ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ অন্যান্য স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রবিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত এবং ঢাকা মহানগরের ১১১টি ঈদগাহ ও ১,৫৭৭টি মসজিদে মোট ১,৭৩৯টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রবেশ গেটগুলোতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি সড়ক—মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবনের প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং তাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ডগ স্কোয়াড সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি, সাদা পোশাকে ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের কোনো ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জামাত শেষে সুশৃঙ্খলভাবে ঈদগাহ ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাতে বা ৯৯৯ অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমরা দুই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করি—একটি প্রকাশ্য (ওভার), অন্যটি গোপন (কভার)। সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রকাশ করা হয় না, কিছু বিষয় কৌশলগত কারণে গোপন রাখা হয়। তবে এবারের ঈদে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।”
তিনি আরও জানান, ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া এটিইউ, সিটিটিসি, ডিবি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও গুজব ছড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। শুধু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে, যাতে তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।”
ডিএমপি কমিশনারের এই ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, আসন্ন ঈদ জামাত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।