ্যের পর সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ওজিল, যিনি এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত, 'এ-টিম' নামে পরিচিত তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক তাকে তুরস্কের রাজনৈতিক জীবনে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তবে, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে অনেকে মনে করছেন, ওজিলের শিকড়ের প্রতি আনুগত্য এবং তুরস্কের জন্য কাজ করার উদ্যোগ এটি একটি গর্বের বিষয়, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, জনপ্রিয়তার সুবিধা নিয়ে এরদোয়ান সরকার তাকে সামনে এনে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যেমন অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ দারিদ্র্য (৩৩ শতাংশ) এর পাশাপাশি বিরোধী দলকে দমন করার অভিযোগও তুরস্কে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের ঘটনা, যা সমালোচকদের মতে ২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ, তাও তুরস্কের রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং হামাসের সমর্থনে কথা বলেছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেসুত ওজিলের জনপ্রিয়তা হয়তো সরকারের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য কাজে আসতে পারে।
এবার মাঠে বল পাস করার মতো, ওজিলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ—রাজনৈতিক মাঠে তার পাসের সঠিকতা কতটুকু সফল হয়, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।