শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রশাসনে আতঙ্ক, গোয়েন্দা নজরদারিতে আওয়ামী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমলারা

ছবি: সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর চলছে কড়া গোয়েন্দা নজরদারি। বিশেষ করে, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকা কর্মকর্তারাও এই পর্যবেক্ষণের বাইরে নন। তাদের অনেকেই বাধ্যতামূলক অবসরের শঙ্কায় রয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মূলত নজরদারিতে রয়েছেন। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৬৫ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে বা ওএসডি করেছে।

সরকারি তথ্যানুসারে, চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া ২২ জন সাবেক ডিসিকে (বর্তমানে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, ৩৩ জন সাবেক ডিসিকে ওএসডি করা হয়েছে। এর আগে আরও ১২ জন সাবেক ডিসিকে ওএসডি করা হয়েছিল। কয়েকজন সচিবকেও একই ধরনের সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক ডিসি, এসপি এবং সচিবদের ওএসডি করা ও বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভিন্ন মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করা কর্মকর্তারা বেশি উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

অন্যদিকে, গত ১৭ বছর ধরে পদোন্নতি না পাওয়া বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন। তবে, প্রশাসনের গতিশীলতা ফেরাতে পদোন্নতি ও বদলির বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারাও নজরদারির বাইরে থাকছেন না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উপদেষ্টা কমিটি আরও অনেক কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করেছে, যারা বিগত ১৭ বছরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কাজ করেছেন। এমনকি, আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অনেককেই ইতোমধ্যে ওএসডি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার প্রশাসনের কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ডিসি, সচিব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনের শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়মিত কর্মকর্তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিএনপি আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিতদের জন্যও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ব্যাকডেটেড পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯ জন সচিব, ৫২৮ জন অতিরিক্ত সচিব, ৪১ জন গ্রেড-১ কর্মকর্তা, ৭২ জন যুগ্ম সচিব ও ৪ জন উপসচিব পদোন্নতি পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদেও বড় পরিবর্তন আসছে। বিসিএস ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হবে। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুনদের দিয়ে প্রশাসন ঢেলে সাজানো হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, "২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা ডিসি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। আমরা গোয়েন্দা সংস্থাকে পুরো তালিকা দিয়েছি এবং তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের কম, তারা ওএসডি হবেন, আর যাদের ২৫ বছরের বেশি, তারা বাধ্যতামূলক অবসরে যাবেন।"

তিনি আরও বলেন, "২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ডিসিদের মধ্য থেকে যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। অবসরে যাওয়ার পরও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ছাড় নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দেওয়া হবে।"

সরকার আশ্বস্ত করেছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্যায় বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হবে না। তবে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, প্রশাসনে এমন অস্থিরতার মধ্যে বদলির পরবর্তী ধাপে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ইউএনবি

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো