শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বরিশালে ছবি তোলায় সাংবাদিকদের পেটাল পুলিশ

বরিশালে ছবি তোলায় সাংবাদিকদের পেটাল পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন বরিশালের সাংবাদিকরা। আহতদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও ৪-৫ জন স্থানীয় ফার্মাসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

হামলায় আহত বার্তা টোয়েন্টিফোরের ডটকমের জেলা প্রতিনিধি এসএলটি তুহিন বলেন, আমরা অনেক সাংবাদিক একসঙ্গেই ছিলাম। শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার সময় আমাদেরও পেটানো শুরু করে। আমি পায়ে আঘাত পেয়েছি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

আহত সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

হামলায় আহত বার্তা টোয়েন্টিফোরের ডটকমের জেলা প্রতিনিধি এসএলটি তুহিন বলেন, আমরা অনেক সাংবাদিক একসঙ্গেই ছিলাম। শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার সময় আমাদেরও পেটানো শুরু করে। আমি পায়ে আঘাত পেয়েছি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

আহত দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ বলেন, লাঠিচার্জের সময়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। আমার হাতে ক্যামেরা। তখনো আমাকে লাঠিপেটা করে। আজকের ঘটনায় পুলিশ মোটেও পেশাদার আচরণ করেনি। অপেশাদার ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্য দুজন হলেন এনটিভির ক্যামেরাপার্সন গোবিন্দ সাহা ও যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন হৃদয় চন্দ্র শীল।

স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক পাভেল বলেন, পুলিশ গণহারে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। আমার গায়েও লাঠির আঘাত পড়েছে। তবে গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।

আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা বলেন, লাঠিচার্জকারী টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) তানভীর আরাফাত। সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জকারী পুলিশ সদস্যের কাছেই ছিলেন তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের লাঠিচার্জ করতে নিবৃত্ত করেননি। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেছেন বলেও জানান তারা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনার ভিডিও আমি দেখিছি। আমার মনে হয়েছে বিনা কারণে এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা ও তার ইউনিট। এভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করার এখতিয়ার রাখে না। যে পুলিশ কর্মকর্তার ইউনিট সাংবাদিকদের পিটিয়েছে সেই কর্মকর্তাসহ লাঠিচার্জকারী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার দাবি করছি।

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার বলেন, সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ নিন্দনীয় কাজ করেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা পুলিশকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দ্বারা এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রথমে নগরীর রোডের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে ও পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ফজলুল হক এভিনিউতে শিক্ষার্থীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময়ে সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়। এছাড়া আন্দোলনকারী অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। আমরা কয়েকজনকে সেখান থেকে নিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জের খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জিহাদুল কবির আহত সাংবাদিকদের দেখতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। তিনি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

এর আগে গত ২৫ জুলাই, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বরিশালের সাংবাদিকরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হতাহতের ঘটনায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ওই বিবৃতিতে বিআরইউ’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আন্দোলন কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গত কয়েক দিনে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমের ক্যামেরা, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য। অনতিবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ)।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ যথাযথভাবে প্রকাশ করে আসছিলেন বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বিপাকে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা।

বিশেষ করে বিভিন্ন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অপ্রীতিকর মন্তব্য, লাইভ চলাকালীন সময়ে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে কথাবার্তা বলা, লাইভ শুরুর আগে প্রতিবেদককে নিউজ প্রকাশের বিষয় নিয়ে সতর্ক করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

তবে ১৬ জুলাই থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে তার প্রতিবেদককে খোঁজা এবং খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করা, ধরে নিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বলার মতো ঘটনা ঘটে। সেইসাথে এদিন যমুনা টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

আর ১৭ জুলাই তো পুলিশ সদস্যদের সাথে সাথে দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হয়। যেখানে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।

পাশাপাশি ১৭ জুলাই বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে টানা ১০ ঘণ্টা ধরে যারা ছিলেন, সেই সকল গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা যে কোন কাজে ইট-পাটকেল নিক্ষেপকারীদের পাশ দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন।

