লোনা জলে তেলের প্রভাব, হতাশ জেলেরা

জল আর তেল দুটি ভিন্নধর্মী পদার্থ হলেও ভোলার জেলে পল্লীতে চিত্রটা ব্যতিক্রম। যেন জলের সাথেই তেলের ওতপ্রোত সম্পর্ক। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভোলার জেলেরা হতাশ। নদীতে ইলিশের আকাল, দাদনদার ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণের চাপ সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। সব মিলিয়ে যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জীবন। এ যেন লোনা জলে জীবন জলার মতো। এমনটিই দাবি ভোলার জেলে, দাদনদার, আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। তবে সবচেয়ে বেশি জেলের সংখ্যা চরফ্যাশন উপজেলায়। এখানে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩০১ জন। এ ছাড়া জেলায় যারা অনিবন্ধিত জেলে আছেন তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকালে কথা হয় মেঘনা পাড়ের মাথা ঘাটের দাদনদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সভাপতি আলাউদ্দিন ফরাজির সঙ্গে। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি তাদের জীবনমানকে আরও বিপন্ন করবে। তাদের নিয়ে ভাবার কেউ নেই।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মাছ ঘাট সামরাজ। কথা হয় সামরাজ ঘাটের সুমাইয়া ফিসের প্রোপ্রাইটর আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে কিছু মাছ পাওয়া যায়। তবে তেলের দাম বাড়ার কারণে বরফের পাশাপাশি খরচের পরিমাণ বাড়ছে। সব মিলিয়ে লাভের পরিমাণ কমে লোকসানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একে তো নদীতে তেমন মাছ নেই। তার উপর তেলের দাম দিনদিন এভাবে বাড়লে আমরা কীভাবে ব্যবসা করব? দিনদিন লোকসান গুনতে গুনতে কিছুদিন পর আমাদের ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় জেলেরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। দিনদিন জেলেদের উপর ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় অনেক জেলে মাছ শিকার থেকে মুখ ফিরিয়ে বিকল্প পেশা খুঁজছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে। একদিকে নদীতে মাছ কম, অন্যদিকে একলাফে তেলের দাম ১১৪ টাকা হয়েছে। এটা জেলেদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা ইমদাদুল্লাহ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, সমুদ্রে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় ডুবোচর জেগে উঠা ও নাব্যতা সংকট রয়েছে। যা ইলিশ আসতে বাধার সৃষ্টি করছে। তবে সামনে পানি বাড়লে নদীতে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের উপর প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তিনি।
এসজি/