রাতে পুলিশ চলে যাওয়ার পর অনেকেই তাদের মোটরসাইকেলে থাকা গণমাধ্যমের স্টিকার খুলে, গলায় থাকা আইডিকার্ড খুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। কারণ তখন যারা নথুল্লাবাদে ছিলেন তাদের মধ্যে কোন ছাত্রের দেখা তো পাওয়াই যায়নি এবং নগরের পরিচিত কাউকে দেখতেও পাননি, বিপদে পড়লে যাদের সহায়তা নেওয়া যায়।

Header Ad
Header Ad

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, আর বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত এবং জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রগুলো ছিল পূর্ণ। ৯ দিনের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায়, কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় ১০ তারিখ পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনকে কাজে লাগিয়ে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ এবং যানবাহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি কলাতলীর সী মুন হোটেলে নন এসি রুমের জন্য প্রতি রাতের ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ করেন। একইভাবে, সুগন্ধা পয়েন্টের লাইট হাউস কটেজে এক রাতের জন্য ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে, যা রুমের মানের তুলনায় অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সাবিনা আক্তারের কাছে।

এছাড়া রাজশাহী থেকে আসা সোলেমান জানান, বাস থেকে নামার পর এক অটোচালক তাকে এক হোটেলে নিয়ে যায়, যেখানে এসি রুমের ভাড়া ৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তবে, তিনি সাড়ে ৬ হাজার টাকায় রুমটি নিতে রাজি হন।

এ বিষয়ে মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসায় এই সুযোগে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং হেল্প ডেস্কে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে চলেছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে শুক্রবার বৈঠক হবে।

তিনি জানান, ব্যাংককে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল)  বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশকিছু সময় ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করছেন।

ব্যাংককে ২ এপ্রিল বিমসটেক সম্মেলন শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ৪ এপ্রিল।

Header Ad
Header Ad

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত

শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইয়াসিন শেখের বাড়িতে। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের যুবক ইয়াসিন শেখ। সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত হয়েছেন। ২৭ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় প্রাণ হারান ইয়াসিন, এবং তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায় ঈদের পরদিন। পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান, কারণ তারা কিছুদিন আগেই তার কাছ থেকে শেষ বার্তা পেয়েছিলেন।

ইয়াসিনের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু দেশের সেনাবাহিনীতে সুযোগ না পাওয়ার পর, তার সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয় রাশিয়াতে। গত বছর রাশিয়ায় কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি সেখানে চলে যান এবং এরপর রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ফেসবুকে নিয়মিত তার যুদ্ধে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন ইয়াসিন। শেষ ভিডিওতে তিনি তার বাবার স্বপ্ন পূরণ, সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং যুদ্ধের প্রতি তার মনোভাব শেয়ার করেছিলেন।

নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষা শেখে ইয়াসিন। পরে বন্ধুর সহায়তায় ইয়াসিন রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে ভালো চাকরি পান। সবই ঠিকঠাকমতো চলছিল। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে সব ওলটপালট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার সময় ইয়াসিনের মা ও বড় ভাইকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে অনাপত্তিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নেয় রাশিয়ায় পাঠানো এজেন্সির লোকজন। গত ২৬ মার্চ তার মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন ইয়াসিন। কয়েকদিনের মধ্যেই দশ লাখ টাকা পাঠাবে বলে মাকে জানিয়েছিলেন তিনি।

ইয়াসিনের লাশের কী অবস্থা, লাশ দেশে আনা যাবে কি না তা নিয়ে কোনো তথ্যই পাচ্ছে না ইয়াসিনের পরিবার। ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের কান্না থামছেই না। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের সদস্যরা। গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান বলেন, ইউক্রেনে থাকা ইয়াসিনের সহযোদ্ধারা মোবাইল ফোনে জানিয়েছে, তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, লাশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরিবারটি যেন ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার সুনন্দা সরকার প্রমা নিহতের বাড়িতে যান। তিনি বলেন, ইয়াসিনের মরদেহ দেশে ফেরত আনাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ ব্যাপারে সকল প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা